সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দিয়েছেন হাসান মাহমুদ। পাঁচ উইকেট তুলে নেওয়ার পথে তিনি গড়েছেন অনন্য এক রেকর্ড। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশিবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট পাওয়ার মালিক তিনি। এর আগে ৩৮ টেস্টে চারবার এই কীর্তি গড়েছিলেন শাহাদাৎ হোসেন, তাকে ছাড়িয়ে যেতে হাসানের লেগেছে মাত্র ১৯ টেস্ট। দেশের মাটিতে এটি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট। বাংলাদেশের বলতে গেলে কোনো আশাই নেই। প্রথম আধঘণ্টায়ও বলতে গেলে ঘটেনি তেমন কিছুই।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বেশ কঠিন ছিল বাংলাদেশের জন্য। গতকাল প্রথম দুই সেশনে মাত্র একটি উইকেট পেয়েছিল স্বাগতিকরা। আমির জাঙ্গু সেঞ্চুরি তুলে অপরাজিত ছিলেন, অন্যদিকে জাস্টিন গ্রিভস ছিলেন থিতু। কিন্তু আজ সকালে নতুন বল হাতে নিয়ে চিত্র বদলে দেন হাসান। ২১২ বল খেলা জাঙ্গুকে বিভ্রান্ত করে বল ছেড়ে দিতে বাধ্য করেন তিনি, যা সরাসরি আঘাত হানে স্টাম্পে। পরের বলেই রোস্টন চেজকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন এই ডানহাতি পেসার। জশুয়া বিশপের ক্ষেত্রে আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউয়ে তিনি বেঁচে যান, অন্যথায় হাসানের হ্যাট্রিক হয়ে যেত। জাঙ্গুকে দিয়েই সেটির শুরু— ২১২ বল খেলে ফেলা এই ব্যাটসম্যান হাসানের বল ছেড়ে দিয়ে কি না বোল্ড।
হাসানের পাঁচ উইকেটের মধ্যে দুজন ব্যাটসম্যান বিভ্রান্ত হয়ে বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হয়েছেন, যা তাঁর বোলিংয়ের ধারালো দিকটিই সামনে আনে। ইনিংসের শেষ উইকেটটি আসে লিটন দাসের দারুণ এক স্টাম্পিংয়ে। উইকেটকিপার হিসেবে লিটনের ক্ষিপ্রতায় জাস্টিন গ্রিভস প্যাভিলিয়নের পথ ধরলে হাসানের পঞ্চম উইকেট পূর্ণ হয়। লাঞ্চের আগে হাসান মাহমুদের শেষ উইকেটের জন্য চাইলে কিছুটা কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন লিটন দাস। তাঁর বলে যে ৫ ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন, তাদের দুজন বিভ্রান্ত হয়ে বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হন। তবু আজ হাসান মাহমুদের বলে উইকেটের গোড়ায় দাঁড়িয়ে জাস্টিন গ্রিভসকে যেভাবে লিটন স্টাম্পিং করলেন, সেটি অবিশ্বাস্য বললেও যেন কম বলা হয়।
হাসানের পাঁচ উইকেট পাওয়ার এই ধারাবাহিকতা বেশ চমকপ্রদ। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম ফাইফার পান তিনি। একই বছর সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে চেন্নাইতে, আগস্টে ডারউইন এবং গত মাসে আবুধাবিতেও পাঁচ উইকেট শিকার করেন এই পেসার। এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের মোট পাঁচটি ফাইফারই তিনি পেয়েছেন দেশের বাইরে, যা তার সাফল্যের ভাণ্ডারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তাঁর ধীরস্থির রানআপ এবং নিখুঁত লাইন-লেন্থে টানা বল করার ক্ষমতা বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পথচলায় আশার আলো দেখাচ্ছে। বিশেষ করে অফ স্টাম্পে নিয়মিত হিট করার দক্ষতা তাকে আলাদা করে তুলেছে। সিলেটের এই পারফরম্যান্স কেবল দলের জন্য স্বস্তিই আনেনি, বরং ব্যক্তিগত অর্জনেও তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল। ১৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে হাসান যেভাবে নিয়মিত ব্যবধানে সাফল্য পাচ্ছেন, তাতে ভবিষ্যতে আরও বড় রেকর্ডের আশা করাই যায়। এমন বোকা বানানোর ভাগ তো আর কাউকে দেওয়া যায় না।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























