ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির হলেন এ আর হাফিজ উল্লাহ

দীর্ঘ ২৩ বছর পর লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বুধবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলটির পক্ষ থেকে নতুন কমিটির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন আমির হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এ আর হাফিজ উল্লাহ, যিনি আগামী দুই বছর এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে তিনি জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। এ আর হাফিজ উল্লাহ মূলত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে জামায়াত প্রার্থীর এমন বক্তব্য নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করেছেন।

বিতর্কিত বক্তব্য ও সমালোচনা

নতুন আমিরের দায়িত্ব পাওয়ার আগে নির্বাচনী প্রচারণার সময় এ আর হাফিজ উল্লাহ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

চলতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগের সময় ভোটারদের উদ্দেশে তিনি এক বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা যদি ইসলামের পক্ষে, পবিত্র কোরআনের পক্ষে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন; আপনারা কী কী কারণে সওয়াবের ভাগী হবেন—এই দেওয়ার কারণে, আপনারা আল্লাহর পক্ষে দিছেন, পবিত্র কোরআনের পক্ষে দিছেন; আপনাদের জন্য জান্নাত অবধারিত। আর আমি বলি, যারা পবিত্র কোরআনের বিরুদ্ধে ভোট দিবে, তারা গুনাহগার হবে।’

প্রতিক্রিয়া ও সাংগঠনিক পরিকল্পনা

  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেই সময় হাফিজ উল্লাহ বলেছিলেন, ‘এমন কোনো বক্তব্য আমি দিয়েছি কি না, তা আমার মনে নেই। তবে ভুল করে মুখ ফসকে এমন কিছু বলে থাকতে পারি। অনেক সময় আমার বক্তব্য খণ্ডিতভাবেও উপস্থাপন করা হয়।’
  • নতুন দায়িত্বে নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে আজ বৃহস্পতিবার এ আর হাফিজ উল্লাহ বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে জেলা আমিরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এ দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং দলকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাব।’

দীর্ঘ সময় ধরে জেলা জামায়াতের নেতৃত্বে পরিবর্তনের মাধ্যমে দলটি এখন নতুনভাবে সাংগঠনিক সাজসজ্জায় মনোযোগ দিচ্ছে। হাফিজ উল্লাহর নেতৃত্ব আগামী দুই বছর দলটির স্থানীয় রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা নির্বাচনী প্রচারণার বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়টি নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর আবারও আলোচনায় এসেছে, তবে দলীয় হাইকমান্ড তার সাংগঠনিক দক্ষতার ওপরই ভরসা রেখেছে। সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সুসংগঠিত করতে তিনি এখন তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির হলেন এ আর হাফিজ উল্লাহ

লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির হলেন এ আর হাফিজ উল্লাহ

আপডেট সময় ০৭:৩৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ ২৩ বছর পর লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বুধবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলটির পক্ষ থেকে নতুন কমিটির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন আমির হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এ আর হাফিজ উল্লাহ, যিনি আগামী দুই বছর এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে তিনি জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। এ আর হাফিজ উল্লাহ মূলত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে জামায়াত প্রার্থীর এমন বক্তব্য নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করেছেন।

বিতর্কিত বক্তব্য ও সমালোচনা

নতুন আমিরের দায়িত্ব পাওয়ার আগে নির্বাচনী প্রচারণার সময় এ আর হাফিজ উল্লাহ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

চলতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগের সময় ভোটারদের উদ্দেশে তিনি এক বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা যদি ইসলামের পক্ষে, পবিত্র কোরআনের পক্ষে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন; আপনারা কী কী কারণে সওয়াবের ভাগী হবেন—এই দেওয়ার কারণে, আপনারা আল্লাহর পক্ষে দিছেন, পবিত্র কোরআনের পক্ষে দিছেন; আপনাদের জন্য জান্নাত অবধারিত। আর আমি বলি, যারা পবিত্র কোরআনের বিরুদ্ধে ভোট দিবে, তারা গুনাহগার হবে।’

প্রতিক্রিয়া ও সাংগঠনিক পরিকল্পনা

  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেই সময় হাফিজ উল্লাহ বলেছিলেন, ‘এমন কোনো বক্তব্য আমি দিয়েছি কি না, তা আমার মনে নেই। তবে ভুল করে মুখ ফসকে এমন কিছু বলে থাকতে পারি। অনেক সময় আমার বক্তব্য খণ্ডিতভাবেও উপস্থাপন করা হয়।’
  • নতুন দায়িত্বে নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে আজ বৃহস্পতিবার এ আর হাফিজ উল্লাহ বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে জেলা আমিরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এ দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং দলকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাব।’

দীর্ঘ সময় ধরে জেলা জামায়াতের নেতৃত্বে পরিবর্তনের মাধ্যমে দলটি এখন নতুনভাবে সাংগঠনিক সাজসজ্জায় মনোযোগ দিচ্ছে। হাফিজ উল্লাহর নেতৃত্ব আগামী দুই বছর দলটির স্থানীয় রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা নির্বাচনী প্রচারণার বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়টি নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর আবারও আলোচনায় এসেছে, তবে দলীয় হাইকমান্ড তার সাংগঠনিক দক্ষতার ওপরই ভরসা রেখেছে। সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সুসংগঠিত করতে তিনি এখন তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।