ঢাকা ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের দলীয় প্রভাবমুক্ত ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের নির্দেশ অর্থমন্ত্রীর মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে গেলে আমরা সমৃদ্ধির পথে যাব: অর্থমন্ত্রী ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে পিরোজপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রাজধানীর ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশের জনগণ আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করেনি, করবে না: গোলাম পরওয়ার ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: জেডি ভ্যান্স গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

বিচারকদের চাকরিবিধির গেজেট আগামী সপ্তাহে: আইনমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধির গেজেট আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে প্রকাশ হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, শৃঙ্খলাবিধির খসড়াটি রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং এটি রবিবার নাগাদ আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসতে পারে। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ আইন সমিতির ৩২তম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তা প্রণয়ন না হওয়ায় আপিল বিভাগের নির্দেশনায় ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলাবিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।

২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট এ বিষয়ে শুনানিকালে আপিল বিভাগ বলেন, একটি খসড়া ডিসিপ্লিনারি রুলস তারা (সরকার) দাখিল করেছে। এটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। এখন আমরা কমিটি করে একটি রুলস তৈরি করে দিয়েছি।

এটির আলোকে শৃঙ্খলাবিধি তৈরি করে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আপিল বিভাগকে জানাতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা ছিল। কিন্তু শৃঙ্খলাবিধির ওই গেজেট জারি না হওয়ায় আপিল বিভাগ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এরপর গেজেট প্রকাশের জন্য সময় চেয়ে বেশ কয়েকবার আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রতিবারই আদালত এসব আবেদন মঞ্জুর করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ ডিসেম্বর গেজেট প্রকাশের জন্য আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময় দেয়া হয়।

আইন সমিতির ৩২তম বার্ষিক সম্মেলনে আইনমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে তিনটি অনুষদ নিয়ে ১৯২১ সালে যাত্রা শুরু করেছিল, আইন অনুষদ তার অন্যতম। গর্বের সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় তৎকালীন কর্তৃপক্ষ তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছিল। তবে, আনন্দের ও স্বস্তির ব্যাপার হচ্ছে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জাতির পিতার সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে।

বাংলাদেশ আইন সমিতির বর্তমান সভাপতি এ কে এম আফজাল উল মুনীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বক্তৃতা করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের

বিচারকদের চাকরিবিধির গেজেট আগামী সপ্তাহে: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:২১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধির গেজেট আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে প্রকাশ হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, শৃঙ্খলাবিধির খসড়াটি রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং এটি রবিবার নাগাদ আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসতে পারে। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ আইন সমিতির ৩২তম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তা প্রণয়ন না হওয়ায় আপিল বিভাগের নির্দেশনায় ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলাবিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।

২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট এ বিষয়ে শুনানিকালে আপিল বিভাগ বলেন, একটি খসড়া ডিসিপ্লিনারি রুলস তারা (সরকার) দাখিল করেছে। এটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। এখন আমরা কমিটি করে একটি রুলস তৈরি করে দিয়েছি।

এটির আলোকে শৃঙ্খলাবিধি তৈরি করে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আপিল বিভাগকে জানাতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা ছিল। কিন্তু শৃঙ্খলাবিধির ওই গেজেট জারি না হওয়ায় আপিল বিভাগ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এরপর গেজেট প্রকাশের জন্য সময় চেয়ে বেশ কয়েকবার আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রতিবারই আদালত এসব আবেদন মঞ্জুর করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ ডিসেম্বর গেজেট প্রকাশের জন্য আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময় দেয়া হয়।

আইন সমিতির ৩২তম বার্ষিক সম্মেলনে আইনমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে তিনটি অনুষদ নিয়ে ১৯২১ সালে যাত্রা শুরু করেছিল, আইন অনুষদ তার অন্যতম। গর্বের সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় তৎকালীন কর্তৃপক্ষ তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছিল। তবে, আনন্দের ও স্বস্তির ব্যাপার হচ্ছে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জাতির পিতার সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে।

বাংলাদেশ আইন সমিতির বর্তমান সভাপতি এ কে এম আফজাল উল মুনীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বক্তৃতা করেন।