ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের সব নিদর্শন মুছে ফেলার চেষ্টা করছে: নিউ ইয়র্ক টাইমস

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রোহিঙ্গা জাতি-গোষ্ঠীর সকল প্রকার নিদর্শন, চিহ্ন, ইতিহাস ও ঐতিহ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করছে মিয়ানমার। এমনই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদন। শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে ১৯৯০ সালে মিয়ানমারের সংসদ নির্বাচনে একটি আসন থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হওয়া একজন রোহিঙ্গা নেতার সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেউ মিন কলেজে রোহিঙ্গাদের একটি ছাত্রসংগঠনের সদস্য ছিলেন। তিনি সরকারি স্কুলে পড়ালেখা করেছেন। এমনকি ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একটি সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচন করে জয়ী হন। কিন্তু, মিয়ানমার সরকারের তথ্য মতে এখন আর কেউ মিনের কোনো রোহিঙ্গা সঙ্গী বাকি নেই।

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইনে দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু মুসিলমদের ওপর নির্যাতন চলছে। তারা এখন প্রতিবেশি বাংলাদেশের জন্যও সমস্যা। আজ তারা রাষ্ট্রহীন। মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ট বৌদ্ধরা তাদের পরিচয়কে অস্বীকার করছে। রাখাইনে মিয়ানমার সরকারের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ইউ কেউ সান হালা বলেন, এখানে রোহিঙ্গাদের কোনো কিছু নেই। তবে, তার এ বক্তব্যকে ভুয়া সংবাদ হিসেবে মনে করা হয়।

মিয়ানমারে ৭২ বছর ধরে বসবাসকারী কেউ মিন বলেন, রোহিঙ্গাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে মিয়ানমার এমনভাবে অস্বীকার করায় আমরা হতভম্ব। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের সকল ইতিহাস সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নির্মূলের বিপদজনক চেষ্টা করছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচও এবিষয়ে সতর্ক করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনে মিয়ানমার বাহিনীর গণহত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়ে ২০১৬ সাল থেকে মিয়ানমারে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের দুই-তৃতীয়াংশ গত আগস্ট থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। যাদের সংখ্যা ৬ লাখ ২০ হাজার। মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়ংগনে বসবাসবারী কেউ মিন প্রতিবেদককে আরও বলেন, আমাদের দেশে রেহিঙ্গা শেষ হয়ে গেছে। খুব শিগগিরই আমরা সবাই মরে যাবো নয়তো চলে যাবো।

জাতিসংঘের এক রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার বাহিনীর টার্গেট ছিল সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে শিক্ষক, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় নেতা, এবং যারা রোহিঙ্গা সংস্কৃতিকে বহন করে তাদেরকে শেষ করে দেয়া।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোংলা বন্দরের ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের সব নিদর্শন মুছে ফেলার চেষ্টা করছে: নিউ ইয়র্ক টাইমস

আপডেট সময় ০২:১৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রোহিঙ্গা জাতি-গোষ্ঠীর সকল প্রকার নিদর্শন, চিহ্ন, ইতিহাস ও ঐতিহ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করছে মিয়ানমার। এমনই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদন। শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে ১৯৯০ সালে মিয়ানমারের সংসদ নির্বাচনে একটি আসন থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হওয়া একজন রোহিঙ্গা নেতার সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেউ মিন কলেজে রোহিঙ্গাদের একটি ছাত্রসংগঠনের সদস্য ছিলেন। তিনি সরকারি স্কুলে পড়ালেখা করেছেন। এমনকি ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একটি সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচন করে জয়ী হন। কিন্তু, মিয়ানমার সরকারের তথ্য মতে এখন আর কেউ মিনের কোনো রোহিঙ্গা সঙ্গী বাকি নেই।

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইনে দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু মুসিলমদের ওপর নির্যাতন চলছে। তারা এখন প্রতিবেশি বাংলাদেশের জন্যও সমস্যা। আজ তারা রাষ্ট্রহীন। মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ট বৌদ্ধরা তাদের পরিচয়কে অস্বীকার করছে। রাখাইনে মিয়ানমার সরকারের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ইউ কেউ সান হালা বলেন, এখানে রোহিঙ্গাদের কোনো কিছু নেই। তবে, তার এ বক্তব্যকে ভুয়া সংবাদ হিসেবে মনে করা হয়।

মিয়ানমারে ৭২ বছর ধরে বসবাসকারী কেউ মিন বলেন, রোহিঙ্গাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে মিয়ানমার এমনভাবে অস্বীকার করায় আমরা হতভম্ব। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের সকল ইতিহাস সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নির্মূলের বিপদজনক চেষ্টা করছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচও এবিষয়ে সতর্ক করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনে মিয়ানমার বাহিনীর গণহত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়ে ২০১৬ সাল থেকে মিয়ানমারে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের দুই-তৃতীয়াংশ গত আগস্ট থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। যাদের সংখ্যা ৬ লাখ ২০ হাজার। মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়ংগনে বসবাসবারী কেউ মিন প্রতিবেদককে আরও বলেন, আমাদের দেশে রেহিঙ্গা শেষ হয়ে গেছে। খুব শিগগিরই আমরা সবাই মরে যাবো নয়তো চলে যাবো।

জাতিসংঘের এক রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার বাহিনীর টার্গেট ছিল সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে শিক্ষক, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় নেতা, এবং যারা রোহিঙ্গা সংস্কৃতিকে বহন করে তাদেরকে শেষ করে দেয়া।