ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

খেলাপি ঋণ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক: গভর্নর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খেলাপি ঋণকে একটি গুরুতর সমস্যা হিসেব চিহ্নিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। তিনি বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুতরভাবে সচেতন (সিরিয়াসলি কনসার্ন)। তবে হঠাৎ করেই দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়েনি। এটা দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণসংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণের ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশই খেলাপি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, না জেনে আন্দাজে ঢিল দিলে কাঁচা ও পাকা আম দুটোই পড়তে পারে। কিন্তু জেনে বুঝে ঢিল দিলে শুধু পাকা আমই পড়বে। রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রেও সেরকম। জেনে বুঝে রিপোটিং করলে সবার জন্যই ভালো। এজন্যই ব্যাংকিং বিষয়ে জানতে হবে। এধরনের কর্মশালায় সেটা সম্ভব। তাই আমরাও আগ্রহ নিয়ে কর্মশালাগুলোর আয়োজন করে থাকি।

এস কে সুর বলেন, মিডিয়া এখন অনেক দায়িত্বশীল হয়েছে। রিপোর্টিংয়ে ভুলগুলো কম হচ্ছে। এধরনের কর্মশালাগুলো চলতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে এসমস্যাগুলো আর থাকবে না।

কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা জানান, পেমেন্ট সিস্টেমকে আরও আধুনিক করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বেশি কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সামনে আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যাতে লেনদেন আরও সহজ হবে। এর মধ্যে একটি হলো, ই-চালান মেনেজম্যান্ট সিস্টেম চালু করা, এটি ২০১৯ সালের মধ্যে চালু হয়ে যাবে। এছাড়া ন্যাশনাল গেটওয়ে সিস্টেম ২০২০ সালের মধ্যে চালু হবে।

মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন এখন অনেক ব্যয়বহুল। এর কারণ দেশে এখনো এ খাতে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়নি। আগামীতে যাতে প্রতিযোগিতা তৈরি হয় সেজন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নীতিমালাকে আরও যুগোপযোগী করা হচ্ছে। এটি হলে হয়তো খরচ কমে আসবে।

জাল নোটের বিষয় শুভঙ্কর সাহা বলেন, দেশে এখনো জাল নোট বিষয়ে তেমন কোনো আইন নেই। এখন পর্যন্ত জালিয়াতি আইনেই মামলা হচ্ছে। এর সমস্যাও রয়েছে। তাই এ বিষয়েও একটি আইন করা হচ্ছে, যা বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এটি হলে জাল নোট তৈরিকারী এবং সংশ্লিষ্টরা ধরা পড়বে এবং তাদের শাস্তি হবে। এখন যেমন সাধারণ মানুষও জাল নোটসহ ধরা পড়লে সমস্যায় পড়ে, তেমনটা হবে না।

কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী। কর্মশালায় উপস্থি’ত ছিলেন- ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান, ইআরএফ’র সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান প্রমুখ। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফয়সাল আহমেদ একটি উপস্থাপনা দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খেলাপি ঋণ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক: গভর্নর

আপডেট সময় ০৩:০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খেলাপি ঋণকে একটি গুরুতর সমস্যা হিসেব চিহ্নিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। তিনি বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুতরভাবে সচেতন (সিরিয়াসলি কনসার্ন)। তবে হঠাৎ করেই দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়েনি। এটা দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণসংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণের ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশই খেলাপি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, না জেনে আন্দাজে ঢিল দিলে কাঁচা ও পাকা আম দুটোই পড়তে পারে। কিন্তু জেনে বুঝে ঢিল দিলে শুধু পাকা আমই পড়বে। রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রেও সেরকম। জেনে বুঝে রিপোটিং করলে সবার জন্যই ভালো। এজন্যই ব্যাংকিং বিষয়ে জানতে হবে। এধরনের কর্মশালায় সেটা সম্ভব। তাই আমরাও আগ্রহ নিয়ে কর্মশালাগুলোর আয়োজন করে থাকি।

এস কে সুর বলেন, মিডিয়া এখন অনেক দায়িত্বশীল হয়েছে। রিপোর্টিংয়ে ভুলগুলো কম হচ্ছে। এধরনের কর্মশালাগুলো চলতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে এসমস্যাগুলো আর থাকবে না।

কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা জানান, পেমেন্ট সিস্টেমকে আরও আধুনিক করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বেশি কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সামনে আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যাতে লেনদেন আরও সহজ হবে। এর মধ্যে একটি হলো, ই-চালান মেনেজম্যান্ট সিস্টেম চালু করা, এটি ২০১৯ সালের মধ্যে চালু হয়ে যাবে। এছাড়া ন্যাশনাল গেটওয়ে সিস্টেম ২০২০ সালের মধ্যে চালু হবে।

মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন এখন অনেক ব্যয়বহুল। এর কারণ দেশে এখনো এ খাতে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়নি। আগামীতে যাতে প্রতিযোগিতা তৈরি হয় সেজন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নীতিমালাকে আরও যুগোপযোগী করা হচ্ছে। এটি হলে হয়তো খরচ কমে আসবে।

জাল নোটের বিষয় শুভঙ্কর সাহা বলেন, দেশে এখনো জাল নোট বিষয়ে তেমন কোনো আইন নেই। এখন পর্যন্ত জালিয়াতি আইনেই মামলা হচ্ছে। এর সমস্যাও রয়েছে। তাই এ বিষয়েও একটি আইন করা হচ্ছে, যা বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এটি হলে জাল নোট তৈরিকারী এবং সংশ্লিষ্টরা ধরা পড়বে এবং তাদের শাস্তি হবে। এখন যেমন সাধারণ মানুষও জাল নোটসহ ধরা পড়লে সমস্যায় পড়ে, তেমনটা হবে না।

কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী। কর্মশালায় উপস্থি’ত ছিলেন- ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান, ইআরএফ’র সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান প্রমুখ। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফয়সাল আহমেদ একটি উপস্থাপনা দেন।