ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির বর্ষপূতি: শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগোতে হবে: ডা. জুবাইদা লুটপাটের জন্য ছাত্রজনতা রক্ত দেয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার ছাত্র-জনতার অধিকার রক্ষায় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার বিকল্প নেই:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

চাঁদপুরে যুবক হত্যায় গ্রেপ্তার ৩

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় গলা কেটে আসাদুজ্জামান আসাদ ওরফে শাওন (১৯) কে খুন করার দুই দিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কুমিল্লা থেকে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরির্দশক শাহীদ হোসেন জানান, কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি বড় বাড়ি শাজাহানের ঘর থেকে আসাদুজ্জামান আসাদ ওরফে শাওন হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারা হলো, দাউদকান্দি উপজেলার সাদ্দাম হোসেন, তিতাস উপজেলার শেলাকান্দি গ্রামের মুসা ও একই উপজেলার বড়বাড়ির আলাউদ্দিন।

এ ঘটনায় নিহত আসাদের বাবা রফিকুল আলম ২৪ ডিসেম্বর অজ্ঞাতনামাদের বিবাদী করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

রহস্য উদঘাটনের রহস্য জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসাদের সাথে আড্ডা দেয়া তিন যুবকের মধ্যে এক যুবক স্থানীয় খিলপাড়া জাহাঙ্গীরের শ্যালক। ওই জাহাঙ্গীরের সাথে কথা বলে তার শ্যালক সাদ্দাম সম্পর্কে নিশ্চিত হই।

থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান বলেন, সাদ্দামের স্ত্রী রহিমা খাতুনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে কৌশলে সহযোগিতা নিয়েছি। ওই স্ত্রীর তথ্য মতে তিনজনকে একই ঘর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাদ্দামের ভাষ্যমতে, ঢাকায় এক সাথে একটি কুরিয়ার সার্ভিসে তারা চাকরি করত। সেখান থেকে পরিচয়। সাদ্দামের স্ত্রী ও বোনের জামাই জাহাঙ্গীরের বাড়িতে বেড়াতে এসে আসাদের সাথেও দেখা হয়ে যায়। রাতে সিদ্ধান্ত নেয় চুরি করার। স্থানীয় সাহেব বাজার দুইটি দোকানে চুরি করে পরে রাজাপুরা বাজারের আরো একটি দোকানে চুরি করে তারা। তবে মোটা অংকের টাকা না পাওয়ায় আসাদের উপর ক্ষিপ্ত হয় তিন বন্ধু। আবার এক প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়েও পারেনি। এনিয়ে সাদ্দাম আসাদের বাক-বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সাদ্দাম বুকে চাপ দিয়ে বসে আসাদের শরীরে। আলাউদ্দিন দুই পা ধরে রাখে আর মুসা গলাকেটে হত্যা করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহীদ আরো বলেন, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল দিনে প্রকাশ্যে দাউদকান্দি বাজারে চুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে একজনকে হত্যা করে সাদ্দাম। ওই ঘটনায় দাউদকান্দি থানায় মামলা করা হয়। এ মামলায় সাদ্দাম ছাড়াও মুসা, আলাউদ্দিন আসামি রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২৪ ডিসেম্বর সকালে আসাদুজ্জামান শাওনকে হাজীগঞ্জ উপজেলার ৩নং কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের খিলপাড়া মিজি বাড়ির পশ্চিম পাশের মাঠ থেকে গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে খিলাপাড়া গ্রামের বকাউল বাড়ির মো. রফিকুল আলমের ছেলে।

নিহত আসাদ ঢাকা সদরঘাট শাখার বিসিএস কনফিডেন্স কোচিং সেন্টারের পিয়ন হিসেবে চাকরি করত।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী

চাঁদপুরে যুবক হত্যায় গ্রেপ্তার ৩

আপডেট সময় ১০:২৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় গলা কেটে আসাদুজ্জামান আসাদ ওরফে শাওন (১৯) কে খুন করার দুই দিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কুমিল্লা থেকে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরির্দশক শাহীদ হোসেন জানান, কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি বড় বাড়ি শাজাহানের ঘর থেকে আসাদুজ্জামান আসাদ ওরফে শাওন হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারা হলো, দাউদকান্দি উপজেলার সাদ্দাম হোসেন, তিতাস উপজেলার শেলাকান্দি গ্রামের মুসা ও একই উপজেলার বড়বাড়ির আলাউদ্দিন।

এ ঘটনায় নিহত আসাদের বাবা রফিকুল আলম ২৪ ডিসেম্বর অজ্ঞাতনামাদের বিবাদী করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

রহস্য উদঘাটনের রহস্য জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসাদের সাথে আড্ডা দেয়া তিন যুবকের মধ্যে এক যুবক স্থানীয় খিলপাড়া জাহাঙ্গীরের শ্যালক। ওই জাহাঙ্গীরের সাথে কথা বলে তার শ্যালক সাদ্দাম সম্পর্কে নিশ্চিত হই।

থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান বলেন, সাদ্দামের স্ত্রী রহিমা খাতুনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে কৌশলে সহযোগিতা নিয়েছি। ওই স্ত্রীর তথ্য মতে তিনজনকে একই ঘর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাদ্দামের ভাষ্যমতে, ঢাকায় এক সাথে একটি কুরিয়ার সার্ভিসে তারা চাকরি করত। সেখান থেকে পরিচয়। সাদ্দামের স্ত্রী ও বোনের জামাই জাহাঙ্গীরের বাড়িতে বেড়াতে এসে আসাদের সাথেও দেখা হয়ে যায়। রাতে সিদ্ধান্ত নেয় চুরি করার। স্থানীয় সাহেব বাজার দুইটি দোকানে চুরি করে পরে রাজাপুরা বাজারের আরো একটি দোকানে চুরি করে তারা। তবে মোটা অংকের টাকা না পাওয়ায় আসাদের উপর ক্ষিপ্ত হয় তিন বন্ধু। আবার এক প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়েও পারেনি। এনিয়ে সাদ্দাম আসাদের বাক-বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সাদ্দাম বুকে চাপ দিয়ে বসে আসাদের শরীরে। আলাউদ্দিন দুই পা ধরে রাখে আর মুসা গলাকেটে হত্যা করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহীদ আরো বলেন, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল দিনে প্রকাশ্যে দাউদকান্দি বাজারে চুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে একজনকে হত্যা করে সাদ্দাম। ওই ঘটনায় দাউদকান্দি থানায় মামলা করা হয়। এ মামলায় সাদ্দাম ছাড়াও মুসা, আলাউদ্দিন আসামি রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২৪ ডিসেম্বর সকালে আসাদুজ্জামান শাওনকে হাজীগঞ্জ উপজেলার ৩নং কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের খিলপাড়া মিজি বাড়ির পশ্চিম পাশের মাঠ থেকে গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে খিলাপাড়া গ্রামের বকাউল বাড়ির মো. রফিকুল আলমের ছেলে।

নিহত আসাদ ঢাকা সদরঘাট শাখার বিসিএস কনফিডেন্স কোচিং সেন্টারের পিয়ন হিসেবে চাকরি করত।