ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার

বিচারকদের চাকরিবিধির গেজেট আগামী সপ্তাহে: আইনমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধির গেজেট আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে প্রকাশ হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, শৃঙ্খলাবিধির খসড়াটি রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং এটি রবিবার নাগাদ আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসতে পারে। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ আইন সমিতির ৩২তম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তা প্রণয়ন না হওয়ায় আপিল বিভাগের নির্দেশনায় ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলাবিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।

২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট এ বিষয়ে শুনানিকালে আপিল বিভাগ বলেন, একটি খসড়া ডিসিপ্লিনারি রুলস তারা (সরকার) দাখিল করেছে। এটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। এখন আমরা কমিটি করে একটি রুলস তৈরি করে দিয়েছি।

এটির আলোকে শৃঙ্খলাবিধি তৈরি করে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আপিল বিভাগকে জানাতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা ছিল। কিন্তু শৃঙ্খলাবিধির ওই গেজেট জারি না হওয়ায় আপিল বিভাগ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এরপর গেজেট প্রকাশের জন্য সময় চেয়ে বেশ কয়েকবার আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রতিবারই আদালত এসব আবেদন মঞ্জুর করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ ডিসেম্বর গেজেট প্রকাশের জন্য আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময় দেয়া হয়।

আইন সমিতির ৩২তম বার্ষিক সম্মেলনে আইনমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে তিনটি অনুষদ নিয়ে ১৯২১ সালে যাত্রা শুরু করেছিল, আইন অনুষদ তার অন্যতম। গর্বের সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় তৎকালীন কর্তৃপক্ষ তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছিল। তবে, আনন্দের ও স্বস্তির ব্যাপার হচ্ছে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জাতির পিতার সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে।

বাংলাদেশ আইন সমিতির বর্তমান সভাপতি এ কে এম আফজাল উল মুনীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বক্তৃতা করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবার পরিকল্পনা: বাংলাদেশের সাফল্য ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

বিচারকদের চাকরিবিধির গেজেট আগামী সপ্তাহে: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:২১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধির গেজেট আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে প্রকাশ হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, শৃঙ্খলাবিধির খসড়াটি রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং এটি রবিবার নাগাদ আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসতে পারে। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ আইন সমিতির ৩২তম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তা প্রণয়ন না হওয়ায় আপিল বিভাগের নির্দেশনায় ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলাবিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।

২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট এ বিষয়ে শুনানিকালে আপিল বিভাগ বলেন, একটি খসড়া ডিসিপ্লিনারি রুলস তারা (সরকার) দাখিল করেছে। এটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। এখন আমরা কমিটি করে একটি রুলস তৈরি করে দিয়েছি।

এটির আলোকে শৃঙ্খলাবিধি তৈরি করে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আপিল বিভাগকে জানাতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা ছিল। কিন্তু শৃঙ্খলাবিধির ওই গেজেট জারি না হওয়ায় আপিল বিভাগ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এরপর গেজেট প্রকাশের জন্য সময় চেয়ে বেশ কয়েকবার আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রতিবারই আদালত এসব আবেদন মঞ্জুর করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ ডিসেম্বর গেজেট প্রকাশের জন্য আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময় দেয়া হয়।

আইন সমিতির ৩২তম বার্ষিক সম্মেলনে আইনমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে তিনটি অনুষদ নিয়ে ১৯২১ সালে যাত্রা শুরু করেছিল, আইন অনুষদ তার অন্যতম। গর্বের সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় তৎকালীন কর্তৃপক্ষ তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছিল। তবে, আনন্দের ও স্বস্তির ব্যাপার হচ্ছে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জাতির পিতার সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে।

বাংলাদেশ আইন সমিতির বর্তমান সভাপতি এ কে এম আফজাল উল মুনীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বক্তৃতা করেন।