ঢাকা ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস

মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাটোরে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে নাটোরের শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যালের বিচারক (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ) হাসানুজ্জামান এই দণ্ডাদেশ দেন।

ট্রাইবুন্যাল সূত্রে জানা গেছে, বাবা কামরুজ্জামান বড়াইগ্রাম উপজেলার নটাবাড়িয়া উপজেলার সরদার বয়েত রেজার ছেলে। তিনি ঘটনার সময় কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্টে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সৈনিক ছিলেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি নিজ নাবালিকা (১১) মেয়েকে নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন এবং কাউকে ঘটনাটি না জানানোর জন্য হত্যার হুমকি দেন। পরবর্তীতে মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। তদন্তকালে মেয়েটির পরিধেয় (ঘটনার সময়ের) পোশাকের রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়।

একইসঙ্গে তার বাবা ও মায়ের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে মেয়েটির পোশাকে বাবার বীর্জের অস্তীত্ব পাওয়া যায়। আদালতের সাক্ষ্য প্রমাণ ও রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল যাচাই-বাছাই করে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্টের তৎকালীন সৈনিক কামরুজ্জামান বাড়িতে যান। সন্ধ্যার পর একমাত্র মেয়েকে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বের হয়ে একপর্যায়ে তিনি উপজেলার সুতিরপাড়-ন্যাংটাদহের নির্জন রাস্তায় যান। সেখানে মেয়েকে হত্যার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করেন। রাত সোয়া আটটার দিকে মেয়েকে বনপাড়ার ভাড়া বাসায় আসলে মেয়েটি তার পরনের সালোয়ার বদলায় এবং কান্নাকাটি শুরু করে।

পরে তার মা মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনা জানতে পারেন। তাৎক্ষণিক বিষয়টি স্থানীয় মেয়র, কাউন্সিলরসহ প্রতিবেশীদের জানালে তারা মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পান। পরে কামারুজ্জামানকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে মামলা হলে উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান মামলাটি তদন্ত করে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার সময় মেয়েটির পরনের কাপড়ের রাসয়নিক পরীক্ষা করান। একইসঙ্গে বাবা ও মায়ের রক্তের রাসায়নিক পরীক্ষা করান। এ পরীক্ষায় মেয়েটির পোশাকে বাবার বীর্য পাওয়া যায়।

মামলাটি নাটোরের শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যালে বিচারে আসলে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার দুপুরে আদালতের বিচারক হাসানুজ্জামান আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ দেন। রায় ঘোষণাকালে আদালত ঘটনাটিকে জঘন্য ও বর্বরোচিত বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি এটাকে সমাজের চরম অবক্ষয় বলেও মন্তব্য করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি কাঠগড়ায় ছিলেন। রায়ের পর তাকে নাটোর কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌসলী একেএম শাহাজাহান কবির সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আসামি পৈশাচিক অপরাধ করেছে। তার বিরুদ্ধে দেয়া দণ্ডাদেশ সমাজে নীতিনৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মোজাম্মেল হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীত, প্রমাণিত হয় নি। তার মক্কেল রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে মসজিদের বাক্সে ৯ লাখ টাকা

মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ১১:২১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাটোরে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে নাটোরের শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যালের বিচারক (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ) হাসানুজ্জামান এই দণ্ডাদেশ দেন।

ট্রাইবুন্যাল সূত্রে জানা গেছে, বাবা কামরুজ্জামান বড়াইগ্রাম উপজেলার নটাবাড়িয়া উপজেলার সরদার বয়েত রেজার ছেলে। তিনি ঘটনার সময় কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্টে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সৈনিক ছিলেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি নিজ নাবালিকা (১১) মেয়েকে নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন এবং কাউকে ঘটনাটি না জানানোর জন্য হত্যার হুমকি দেন। পরবর্তীতে মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। তদন্তকালে মেয়েটির পরিধেয় (ঘটনার সময়ের) পোশাকের রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়।

একইসঙ্গে তার বাবা ও মায়ের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে মেয়েটির পোশাকে বাবার বীর্জের অস্তীত্ব পাওয়া যায়। আদালতের সাক্ষ্য প্রমাণ ও রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল যাচাই-বাছাই করে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্টের তৎকালীন সৈনিক কামরুজ্জামান বাড়িতে যান। সন্ধ্যার পর একমাত্র মেয়েকে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বের হয়ে একপর্যায়ে তিনি উপজেলার সুতিরপাড়-ন্যাংটাদহের নির্জন রাস্তায় যান। সেখানে মেয়েকে হত্যার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করেন। রাত সোয়া আটটার দিকে মেয়েকে বনপাড়ার ভাড়া বাসায় আসলে মেয়েটি তার পরনের সালোয়ার বদলায় এবং কান্নাকাটি শুরু করে।

পরে তার মা মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনা জানতে পারেন। তাৎক্ষণিক বিষয়টি স্থানীয় মেয়র, কাউন্সিলরসহ প্রতিবেশীদের জানালে তারা মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পান। পরে কামারুজ্জামানকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে মামলা হলে উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান মামলাটি তদন্ত করে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার সময় মেয়েটির পরনের কাপড়ের রাসয়নিক পরীক্ষা করান। একইসঙ্গে বাবা ও মায়ের রক্তের রাসায়নিক পরীক্ষা করান। এ পরীক্ষায় মেয়েটির পোশাকে বাবার বীর্য পাওয়া যায়।

মামলাটি নাটোরের শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যালে বিচারে আসলে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার দুপুরে আদালতের বিচারক হাসানুজ্জামান আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ দেন। রায় ঘোষণাকালে আদালত ঘটনাটিকে জঘন্য ও বর্বরোচিত বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি এটাকে সমাজের চরম অবক্ষয় বলেও মন্তব্য করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি কাঠগড়ায় ছিলেন। রায়ের পর তাকে নাটোর কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌসলী একেএম শাহাজাহান কবির সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আসামি পৈশাচিক অপরাধ করেছে। তার বিরুদ্ধে দেয়া দণ্ডাদেশ সমাজে নীতিনৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মোজাম্মেল হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীত, প্রমাণিত হয় নি। তার মক্কেল রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করবেন।