ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারের সঙ্গে করা চুক্তিতে যা আছে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘সিকিউরিটি ডায়ালগ অ্যান্ড কো-অপারেশন’ এবং ‘বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস (বিএলও)’ নামে দুটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে প্রতিবেশী মিয়ানমার। টানা কয়েক বছর ধরে আলোচনার পর গতকাল বুধবার (২৪ অক্টোবর) মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি দুটি স্বাক্ষরিত হয়। নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করার জন্য চুক্তি দুটি করা হযেছে।

সোমবার বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান খান কামাল তিনদিনের সফরে মিয়ানমার পৌঁছান। মঙ্গলবার সকালে সেখানে প্রথমে সচিব পর্যায়ে বৈঠক এবং বিকালে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়।

যা বলা আছে সিকিউরিটি ডায়ালগ অ্যান্ড কো-অপারেশন সমঝোতা স্মারকে:

দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সংলাপ বিষয়ক চুক্তিটি বাংলাদেশ প্রস্তাব করে ২০১৪ সালে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে আলোচনার পরে মঙ্গলবার এ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির বিষয়বস্তু কী জানতে চাইলে এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল এমন একজন বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা বিশ্বাসের ঘাটতি এবং সেটিকে উদ্দেশ্য করে এ চুক্তিটি করা হয়েছে।’

এটি একটি নীতি পর্যায়ের চুক্তি এবং প্রথাগত ও অপ্রথাগত নিরাপত্তা ইস্যুর সব বিষয় একটি কাঠামোর অধীনে আলোচিত হওয়ার কথা এখানে বলা আছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা হয়, সেটি প্রয়োজনের তাগিদে হয় কিন্তু আমরা একটি কাঠামো তৈরি করতে চাই যেখানে দুই দেশ নিয়মিতভাবে তাদের নিরাপত্তা বিষয়গুলি আলোচনা করবে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে একটি কাঠামোর অধীনে বাংলাদেশ সিকিউরিটি ডায়ালগ বা নিরাপত্তা সংলাপ বৈঠক করে থাকে।বাংলাদেশ-মিয়ানমার নিরাপত্তা ডায়ালগ বছরে অন্তত একবার অনুষ্ঠিত হবে এবং দুইপক্ষ একমত হলে একাধিকবার হতে পারে। এটি একবার বাংলাদেশে এবং পরের বছর মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত হবে।

দুইদেশের সামরিক ও সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম, মানবপাচার, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, সমুদ্রে সশস্ত্র ডাকাতি ছাড়াও অন্যান্য প্রথাগত নিরাপত্তা ইস্যু এ চুক্তির অধীনে দুই দেশ আলোচনা করতে পারবে। এছাড়া অপ্রথাগত নিরাপত্তা ইস্যু যেমন মহামারি বা পোকা আক্রমণ বা অন্য ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিষয়েও এখানে আলাপের সুযোগ আছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

এটিতে কোন কোন মন্ত্রণালয় এবং সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামরিক বাহিনী, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি), কোস্টগার্ড, গোয়েন্দা সংস্থা, ইমিগ্রেশন এবং অন্যান্য সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয় বা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবে।

বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস (বিএলও)

বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস বা বিএলও প্রথম আলোচিত হয় ২০১৩ সালের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে। মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের মধ্যে এ ধরনের সহযোগিতা রয়েছে কিন্তু, সেটি মাদক বিষয়ক ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

এ চুক্তির বিষয়ে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সিকিউরিটি ডায়ালগ অ্যান্ড কো-অপারেশন চুক্তিটি নীতি পর্যায়ের, কিন্তু বিএলও মাঠ পর্যায়ে বাস্তবতাকে অনুধাবন করে দুই দেশ প্রতিদিন তাদের সীমান্ত কিভাবে কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করবে তার দিক নির্দেশনা।’

এটির প্রথম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য একাধিক বিএলও প্রতিষ্ঠা করা যার মাধ্যমে দুই দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনও সময়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে মাঠ পর্যায়ে যেকোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এটি আপদকালীন বা শান্তিকালীন উভয় সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে এবং এখানে আগাম তথ্য আদান প্রদানের সুযোগ আছে বলে তিনি জানান।

ওই কর্মকর্তা বলেন, দুইপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম বিএলও অফিস ঘুমধুম সীমান্তে প্রতিষ্ঠা হবে এবং পরবর্তীতে ২৭১ কিলোমিটারের মধ্যে ২১৫ কিলোমিটার স্থল সীমান্তের একাধিক জায়গায় এটি স্থাপিত হতে পারবে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য এখানে বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, স্থানীয় প্রশাসনসহ অন্যরা বিএলও এর সদস্য হবে।

১৯৮০ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্ত বিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং সেই চুক্তির যে জায়গাগুলিতে ঘাটতি আছে সেগুলিকেও পূরণ করবে এই বিএলও।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড় নিয়োগ দিচ্ছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র

মিয়ানমারের সঙ্গে করা চুক্তিতে যা আছে

আপডেট সময় ০৩:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘সিকিউরিটি ডায়ালগ অ্যান্ড কো-অপারেশন’ এবং ‘বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস (বিএলও)’ নামে দুটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে প্রতিবেশী মিয়ানমার। টানা কয়েক বছর ধরে আলোচনার পর গতকাল বুধবার (২৪ অক্টোবর) মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি দুটি স্বাক্ষরিত হয়। নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করার জন্য চুক্তি দুটি করা হযেছে।

সোমবার বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান খান কামাল তিনদিনের সফরে মিয়ানমার পৌঁছান। মঙ্গলবার সকালে সেখানে প্রথমে সচিব পর্যায়ে বৈঠক এবং বিকালে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়।

যা বলা আছে সিকিউরিটি ডায়ালগ অ্যান্ড কো-অপারেশন সমঝোতা স্মারকে:

দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সংলাপ বিষয়ক চুক্তিটি বাংলাদেশ প্রস্তাব করে ২০১৪ সালে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে আলোচনার পরে মঙ্গলবার এ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির বিষয়বস্তু কী জানতে চাইলে এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল এমন একজন বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা বিশ্বাসের ঘাটতি এবং সেটিকে উদ্দেশ্য করে এ চুক্তিটি করা হয়েছে।’

এটি একটি নীতি পর্যায়ের চুক্তি এবং প্রথাগত ও অপ্রথাগত নিরাপত্তা ইস্যুর সব বিষয় একটি কাঠামোর অধীনে আলোচিত হওয়ার কথা এখানে বলা আছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা হয়, সেটি প্রয়োজনের তাগিদে হয় কিন্তু আমরা একটি কাঠামো তৈরি করতে চাই যেখানে দুই দেশ নিয়মিতভাবে তাদের নিরাপত্তা বিষয়গুলি আলোচনা করবে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে একটি কাঠামোর অধীনে বাংলাদেশ সিকিউরিটি ডায়ালগ বা নিরাপত্তা সংলাপ বৈঠক করে থাকে।বাংলাদেশ-মিয়ানমার নিরাপত্তা ডায়ালগ বছরে অন্তত একবার অনুষ্ঠিত হবে এবং দুইপক্ষ একমত হলে একাধিকবার হতে পারে। এটি একবার বাংলাদেশে এবং পরের বছর মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত হবে।

দুইদেশের সামরিক ও সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম, মানবপাচার, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, সমুদ্রে সশস্ত্র ডাকাতি ছাড়াও অন্যান্য প্রথাগত নিরাপত্তা ইস্যু এ চুক্তির অধীনে দুই দেশ আলোচনা করতে পারবে। এছাড়া অপ্রথাগত নিরাপত্তা ইস্যু যেমন মহামারি বা পোকা আক্রমণ বা অন্য ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিষয়েও এখানে আলাপের সুযোগ আছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

এটিতে কোন কোন মন্ত্রণালয় এবং সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামরিক বাহিনী, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি), কোস্টগার্ড, গোয়েন্দা সংস্থা, ইমিগ্রেশন এবং অন্যান্য সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয় বা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবে।

বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস (বিএলও)

বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস বা বিএলও প্রথম আলোচিত হয় ২০১৩ সালের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে। মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের মধ্যে এ ধরনের সহযোগিতা রয়েছে কিন্তু, সেটি মাদক বিষয়ক ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

এ চুক্তির বিষয়ে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সিকিউরিটি ডায়ালগ অ্যান্ড কো-অপারেশন চুক্তিটি নীতি পর্যায়ের, কিন্তু বিএলও মাঠ পর্যায়ে বাস্তবতাকে অনুধাবন করে দুই দেশ প্রতিদিন তাদের সীমান্ত কিভাবে কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করবে তার দিক নির্দেশনা।’

এটির প্রথম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য একাধিক বিএলও প্রতিষ্ঠা করা যার মাধ্যমে দুই দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনও সময়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে মাঠ পর্যায়ে যেকোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এটি আপদকালীন বা শান্তিকালীন উভয় সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে এবং এখানে আগাম তথ্য আদান প্রদানের সুযোগ আছে বলে তিনি জানান।

ওই কর্মকর্তা বলেন, দুইপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম বিএলও অফিস ঘুমধুম সীমান্তে প্রতিষ্ঠা হবে এবং পরবর্তীতে ২৭১ কিলোমিটারের মধ্যে ২১৫ কিলোমিটার স্থল সীমান্তের একাধিক জায়গায় এটি স্থাপিত হতে পারবে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য এখানে বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, স্থানীয় প্রশাসনসহ অন্যরা বিএলও এর সদস্য হবে।

১৯৮০ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্ত বিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং সেই চুক্তির যে জায়গাগুলিতে ঘাটতি আছে সেগুলিকেও পূরণ করবে এই বিএলও।