ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ অচেতন অবস্থায় রংপুরে উদ্ধার গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া সরকারের উচিত নয়: আমির খসরু আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ নেই: শফিকুল আলম আমরা এখন আর আইসিইউতে নেই, কেবিনে উঠে এসেছি: অর্থ উপদেষ্টা ‘বন্দি থাকাকালে বেগম জিয়ার পক্ষে কথা বলার কেউই ছিলেন না’:আসিফ নজরুল নোয়াখালীকে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা জোট নয়, এককভাবেই নির্বাচনে লড়বে ইসলামী আন্দোলন ওসমান হাদির ভাইকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ মিশনে নিয়োগ

ইসলামে পবিত্রতার তাৎপর্য

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

ইসলাম আমাদের যে সমস্ত বিষয়ে মৌলিক শিক্ষা দান করেছে তার অন্যতম একটি হলো পবিত্রতা। স্বয়ং মহান আল্লাহ কোরআন শরীফে বলেন, ‘যারা বার বার তওবা করে এবং পূত-পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকে, আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন’। (সূরা বাকারা, আয়াত : ২২২)

রাসূল (সা.) বলেন, ‘পবিত্রতা অর্জন করা ঈমানের অর্ধেক।’ (মিশকাত শরীফ হা : ২৮১) পবিত্রতা দুই প্রকার। এক প্রকার হলো, শারীরিক তথা বাহ্যিক পবিত্রতা। ধুলাবালি, ময়লা-আবর্জনা ইত্যাদি থেকে শরীর কে পরিচ্ছন্ন রাখা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগন ! যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং তোমাদের মাথা মাসহ করবে এবং পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত করবে। যদি তোমরা অপবিত্র থাকো, তবে বিশেষভাবে পবিত্র হবে।’ (সূরা মায়িদাহ, আয়াত : ৬)

এখানে ওজুর নির্দেশের সাথে সাথে এটাও বর্ণনা করা উদ্দেশ্য যে, অন্যান্য জাতির বিপরীতে ইসলাম অভ্যন্তরীণ পবিত্রতার সাথে সাথে বাহ্যিক পরিস্কার পরিচ্ছন্নতারও গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এবং ইসলামের কেন্দ্রীয় ও মৌলিক ইবাদত নামাজের মধ্যেও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা আবশ্যক। যতক্ষণ পর্যন্ত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অর্জন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত নামাজ সঠিক বলে বিবেচিত হবে না। হাদিস শরীফে এসেছে, ‘আলী (রা. ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নামাজের চাবি হলো পবিত্রতা, তাকবীরে তাহরীমা নামাজের পরিপন্থী সকল কাজকে হারাম করে আর সালাম তা হালাল করে।’ (তিরমিযি শরীফ, হা : ৩)

যেমনিভাবে চাবি ব্যতীত তালা খোলা অসম্ভব, এমনিভাবে পবিত্রতা ব্যতীত নামাজ পড়াও বৃথা, অর্থহীন। দ্বিতীয় প্রকার পবিত্রতা, নিজের অন্তরকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। অন্তর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার অর্থ হলো, লোভ-লালসা, অহংকার, মিথ্যা, গীবত, ক্রোধ, হিংসা, বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা, শত্রুতা ইত্যাদি থেকে নিজের অন্তরকে পরিপূর্ণ পরিস্কার রাখা। ইসলাম যেমনিভাবে শারীরিক বা বাহ্যিক পবিত্রতার গুরুত্ব দিয়ে থাকে এমনিভাবে অভ্যন্তরীণ তথা অন্তরকেও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুত্ব দিয়ে থাকে। পরিশুদ্ধ আত্মাকে কোরআনে সফলতা হিসেবে, এবং কলুষিত আত্মাকে ব্যর্থ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করল সে সফলকাম আর যে আত্মাকে কলুষিত করল সে ব্যর্থ হলো।’ (সূরা শামস, আয়াত : ৯-১০) বাহ্যিক ও আত্মিক পবিত্রকরণের উপর দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা নির্ভর করে। কারণ আল্লাহর সকল বিধানের আনুগত্য করতে হলে অবশ্যই তাকে বাহ্যিক ও আত্মিক পরিশুদ্ধ করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ

ইসলামে পবিত্রতার তাৎপর্য

আপডেট সময় ০৪:৪৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৭

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

ইসলাম আমাদের যে সমস্ত বিষয়ে মৌলিক শিক্ষা দান করেছে তার অন্যতম একটি হলো পবিত্রতা। স্বয়ং মহান আল্লাহ কোরআন শরীফে বলেন, ‘যারা বার বার তওবা করে এবং পূত-পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকে, আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন’। (সূরা বাকারা, আয়াত : ২২২)

রাসূল (সা.) বলেন, ‘পবিত্রতা অর্জন করা ঈমানের অর্ধেক।’ (মিশকাত শরীফ হা : ২৮১) পবিত্রতা দুই প্রকার। এক প্রকার হলো, শারীরিক তথা বাহ্যিক পবিত্রতা। ধুলাবালি, ময়লা-আবর্জনা ইত্যাদি থেকে শরীর কে পরিচ্ছন্ন রাখা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগন ! যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং তোমাদের মাথা মাসহ করবে এবং পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত করবে। যদি তোমরা অপবিত্র থাকো, তবে বিশেষভাবে পবিত্র হবে।’ (সূরা মায়িদাহ, আয়াত : ৬)

এখানে ওজুর নির্দেশের সাথে সাথে এটাও বর্ণনা করা উদ্দেশ্য যে, অন্যান্য জাতির বিপরীতে ইসলাম অভ্যন্তরীণ পবিত্রতার সাথে সাথে বাহ্যিক পরিস্কার পরিচ্ছন্নতারও গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এবং ইসলামের কেন্দ্রীয় ও মৌলিক ইবাদত নামাজের মধ্যেও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা আবশ্যক। যতক্ষণ পর্যন্ত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অর্জন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত নামাজ সঠিক বলে বিবেচিত হবে না। হাদিস শরীফে এসেছে, ‘আলী (রা. ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নামাজের চাবি হলো পবিত্রতা, তাকবীরে তাহরীমা নামাজের পরিপন্থী সকল কাজকে হারাম করে আর সালাম তা হালাল করে।’ (তিরমিযি শরীফ, হা : ৩)

যেমনিভাবে চাবি ব্যতীত তালা খোলা অসম্ভব, এমনিভাবে পবিত্রতা ব্যতীত নামাজ পড়াও বৃথা, অর্থহীন। দ্বিতীয় প্রকার পবিত্রতা, নিজের অন্তরকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। অন্তর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার অর্থ হলো, লোভ-লালসা, অহংকার, মিথ্যা, গীবত, ক্রোধ, হিংসা, বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা, শত্রুতা ইত্যাদি থেকে নিজের অন্তরকে পরিপূর্ণ পরিস্কার রাখা। ইসলাম যেমনিভাবে শারীরিক বা বাহ্যিক পবিত্রতার গুরুত্ব দিয়ে থাকে এমনিভাবে অভ্যন্তরীণ তথা অন্তরকেও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুত্ব দিয়ে থাকে। পরিশুদ্ধ আত্মাকে কোরআনে সফলতা হিসেবে, এবং কলুষিত আত্মাকে ব্যর্থ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করল সে সফলকাম আর যে আত্মাকে কলুষিত করল সে ব্যর্থ হলো।’ (সূরা শামস, আয়াত : ৯-১০) বাহ্যিক ও আত্মিক পবিত্রকরণের উপর দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা নির্ভর করে। কারণ আল্লাহর সকল বিধানের আনুগত্য করতে হলে অবশ্যই তাকে বাহ্যিক ও আত্মিক পরিশুদ্ধ করতে হবে।