অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ২৬০টি পাকা সড়কের মধ্যে ২১০টির অবস্থা বেহাল। প্রতি কিলোমিটার সড়কে সহস্রাধিক গর্ত। শুধু তাই নয় কার্পেটিং উঠে কোথাও দেবে গিয়ে রাস্তার কিছু অংশ পাশ্ববর্তী পুকুর ও খালে ভেঙ্গে পড়েছে। তাপরও ৫ লক্ষাধিক মানুষের প্রতিনিয়ত চলাচলের অনুপযোগী এ সড়কগুলো দিয়েই মৃত্যুর ঝুকি নিয়ে দৈনন্দিন কাজ চালাতে হয়।
সারা বাংলাদেশে অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হলেও রামগঞ্জের সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য গণহারে এমপি লায়ন এম এ আওয়াল ও জনপ্রতিনিধিদের দায়ী করেন সাধারন মানুষ। নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে যাওয়াসহ জনদরদী না হওয়ায় দীর্ঘ বছরের পর বছর ধরে আপামর জনসাধারনকে এ নিদারুন কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রামগঞ্জ-হাজিগঞ্জ সড়কটি হাজারো খানা-খন্দে ভরা। একই অবস্থা পৌরসভার সামনের সড়কের। ওয়াবদা বেড়ীবাদ সড়কের ডাগাতলী বাজার থেকে কাটাখালীর টেক পর্যন্ত রামগঞ্জ অংশের অবস্থা বেহাল। সোনাপুর হরিসভা থেকে নয়নপুরের সড়কটি দিয়ে যানবাহন তো দুরের কথা পায়ে হাঁটাও কষ্টকর। বালুয়া চৌমুহনী থেকে হাজীবাড়ী পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি এখন আর সড়কের অবস্থানে নেই বল্লেই চলে। বাকলা উঠে গর্ত সৃষ্টি হয়ে এ যেন এক অদ্ভুত পরিস্থিতি।
শেখপুরা বাজার থেকে বিঘা মাদ্রাসা সড়কটির যেন কোনও অভিভাবকই নেই, সোনাপুর চিতৈশী সড়ক শুধু নামেই টিকে আছে। তেমনি জামতলী, পদ্মাবাজার, জগতপুর, কাশিমনগর, সমিতিরবাজার, লামচর, গাজীপুর, চতলা, চন্ডীপুর, ইছাপুর, হানুবাইশ, বাবুলমার্কেট, কেথুড়ীবাজার, বালুয়া চৌমুহনী, দরবেশপুর উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক, পানপাড়া, আজিমপুর সড়কসহ পৌরসভা এবং উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের সবগুলো সড়কই রয়েছে বেহাল অবস্থায়।
সকাল হলেই কর্মজীবীরা জনপ্রতিনিধিদের ধিক্কার জানিয়ে ওইসকল সড়ক দিয়েই কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সৃষ্ট পরিস্থিতিতে যাতায়াতে অনেক সমস্যা পোহাতে হয়। সবচেয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন গ্রাম অঞ্চল থেকে হাসপাতাল আসতে গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগী, ও মর্মান্ত্রিক দুর্ঘটনায় কবলিত যাত্রীরা। মারাত্মক অসুস্থ রোগীদের জন্য অতিরিক্ত ভাড়ার অফার দিলেও রাস্তা খারাপ হওয়ায় কোন এ্যম্বুলেন্স আসতে চায় না। এর মধ্যে আবার উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দানবজান লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ট্রলি চলাচল করায় রাস্তার অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে।
নয়নপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী ব্যক্তি জানান, নয়নপুর থেকে সোনাপুর পর্যন্ত মাত্র ৫ কিলোমিটার রাস্তায় সিএনজি ভাড়া ৮০-১০০ টাকা। রাতে কোন চালক এ এলাকায় আসতে চান না। উক্ত সড়ক দিয়ে ৩টি কলেজ, ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৫টি মাদ্রাসাসহ ২০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীকে প্রতিদিন অনেক কষ্টে যাতায়াত করতে হয়। তারা আরও জানান কার কাছে বিচার দিবো? এমপি সাহেবের নিজের এলাকারই এ সড়ক, চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় তিনি অন্য সড়ক ঘুরে বাড়ী যাতায়াত করেন।
সোনাপুরের আলমগীর, লামচরের জাকির হোসেন সুমন, আলীপুরের ফারুকসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, বর্তমান সংসদের প্রায় চার বছর এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের সাড়ে তিন বছর, মেয়রের দুই বছর অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি যোগাযোগখাতে কিছুই করতে পারেননি। অথচ ভুরি ভুরি প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী সনৎ কুমার জানান, সড়কগুলি সংস্কার করতে উর্ধতন কতৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।
যোগাযোগ করলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ বিষয়ে বলেন, এমপি আওয়ালের সঙ্গে তার বনিবনা নেই। ইউনিয়নের সিংহভাগ চেয়ারম্যানরাও এমপির সঙ্গে বনিবনা না থাকার কথাই জানিয়েছেন।
স্থানীয় সংসদ ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব লায়ন এম এ আওয়াল জানান, সড়কগুলির ব্যপারে অনেক অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। রামগঞ্জের রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নের স্বার্থে তিনি সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছু রাস্তার কাজ হয়েছে এবং অনেকগুলো রাস্তা সংস্কারের কাজ প্রক্রিয়ধীন আছে। সামনে যে সময় রয়েছে এর মধ্যে সব কাজ হয়ে যাবে।
মো: ছায়েদ হোসেন, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























