ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

কাতারে এলএনজি প্রকল্পে বিস্ফোরণ, নিহত ১৩

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

কাতারের বিশাল রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কমপ্লেক্সে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। গত মার্চ মাসে ইরানি হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া কার্যক্রম পুনরায় চালু করার সময় শ্রমিকরা যখন কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই এই দুর্ঘটনা ঘটে।

কাতার কর্তৃপক্ষ এটিকে একটি ‘কারিগরি দুর্ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছে রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় বারজান স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে এই বিস্ফোরণটি ঘটে।

সোমবার (২২ জুন) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবী হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের সবাই ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো নাশকতা বা বৈরী আক্রমণ নয়, বরং একটি দুর্ঘটনা। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গত ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে প্ল্যান্টের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল এবং মাত্র দুদিন আগে এটি পুনরায় চালু করা হয়।

তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং প্ল্যান্টের রপ্তানি সক্ষমতাও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তবে বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, ৭০ কিলোমিটার দূরের দোহার কেন্দ্রস্থলেও এটি অনুভূত হয় এবং বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

এই দুর্ঘটনাটি ইরান যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া শোধনাগারগুলো থেকে পারস্য উপসাগরের উৎপাদকদের জন্য পুনরায় তেল ও গ্যাস উৎপাদন শুরু করার চ্যালেঞ্জগুলোকে ফুটিয়ে তুলেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার কারণে কাতার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কারণ দেশটির এলএনজি রপ্তানির জন্য বিকল্প কোনো রুট নেই। এলএনজি অপারেশন পুনরায় চালু করা একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে তাপীয় ধাক্কা বা ‘থার্মাল শক’ এড়াতে অত্যন্ত ধীরগতিতে শীতলীকরণ করতে হয়। গ্যাসকে মাইনাস ১৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঠাণ্ডা করে তরলে রূপান্তর করার এই প্রক্রিয়ায় শীতলীকরণই সবচেয়ে সংবেদনশীল ধাপ।

যে প্ল্যান্টটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেই বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রটি রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির অংশ। এটি কাতারএনার্জির একটি বিশাল এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র, যার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৭৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন। বারজান মূলত স্থানীয় শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করে এবং রপ্তানির জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসও উৎপাদন করতে পারে।

এর আগে গত মার্চ মাসে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাস লাফানের দুটি গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার ফলে কাতারের এলএনজি রপ্তানি ক্ষমতা প্রায় ১৭ শতাংশ হ্রাস পায়। কাতারএনার্জির সিইও রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই ক্ষতি মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। সেই যুদ্ধের সময় কোম্পানিটি তাদের অফশোর রিগ এবং অনশোর প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ১০,০০০ কর্মীকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল, তবে মার্চের সেই হামলায় কেউ হতাহত হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাজ্যে মানব পাচারকারী চক্রের ২১ সদস্যের কারাদণ্ড

কাতারে এলএনজি প্রকল্পে বিস্ফোরণ, নিহত ১৩

আপডেট সময় ০৯:৫৫:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

কাতারের বিশাল রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কমপ্লেক্সে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। গত মার্চ মাসে ইরানি হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া কার্যক্রম পুনরায় চালু করার সময় শ্রমিকরা যখন কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই এই দুর্ঘটনা ঘটে।

কাতার কর্তৃপক্ষ এটিকে একটি ‘কারিগরি দুর্ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছে রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় বারজান স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে এই বিস্ফোরণটি ঘটে।

সোমবার (২২ জুন) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবী হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের সবাই ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো নাশকতা বা বৈরী আক্রমণ নয়, বরং একটি দুর্ঘটনা। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গত ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে প্ল্যান্টের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল এবং মাত্র দুদিন আগে এটি পুনরায় চালু করা হয়।

তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং প্ল্যান্টের রপ্তানি সক্ষমতাও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তবে বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, ৭০ কিলোমিটার দূরের দোহার কেন্দ্রস্থলেও এটি অনুভূত হয় এবং বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

এই দুর্ঘটনাটি ইরান যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া শোধনাগারগুলো থেকে পারস্য উপসাগরের উৎপাদকদের জন্য পুনরায় তেল ও গ্যাস উৎপাদন শুরু করার চ্যালেঞ্জগুলোকে ফুটিয়ে তুলেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার কারণে কাতার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কারণ দেশটির এলএনজি রপ্তানির জন্য বিকল্প কোনো রুট নেই। এলএনজি অপারেশন পুনরায় চালু করা একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে তাপীয় ধাক্কা বা ‘থার্মাল শক’ এড়াতে অত্যন্ত ধীরগতিতে শীতলীকরণ করতে হয়। গ্যাসকে মাইনাস ১৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঠাণ্ডা করে তরলে রূপান্তর করার এই প্রক্রিয়ায় শীতলীকরণই সবচেয়ে সংবেদনশীল ধাপ।

যে প্ল্যান্টটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেই বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রটি রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির অংশ। এটি কাতারএনার্জির একটি বিশাল এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র, যার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৭৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন। বারজান মূলত স্থানীয় শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করে এবং রপ্তানির জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসও উৎপাদন করতে পারে।

এর আগে গত মার্চ মাসে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাস লাফানের দুটি গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার ফলে কাতারের এলএনজি রপ্তানি ক্ষমতা প্রায় ১৭ শতাংশ হ্রাস পায়। কাতারএনার্জির সিইও রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই ক্ষতি মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। সেই যুদ্ধের সময় কোম্পানিটি তাদের অফশোর রিগ এবং অনশোর প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ১০,০০০ কর্মীকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল, তবে মার্চের সেই হামলায় কেউ হতাহত হয়নি।