ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

সৌদি রুটে ১৬৫ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে ২৩ হাজার যাত্রী

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ফলে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১৬৫টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এতে আকাশপথে যাতায়াতকারী প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মূলত গত ১০ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে, যা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে এ বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিতের কারণে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।

রোববার (১ নভেম্বর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই বিপর্যয়ে মোট ২২ হাজার ৯১৭ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ব্যাহত হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা ৮৮টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৪১টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২১টি, রিয়াদ এয়ারের ১৬টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে।

সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ হয়ে সৌদি আরবে যাতায়াতকারী ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইটও এই পরিস্থিতির কবলে পড়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য গন্তব্য হয়ে সৌদিগামী ট্রানজিট যাত্রীরাও একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর বিমান কর্তৃপক্ষ এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই স্থগিতাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান।

ফ্লাইট বাতিল ও সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে প্রবাসী কর্মী, ছুটিতে দেশে ফেরা বাংলাদেশি এবং জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেকে টিকিট পরিবর্তন কিংবা পরবর্তী ফ্লাইটের নিশ্চয়তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। সৌদি আরবের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা কম। এমতাবস্থায়, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ও সর্বশেষ সময়সূচি জেনে বিমানবন্দরে আসার জন্য যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবগামী এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে আকস্মিক বন্যা, সতর্ক ভারত ও বাংলাদেশ

সৌদি রুটে ১৬৫ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে ২৩ হাজার যাত্রী

আপডেট সময় ০১:১৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ফলে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১৬৫টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এতে আকাশপথে যাতায়াতকারী প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মূলত গত ১০ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে, যা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে এ বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিতের কারণে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।

রোববার (১ নভেম্বর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই বিপর্যয়ে মোট ২২ হাজার ৯১৭ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ব্যাহত হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা ৮৮টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৪১টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২১টি, রিয়াদ এয়ারের ১৬টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে।

সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ হয়ে সৌদি আরবে যাতায়াতকারী ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইটও এই পরিস্থিতির কবলে পড়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য গন্তব্য হয়ে সৌদিগামী ট্রানজিট যাত্রীরাও একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর বিমান কর্তৃপক্ষ এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই স্থগিতাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান।

ফ্লাইট বাতিল ও সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে প্রবাসী কর্মী, ছুটিতে দেশে ফেরা বাংলাদেশি এবং জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেকে টিকিট পরিবর্তন কিংবা পরবর্তী ফ্লাইটের নিশ্চয়তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। সৌদি আরবের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা কম। এমতাবস্থায়, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ও সর্বশেষ সময়সূচি জেনে বিমানবন্দরে আসার জন্য যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবগামী এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।