ঢাকা ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যারা ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিল তারাই গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজপথে নামলে সরকারের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না: ইসহাক সরকার নাটোরে যুবদলের দু’পক্ষে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন দোকান ভাঙচুর ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি শিবির কি রগকাটা, শিবির কি গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী ‘শিক্ষকরা কোনো দলের নেতা নন, রাজনীতি করলে শিক্ষকতা ছেড়ে দিন’:কায়সার কামাল দেশে তেলের সংকট নেই, কিছু মানুষ অনৈতিক ব্যবসা করছে: মির্জা ফখরুল

দ্বিতীয় দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদে বেসিকের বাচ্চু

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বেসিক ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে দ্বিতীয় দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এর আগে গত সোমবার দুদকের পরিচালক জায়েদ হোসেন খান ও সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ টিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেদিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন বেসিক ব্যাংকের সাবেক এই চেয়ারম্যান।

গত ২৩ নভেম্বর রাষ্ট্রয়ত্ত বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুসহ ১১জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ব্যাংকটির ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের আসামি না করায় সম্প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে হাইকোর্ট। এরপরই দুদক তাদেরকে তলব করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে বেসিক ব্যাংকের তিনটি শাখায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। এর মধ্যে গুলশান শাখায় ১৩০০ কোটি টাকা, শান্তিনগর শাখার ৩৮৭ কোটি, মূল শাখায় প্রায় ২৪৮ কোটি ও দিলকুশা শাখায় ১৩০ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ শনাক্ত করা হয়। পাশাপাশি বেসিক ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে আরও এক হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি বেরিয়ে আসে। সব মিলে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে।

ঋণ কেলেঙ্কারি মাথায় নিয়ে ২০১৪ সালের ৬ জুলাই ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ ছাড়েন আবদুল হাই বাচ্চু। পরের বছর বাচ্চুকে বাদ দিয়ে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ১৫৬ জনের জনের জনের বিরুদ্ধে ৫৬টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

মামলায় বাচ্চুকে আসামি না করার সমালোচনা ছিল শুরু থেকেই। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একাধিকবার বলেছেন, তিন মনে করেন বাচ্চুকেও আসামি করা উচিত ছিল।

এর মধ্যে বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে তৎকালীন চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা জড়িত মর্মে হাইকোর্ট বেশ কয়েকবার পর্যবেক্ষণ দেয়। দুদকের পক্ষ থেকে যেসব মামলা করা হয়েছে সেই মামলায় চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা কেন আসামি নয় সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্ট। এরপরই ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও ১০ পরিচালককে তলব করে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটি। গত ২২ নভেম্বর থেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দ্বিতীয় দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদে বেসিকের বাচ্চু

আপডেট সময় ০৩:০৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বেসিক ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে দ্বিতীয় দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এর আগে গত সোমবার দুদকের পরিচালক জায়েদ হোসেন খান ও সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ টিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেদিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন বেসিক ব্যাংকের সাবেক এই চেয়ারম্যান।

গত ২৩ নভেম্বর রাষ্ট্রয়ত্ত বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুসহ ১১জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ব্যাংকটির ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের আসামি না করায় সম্প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে হাইকোর্ট। এরপরই দুদক তাদেরকে তলব করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে বেসিক ব্যাংকের তিনটি শাখায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। এর মধ্যে গুলশান শাখায় ১৩০০ কোটি টাকা, শান্তিনগর শাখার ৩৮৭ কোটি, মূল শাখায় প্রায় ২৪৮ কোটি ও দিলকুশা শাখায় ১৩০ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ শনাক্ত করা হয়। পাশাপাশি বেসিক ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে আরও এক হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি বেরিয়ে আসে। সব মিলে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে।

ঋণ কেলেঙ্কারি মাথায় নিয়ে ২০১৪ সালের ৬ জুলাই ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ ছাড়েন আবদুল হাই বাচ্চু। পরের বছর বাচ্চুকে বাদ দিয়ে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ১৫৬ জনের জনের জনের বিরুদ্ধে ৫৬টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

মামলায় বাচ্চুকে আসামি না করার সমালোচনা ছিল শুরু থেকেই। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একাধিকবার বলেছেন, তিন মনে করেন বাচ্চুকেও আসামি করা উচিত ছিল।

এর মধ্যে বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে তৎকালীন চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা জড়িত মর্মে হাইকোর্ট বেশ কয়েকবার পর্যবেক্ষণ দেয়। দুদকের পক্ষ থেকে যেসব মামলা করা হয়েছে সেই মামলায় চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা কেন আসামি নয় সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্ট। এরপরই ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও ১০ পরিচালককে তলব করে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটি। গত ২২ নভেম্বর থেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।