ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ অবসানে সৌদি আরবের সঙ্গে গোপন আলোচনার টেবিলে বসেছে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। গত ৫ নভেম্বর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত নিরসনে হুথিরা ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের টানা বিমান হামলা ও কয়েক বছর ধরে চলা অবরোধে ইয়েমেনের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার মাশুল হিসেবেই এই বিশাল অঙ্কের অর্থ চেয়েছে তারা। তবে এই বিশাল অর্থ দাবির পাশাপাশি হুথিদের রাজনৈতিক স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি রিয়াদের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা বৃদ্ধি এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী কৌশলগত এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকেই আলোচনার বিষয়টি আলোচনায় আসে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মূলত শক্তিশালী সামরিক অবস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে যেতে অনিচ্ছুক। কারণ, হুথিদের ইয়েমেনের বৈধ শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে রিয়াদ দীর্ঘ সময় ধরে যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, তাদেরই বৈধতা দেওয়া হবে। এর ফলে সৌদি-সমর্থিত বর্তমান ইয়েমেনি সরকারের অস্তিত্ব ও অবস্থান চরম সংকটের মুখে পড়তে পারে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে যখন হুথিরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল এডেনের কাছাকাছি নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। বিপরীতে, রিয়াদের ওপর নিজস্ব ভূখণ্ড ও অবকাঠামো সুরক্ষার চাপ বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে সেনা মোতায়েন সৌদি আরবের ভেতরে অভ্যন্তরীণ সমালোচনা এবং ব্যাপক প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন নিয়েও সৌদি আরব এখন সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতিমধ্যে হুথিবিরোধী অভিযান থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা ইয়েমেনের আক্রমণাত্মক কোনো সামরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেবে না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যাপারে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর ফলে সৌদি আরব একা অনেকটা চাপে পড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি সামরিকভাবে জড়াতে অনাগ্রহী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে আগে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে হুথিদের হামলার সক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে ইরান। লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং সৌদি সীমান্তের সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখন যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি, যার ফলে ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ ও এই সংঘাতের সমাপ্তি এখনো অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। এদিকে ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাতের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























