ঢাকা ০১:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

১৬ দিনে ৪ দফা ‘পুশ-ইন’ চেষ্টা: ৬৪ জনকে ফেরত পাঠাল বিজিবি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে গত ১৬ দিনের ব্যবধানে চার দফায় ৬৪ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সব কটি চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

একাধিকবার পুশ-ইনের চেষ্টার ঘটনায় সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি। তাদের টহল কার্যক্রমে সহায়তা করছেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ২৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে রাতের আঁধারে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। পরে রাতেই বিএসএফ তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

এরপর ১৩ জুন গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে ১৫ জন এবং ১৫ জুন এক মধ্যবয়স্ক নারীকে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়। সেখানেও বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তাদের ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।

সর্বশেষ ২০ জুন সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় বিজিবি ও স্থানীয়রা প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর বিএসএফ তাদের আবার ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় নদী, বাগান ও ঘন জঙ্গলের কারণে কাঁটাতারের বেড়া নেই। এসব এলাকাকে ব্যবহার করেই পুশ-ইনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এদিকে পুশ-ইনের সুযোগে সীমান্ত এলাকায় দালাল চক্র সক্রিয় হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু দালাল মাথাপিছু ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারত থেকে লোকজন বাংলাদেশে আনার কাজে জড়িত।

গত ১৩ জুন রোকনপুর সীমান্তে এমন একটি চক্রের তথ্যের ভিত্তিতে সাতজন দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ওই সীমান্ত এলাকায় আর কোনো পুশ-ইনের ঘটনা ঘটেনি। তবে বকচর, হাকিমপুর, চরবাগডাঙ্গা, বাখেরআলী, জহুরপুর ও জহুরপুর টেক সীমান্ত এলাকায় এখনও দালাল চক্রের তৎপরতার গুঞ্জন রয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, দালালের মাধ্যমে লোকজন আসছে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বিজিবির কাছে নেই। সীমান্ত এলাকায় পায়ে হেঁটে, মোটরসাইকেলে ও স্পিডবোটে টহল দেওয়ার পাশাপাশি ড্রোন ও নাইটভিশন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। কোনো দালালের পরিচয় বা সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। পুশ-ইন, চোরাচালানসহ যেকোনো অবৈধ তৎপরতা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও সজাগ রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাজ্যে মানব পাচারকারী চক্রের ২১ সদস্যের কারাদণ্ড

১৬ দিনে ৪ দফা ‘পুশ-ইন’ চেষ্টা: ৬৪ জনকে ফেরত পাঠাল বিজিবি

আপডেট সময় ০৫:৫৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে গত ১৬ দিনের ব্যবধানে চার দফায় ৬৪ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সব কটি চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

একাধিকবার পুশ-ইনের চেষ্টার ঘটনায় সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি। তাদের টহল কার্যক্রমে সহায়তা করছেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ২৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে রাতের আঁধারে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। পরে রাতেই বিএসএফ তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

এরপর ১৩ জুন গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে ১৫ জন এবং ১৫ জুন এক মধ্যবয়স্ক নারীকে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়। সেখানেও বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তাদের ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।

সর্বশেষ ২০ জুন সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় বিজিবি ও স্থানীয়রা প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর বিএসএফ তাদের আবার ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় নদী, বাগান ও ঘন জঙ্গলের কারণে কাঁটাতারের বেড়া নেই। এসব এলাকাকে ব্যবহার করেই পুশ-ইনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এদিকে পুশ-ইনের সুযোগে সীমান্ত এলাকায় দালাল চক্র সক্রিয় হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু দালাল মাথাপিছু ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারত থেকে লোকজন বাংলাদেশে আনার কাজে জড়িত।

গত ১৩ জুন রোকনপুর সীমান্তে এমন একটি চক্রের তথ্যের ভিত্তিতে সাতজন দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ওই সীমান্ত এলাকায় আর কোনো পুশ-ইনের ঘটনা ঘটেনি। তবে বকচর, হাকিমপুর, চরবাগডাঙ্গা, বাখেরআলী, জহুরপুর ও জহুরপুর টেক সীমান্ত এলাকায় এখনও দালাল চক্রের তৎপরতার গুঞ্জন রয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, দালালের মাধ্যমে লোকজন আসছে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বিজিবির কাছে নেই। সীমান্ত এলাকায় পায়ে হেঁটে, মোটরসাইকেলে ও স্পিডবোটে টহল দেওয়ার পাশাপাশি ড্রোন ও নাইটভিশন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। কোনো দালালের পরিচয় বা সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। পুশ-ইন, চোরাচালানসহ যেকোনো অবৈধ তৎপরতা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও সজাগ রয়েছে।