ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

জেরুজালেম ইস্যুতে ওআইসি ও যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

অবশেষে জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেল অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন ( ওয়াইসি) এবং ইউনাইডেট স্টেট অব আমেরিকা ( ইউএসএ)। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো জেরুজালেম নিয়ে এক সঙ্গে সোচ্চার হলে বিশ্বের সমগ্র মুসলিম দেশ। ৫৭ টি দেশের মুসলিম প্রতিনিধি তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে এক হয়ে ঘোষণা করলেন, পূর্ব জেরুজালেম হবে ফিলিস্তিনির রাজধানী।

যদিও এ সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে কোনোরকম প্রভাবিত করবে কিনা বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু, তারপরও ওয়াইসি এ সিদ্ধান্তে অনড় থাকতে চায় যে জেরুজালেম প্যালেস্টাইনেরই রাজধানী। এ ঘোষান এটাই প্রমান করে যে প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার দাবি শুধুমাত্র তাদের নিজেদের দাবি না, বরং এটা সব মুসলিমদের দেশেরই প্রধান একটা ইস্যু।

এর কারণ মসজিদ আল-আকসা ছিল মুসলমানদের প্রথম কিবলা। কুরানেও এর উল্লেখ্য আছে । নবী মুহম্মাদ ( সাঃ) মেরাজের রাতে এখানে এসেছিলেন এবং এখান থেকেই উর্ধ্বকাশে যাত্রা আরম্ভ করেছিলেন। তাই মুসলমাদের কাছে এ পবিত্র স্থান এবং তারা কোনোভাবেই এ স্থানে দাবি ছেড়ে দিবে না। একমাত্র জেরুজালেমকে কেন্দ্র করেই সমগ্র মুসলিম দেশ এককিত্র হতে পারে। অন্য দিকে ইহুদিরা দাবি করে এটা তাদেরও পবিত্র ভূমি। হাজার বজর ধরে চলমান এ সংকটে নতুন করে জড়িয়ে পড়ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার মধ্য দিয়ে তারা প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার দাবিকেই নসাৎ করে দিতে চায়। ফলে দ্বিরাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের পথই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ওয়াআইসি থেকে কঠোরভাবে এ বার্তা প্রকাশ করা হয় যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যা খুশি তাই করতে পারে না। ওয়াইসির এ সম্মেলনে প্রধান ভূমিকা পালন করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এবং ওয়াইসির বর্তমান চেয়ারপার্সন রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের এখন আলোচনা এ সংকট নিরসনে কে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিবে। পক্ষপাতদুষ্ট যুক্তরাষ্ট্রকে আর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় মেনে নেয়া যায় না। ’ কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের প্রধান শক্তি সৌদি আরব এখনো তেমন উচ্চবাচ্য করেনি এ নিয়ে। মিশর ও জর্ডানও ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ইসরায়েল দমনে হামাস ও হিজবুল্লাহকে কি মুসলিম বিশ্ব অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করবে? তুরস্ক, ইরান, সিরিয়া ছাড়া কারা আর এগিয়ে আসবে? এতে করে মুসলিম বিশ্বেই আবার নতুন করে কোনো সংকট সৃষ্টি হবে না তো! সমস্ত কিছু মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধ মুসলিম বিশ্বের পদক্ষেপ কী হবে তাই এখন দেখার বিষয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

জেরুজালেম ইস্যুতে ওআইসি ও যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি

আপডেট সময় ০২:৩৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

অবশেষে জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেল অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন ( ওয়াইসি) এবং ইউনাইডেট স্টেট অব আমেরিকা ( ইউএসএ)। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো জেরুজালেম নিয়ে এক সঙ্গে সোচ্চার হলে বিশ্বের সমগ্র মুসলিম দেশ। ৫৭ টি দেশের মুসলিম প্রতিনিধি তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে এক হয়ে ঘোষণা করলেন, পূর্ব জেরুজালেম হবে ফিলিস্তিনির রাজধানী।

যদিও এ সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে কোনোরকম প্রভাবিত করবে কিনা বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু, তারপরও ওয়াইসি এ সিদ্ধান্তে অনড় থাকতে চায় যে জেরুজালেম প্যালেস্টাইনেরই রাজধানী। এ ঘোষান এটাই প্রমান করে যে প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার দাবি শুধুমাত্র তাদের নিজেদের দাবি না, বরং এটা সব মুসলিমদের দেশেরই প্রধান একটা ইস্যু।

এর কারণ মসজিদ আল-আকসা ছিল মুসলমানদের প্রথম কিবলা। কুরানেও এর উল্লেখ্য আছে । নবী মুহম্মাদ ( সাঃ) মেরাজের রাতে এখানে এসেছিলেন এবং এখান থেকেই উর্ধ্বকাশে যাত্রা আরম্ভ করেছিলেন। তাই মুসলমাদের কাছে এ পবিত্র স্থান এবং তারা কোনোভাবেই এ স্থানে দাবি ছেড়ে দিবে না। একমাত্র জেরুজালেমকে কেন্দ্র করেই সমগ্র মুসলিম দেশ এককিত্র হতে পারে। অন্য দিকে ইহুদিরা দাবি করে এটা তাদেরও পবিত্র ভূমি। হাজার বজর ধরে চলমান এ সংকটে নতুন করে জড়িয়ে পড়ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার মধ্য দিয়ে তারা প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার দাবিকেই নসাৎ করে দিতে চায়। ফলে দ্বিরাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের পথই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ওয়াআইসি থেকে কঠোরভাবে এ বার্তা প্রকাশ করা হয় যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যা খুশি তাই করতে পারে না। ওয়াইসির এ সম্মেলনে প্রধান ভূমিকা পালন করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এবং ওয়াইসির বর্তমান চেয়ারপার্সন রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের এখন আলোচনা এ সংকট নিরসনে কে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিবে। পক্ষপাতদুষ্ট যুক্তরাষ্ট্রকে আর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় মেনে নেয়া যায় না। ’ কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের প্রধান শক্তি সৌদি আরব এখনো তেমন উচ্চবাচ্য করেনি এ নিয়ে। মিশর ও জর্ডানও ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ইসরায়েল দমনে হামাস ও হিজবুল্লাহকে কি মুসলিম বিশ্ব অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করবে? তুরস্ক, ইরান, সিরিয়া ছাড়া কারা আর এগিয়ে আসবে? এতে করে মুসলিম বিশ্বেই আবার নতুন করে কোনো সংকট সৃষ্টি হবে না তো! সমস্ত কিছু মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধ মুসলিম বিশ্বের পদক্ষেপ কী হবে তাই এখন দেখার বিষয়।