ঢাকা ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

হাতীবান্ধায় একটি এবতেদায়ী মাদ্রাসার সবাই ভুয়া পরীক্ষার্থী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সারাদেশের ন্যায় লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় চলছে প্রাথমিক সমাপনী ও এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। কিন্তু ওই পরীক্ষায় উপজেলার গড্ডিমারী বটতলা এবতেদায়ী মাদ্রাসা থেকে যে ক‘জন অংশ নিচ্ছেন তারা সবাই ভুয়া পরীক্ষার্থী বলে জানা গেছে। এসব পরীক্ষার্থীর মধ্যে দু‘জন সদ্য সমাপ্ত অষ্টম শ্রেণীর জেডিসি( জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আর অপরজন পড়ছে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীতে।

জানা যায়, উপজেলার গড্ডিমারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ওই মাদ্রাসার হয়ে এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন রিফাত জাহান, আমেনা ও শ্যামলী খাতুন নামে মোট তিন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে রিফাত জাহান ও আমেনা খাতুন চলতি বছর মৌলভী আবুল হাশেম আহমেদ মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী হিসেবে জেডিসি পরীক্ষায় দিয়েছে।

আর অপর শিক্ষার্থী শ্যামলী খাতুন পড়ছে হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ট শ্রেণীতে। তার ক্লাস রোল-১৭। এরপরেও তারা সবাই এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার্থী হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিআর ভুক্ত হয়েছে। সেই সুবাধে গড্ডিমারী বটতলা এবতেদায়ী মাদ্রাসার হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচেছ তারা।

সোমবার ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ষষ্ট শ্রেণীর শিক্ষার্থী শ্যামলী খাতুন ১০ নম্বর কক্ষে বসে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মতই উত্তরপত্র লিখছে। এসময় সে জানায়, গত বছরই একটি বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ছে সে। কিন্তু গড্ডিমারী বটতলা মাদ্রাসায় তার এক আত্মীয় থাকার কারণে এবছর এবতেদায়ী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তবে ওই মাদ্রাসার হয়ে অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র রিফাত জাহান ও আমেনা খাতুন প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিলেও সোমবার দ্বিতীয় দিনে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসেনি বলে জানায় সে।

এ ব্যাপারে গড্ডিমারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব আতোয়ার হোসেন বলেন, ওই তিন শিক্ষার্থীর সবাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিআর ভুক্ত পরীক্ষার্থী। সেকারণে তারা পরীক্ষায় অংশ নেয়।

বিষয়টি নিয়ে গড্ডিমারী বটতলা এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জাহেদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মাদ্রসার এক সহকারী শিক্ষক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

হাতীবান্ধা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের দায়িত্বে থাকা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আযাদ বলেন, ‘বিষয়টি হাতীবান্ধার ইউএন স্যারের কাছে শুনেছি। ওই মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে ঘটনা জেনে এসেছি। এ ব্যাপারে ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

হাতীবান্ধায় একটি এবতেদায়ী মাদ্রাসার সবাই ভুয়া পরীক্ষার্থী

আপডেট সময় ০৯:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সারাদেশের ন্যায় লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় চলছে প্রাথমিক সমাপনী ও এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। কিন্তু ওই পরীক্ষায় উপজেলার গড্ডিমারী বটতলা এবতেদায়ী মাদ্রাসা থেকে যে ক‘জন অংশ নিচ্ছেন তারা সবাই ভুয়া পরীক্ষার্থী বলে জানা গেছে। এসব পরীক্ষার্থীর মধ্যে দু‘জন সদ্য সমাপ্ত অষ্টম শ্রেণীর জেডিসি( জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আর অপরজন পড়ছে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীতে।

জানা যায়, উপজেলার গড্ডিমারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ওই মাদ্রাসার হয়ে এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন রিফাত জাহান, আমেনা ও শ্যামলী খাতুন নামে মোট তিন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে রিফাত জাহান ও আমেনা খাতুন চলতি বছর মৌলভী আবুল হাশেম আহমেদ মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী হিসেবে জেডিসি পরীক্ষায় দিয়েছে।

আর অপর শিক্ষার্থী শ্যামলী খাতুন পড়ছে হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ট শ্রেণীতে। তার ক্লাস রোল-১৭। এরপরেও তারা সবাই এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার্থী হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিআর ভুক্ত হয়েছে। সেই সুবাধে গড্ডিমারী বটতলা এবতেদায়ী মাদ্রাসার হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচেছ তারা।

সোমবার ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ষষ্ট শ্রেণীর শিক্ষার্থী শ্যামলী খাতুন ১০ নম্বর কক্ষে বসে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মতই উত্তরপত্র লিখছে। এসময় সে জানায়, গত বছরই একটি বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ছে সে। কিন্তু গড্ডিমারী বটতলা মাদ্রাসায় তার এক আত্মীয় থাকার কারণে এবছর এবতেদায়ী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তবে ওই মাদ্রাসার হয়ে অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র রিফাত জাহান ও আমেনা খাতুন প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিলেও সোমবার দ্বিতীয় দিনে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসেনি বলে জানায় সে।

এ ব্যাপারে গড্ডিমারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব আতোয়ার হোসেন বলেন, ওই তিন শিক্ষার্থীর সবাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিআর ভুক্ত পরীক্ষার্থী। সেকারণে তারা পরীক্ষায় অংশ নেয়।

বিষয়টি নিয়ে গড্ডিমারী বটতলা এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জাহেদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মাদ্রসার এক সহকারী শিক্ষক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

হাতীবান্ধা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের দায়িত্বে থাকা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আযাদ বলেন, ‘বিষয়টি হাতীবান্ধার ইউএন স্যারের কাছে শুনেছি। ওই মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে ঘটনা জেনে এসেছি। এ ব্যাপারে ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।