ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাতারে এলএনজি প্রকল্পে বিস্ফোরণ, নিহত ১৩ রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ভূকম্পন অনুভূত অধিকার আদায়সহ নানা সংগ্রামে সংগীতের অভুতপূর্ব শক্তি রয়েছে : রিজভী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তুরস্কের সহায়তা চায় ঢাকা সংসদকে কার্যকর করতে স্পিকারের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ঢাকা ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের প্রস্তাব ইরানের চলতি জুনেই বিশ্বব্যাংক থেকে ১.৫ বিলিয়ন ডলার পাবে বাংলাদেশ অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণই নতুন বাজেটের মূল দর্শন: অর্থমন্ত্রী স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়:সংসদে জিএম সিরাজ ভারতে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৪

সেই দুই শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় দুর্ঘটনার কবল থেকে ট্রেনকে রক্ষা করা দুই শিশুর সারা জীবনের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। সোমবার নিজের ফেসবুক আইডিতে শাহরিয়ার আলম নিজেই এই ঘোষণা দিয়েছেন।

ফেসবুক আইডিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওই দুই শিশুকে ‘হিরোজ অব আড়ানি (আড়ানির নায়ক) সম্বধোন করে লেখেন- ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় আড়ানি রেললাইনের পাশেই আবাস তাদের। তাদের সারাজীবনের শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছি।’

এই দুই শিশু হলো- ঝিনা গ্রামের সুমন আলীর ছেলে সিহাব হোসেন (৬) ও শহিদুল ইসলামের ছেলে টিটোন ইসলাম (৭)। এদের মধ্যে সিহাব ঝিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। আর টিটোন একই স্কুলে পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। একেবারেই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান তারা।

সকালে এই দুই শিশু তেলবাহী একটি ট্রেনকে দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা করে। ভাঙা রেললাইন দেখে লাল মাফলার টেনে ধরে ট্রেনটি থামিয়ে দেয় তারা। সোমবার সকাল ৯টার দিকে ট্রেনটি তেল নিয়ে খুলনা থেকে রাজশাহী যাচ্ছিল। আড়ানি স্টেশন থেকে কিছুটা দূরে ঝিনা রেলগেট এলাকায় ট্রেনটি থামিয়ে দেয় টিটোন ও সিহাব।

সকালে এই দুই শিশু জানায়, তারা জমি থেকে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় তারা দেখে রেল লাইন ভাঙা। সামনে ট্রেন আসতে দেখে তারা দুজনে রেললাইনের ওপর মাফলার টেনে ধরে। এতে ট্রেনটি থেমে যায়।

আড়ানি স্টেশনের মাস্টার নয়ন আহম্মেদ জানান, ওই দুই শিশুর কারণে ট্রেননি দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। রেললাইন মেরামতের পর দুই ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ট্রেনটির চালক কেএম মহিউদ্দিন জানান, দুই শিশু মাফলার দিয়ে ট্রেন থামানোর সিগন্যাল দিচ্ছে দেখে তিনি প্রথমে গুরুত্ব দেননি। ভেবেছিলেন- ট্রেন থামাবেন না। কিন্তু অনেক কাছে চলে যাওয়ার পরও ওই দুই শিশু রেললাইন থেকে সরছে না দেখে তিনি ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এতেই দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারে এলএনজি প্রকল্পে বিস্ফোরণ, নিহত ১৩

সেই দুই শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম

আপডেট সময় ০১:২৪:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় দুর্ঘটনার কবল থেকে ট্রেনকে রক্ষা করা দুই শিশুর সারা জীবনের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। সোমবার নিজের ফেসবুক আইডিতে শাহরিয়ার আলম নিজেই এই ঘোষণা দিয়েছেন।

ফেসবুক আইডিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওই দুই শিশুকে ‘হিরোজ অব আড়ানি (আড়ানির নায়ক) সম্বধোন করে লেখেন- ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় আড়ানি রেললাইনের পাশেই আবাস তাদের। তাদের সারাজীবনের শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছি।’

এই দুই শিশু হলো- ঝিনা গ্রামের সুমন আলীর ছেলে সিহাব হোসেন (৬) ও শহিদুল ইসলামের ছেলে টিটোন ইসলাম (৭)। এদের মধ্যে সিহাব ঝিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। আর টিটোন একই স্কুলে পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। একেবারেই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান তারা।

সকালে এই দুই শিশু তেলবাহী একটি ট্রেনকে দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা করে। ভাঙা রেললাইন দেখে লাল মাফলার টেনে ধরে ট্রেনটি থামিয়ে দেয় তারা। সোমবার সকাল ৯টার দিকে ট্রেনটি তেল নিয়ে খুলনা থেকে রাজশাহী যাচ্ছিল। আড়ানি স্টেশন থেকে কিছুটা দূরে ঝিনা রেলগেট এলাকায় ট্রেনটি থামিয়ে দেয় টিটোন ও সিহাব।

সকালে এই দুই শিশু জানায়, তারা জমি থেকে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় তারা দেখে রেল লাইন ভাঙা। সামনে ট্রেন আসতে দেখে তারা দুজনে রেললাইনের ওপর মাফলার টেনে ধরে। এতে ট্রেনটি থেমে যায়।

আড়ানি স্টেশনের মাস্টার নয়ন আহম্মেদ জানান, ওই দুই শিশুর কারণে ট্রেননি দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। রেললাইন মেরামতের পর দুই ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ট্রেনটির চালক কেএম মহিউদ্দিন জানান, দুই শিশু মাফলার দিয়ে ট্রেন থামানোর সিগন্যাল দিচ্ছে দেখে তিনি প্রথমে গুরুত্ব দেননি। ভেবেছিলেন- ট্রেন থামাবেন না। কিন্তু অনেক কাছে চলে যাওয়ার পরও ওই দুই শিশু রেললাইন থেকে সরছে না দেখে তিনি ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এতেই দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি।