ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সেই দুই শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় দুর্ঘটনার কবল থেকে ট্রেনকে রক্ষা করা দুই শিশুর সারা জীবনের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। সোমবার নিজের ফেসবুক আইডিতে শাহরিয়ার আলম নিজেই এই ঘোষণা দিয়েছেন।

ফেসবুক আইডিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওই দুই শিশুকে ‘হিরোজ অব আড়ানি (আড়ানির নায়ক) সম্বধোন করে লেখেন- ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় আড়ানি রেললাইনের পাশেই আবাস তাদের। তাদের সারাজীবনের শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছি।’

এই দুই শিশু হলো- ঝিনা গ্রামের সুমন আলীর ছেলে সিহাব হোসেন (৬) ও শহিদুল ইসলামের ছেলে টিটোন ইসলাম (৭)। এদের মধ্যে সিহাব ঝিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। আর টিটোন একই স্কুলে পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। একেবারেই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান তারা।

সকালে এই দুই শিশু তেলবাহী একটি ট্রেনকে দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা করে। ভাঙা রেললাইন দেখে লাল মাফলার টেনে ধরে ট্রেনটি থামিয়ে দেয় তারা। সোমবার সকাল ৯টার দিকে ট্রেনটি তেল নিয়ে খুলনা থেকে রাজশাহী যাচ্ছিল। আড়ানি স্টেশন থেকে কিছুটা দূরে ঝিনা রেলগেট এলাকায় ট্রেনটি থামিয়ে দেয় টিটোন ও সিহাব।

সকালে এই দুই শিশু জানায়, তারা জমি থেকে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় তারা দেখে রেল লাইন ভাঙা। সামনে ট্রেন আসতে দেখে তারা দুজনে রেললাইনের ওপর মাফলার টেনে ধরে। এতে ট্রেনটি থেমে যায়।

আড়ানি স্টেশনের মাস্টার নয়ন আহম্মেদ জানান, ওই দুই শিশুর কারণে ট্রেননি দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। রেললাইন মেরামতের পর দুই ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ট্রেনটির চালক কেএম মহিউদ্দিন জানান, দুই শিশু মাফলার দিয়ে ট্রেন থামানোর সিগন্যাল দিচ্ছে দেখে তিনি প্রথমে গুরুত্ব দেননি। ভেবেছিলেন- ট্রেন থামাবেন না। কিন্তু অনেক কাছে চলে যাওয়ার পরও ওই দুই শিশু রেললাইন থেকে সরছে না দেখে তিনি ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এতেই দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

সেই দুই শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম

আপডেট সময় ০১:২৪:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় দুর্ঘটনার কবল থেকে ট্রেনকে রক্ষা করা দুই শিশুর সারা জীবনের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। সোমবার নিজের ফেসবুক আইডিতে শাহরিয়ার আলম নিজেই এই ঘোষণা দিয়েছেন।

ফেসবুক আইডিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওই দুই শিশুকে ‘হিরোজ অব আড়ানি (আড়ানির নায়ক) সম্বধোন করে লেখেন- ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় আড়ানি রেললাইনের পাশেই আবাস তাদের। তাদের সারাজীবনের শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছি।’

এই দুই শিশু হলো- ঝিনা গ্রামের সুমন আলীর ছেলে সিহাব হোসেন (৬) ও শহিদুল ইসলামের ছেলে টিটোন ইসলাম (৭)। এদের মধ্যে সিহাব ঝিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। আর টিটোন একই স্কুলে পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। একেবারেই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান তারা।

সকালে এই দুই শিশু তেলবাহী একটি ট্রেনকে দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা করে। ভাঙা রেললাইন দেখে লাল মাফলার টেনে ধরে ট্রেনটি থামিয়ে দেয় তারা। সোমবার সকাল ৯টার দিকে ট্রেনটি তেল নিয়ে খুলনা থেকে রাজশাহী যাচ্ছিল। আড়ানি স্টেশন থেকে কিছুটা দূরে ঝিনা রেলগেট এলাকায় ট্রেনটি থামিয়ে দেয় টিটোন ও সিহাব।

সকালে এই দুই শিশু জানায়, তারা জমি থেকে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় তারা দেখে রেল লাইন ভাঙা। সামনে ট্রেন আসতে দেখে তারা দুজনে রেললাইনের ওপর মাফলার টেনে ধরে। এতে ট্রেনটি থেমে যায়।

আড়ানি স্টেশনের মাস্টার নয়ন আহম্মেদ জানান, ওই দুই শিশুর কারণে ট্রেননি দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। রেললাইন মেরামতের পর দুই ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ট্রেনটির চালক কেএম মহিউদ্দিন জানান, দুই শিশু মাফলার দিয়ে ট্রেন থামানোর সিগন্যাল দিচ্ছে দেখে তিনি প্রথমে গুরুত্ব দেননি। ভেবেছিলেন- ট্রেন থামাবেন না। কিন্তু অনেক কাছে চলে যাওয়ার পরও ওই দুই শিশু রেললাইন থেকে সরছে না দেখে তিনি ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এতেই দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি।