ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

রেকর্ড আসন পেয়েও ইসরায়েলি সরকার গঠনে অনিশ্চয়তায় আরব দল

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম দল রেকর্ড পরিমাণ আসন অর্জন করেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে আরব দল দুটি যৌথভাবে ১৭টি আসন পেতে পারে। তবে নির্বাচনী এই সাফল্য সত্ত্বেও দেশটিতে সরকার গঠন নিয়ে গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মূল কারণ হলো ইসরায়েলের প্রধান ইহুদি দলগুলোর পক্ষ থেকে আরব দলগুলোকে সরকার গঠনের অংশীদার হিসেবে মেনে নিতে কঠোর আপত্তি। অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় ফিলিস্তিন স্টাডিজবিষয়ক প্রতিষ্ঠান প্যালেস্টিনিয়ান ফোরাম ফর ইসরায়েলি স্টাডিজের মহাপরিচালক হোনাইদা ঘানাম বলেন, আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে সরকার গঠনের বৈধ অংশীদার হিসেবে মেনে নিতে অধিকাংশ ইসরায়েলি দলের আপত্তি রয়েছে।

নির্বাচনের আংশিক ফলাফল ও বুথফেরত জরিপ অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি এবং বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের জোট ৪৯টি আসন পেতে পারে। এদিকে টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্যমতে, লিকুদ জোট ৫৩টি এবং আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সীমা স্পর্শ করতে পারছে না। টাইমস অব ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, আইজেনকটের বিরোধী জোটের সঙ্গে আরব দলগুলো যুক্ত হলে তাদের মোট আসনসংখ্যা ৬৬-তে পৌঁছাতে পারে, যা নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যথেষ্ট। অন্যদিকে, ইহুদি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট পেতে পারে ৫৩ আসন। আর আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮ আসন। এতে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সীমা অতিক্রম করা সম্ভব।

নির্বাচনী ফলাফলে আরব ভোটের এই পুনরুত্থানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল শেকে। তার মতে, ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে এতো বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তবে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ নাজ্জারের দাবি, বিরোধীদের অনীহা মূলত আদর্শিক। গাদি আইজেনকট ইতিমধ্যে আরব দলগুলোর প্রতি আনুগত্যের শর্ত জুড়ে দিয়েছেন এবং তাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।

অন্যদিকে, আরব দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং ইহুদি দলগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে সরকার গঠনে অচলাবস্থা কাটছে না। জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথা বললেও, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যানের মতো নেতারা কেবল ‘জায়নবাদী’ দল নিয়ে সরকার গঠনের পক্ষে। উল্টোদিকে, রা’আম নেতা মানসুর আব্বাস অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব পাওয়ার শর্তে সরকারে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এই জটিল সমীকরণে ইয়ার গোলানের মতো কিছু নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার পক্ষে মত দিয়েছেন।

তিনি মনে করেন, ইহুদি ও আরব ভোটের মধ্যে কৃত্রিম বিভাজন আর টিকিয়ে রাখা উচিত নয়।

ইসরায়েলের রাজনীতিতে ২০২১ সালে রা’আমের সমর্থনের ভিত্তিতে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের সরকার গঠনের নজির থাকলেও, সেই জোট দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন নির্বাচন, সংখ্যালঘু সরকার, বিরোধী জোটে দলবদল কিংবা জাতীয় ঐক্যের সরকার—এই চারটি বিকল্প পথ এখন দেশটির সামনে খোলা রয়েছে। মূলত ইহুদি দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার ওপরই নির্ভর করছে আরব দলগুলোর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজায় ১০ কেজি ক্যাপ্টাগনসহ ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনা আটক

রেকর্ড আসন পেয়েও ইসরায়েলি সরকার গঠনে অনিশ্চয়তায় আরব দল

আপডেট সময় ০৮:২৫:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম দল রেকর্ড পরিমাণ আসন অর্জন করেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে আরব দল দুটি যৌথভাবে ১৭টি আসন পেতে পারে। তবে নির্বাচনী এই সাফল্য সত্ত্বেও দেশটিতে সরকার গঠন নিয়ে গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মূল কারণ হলো ইসরায়েলের প্রধান ইহুদি দলগুলোর পক্ষ থেকে আরব দলগুলোকে সরকার গঠনের অংশীদার হিসেবে মেনে নিতে কঠোর আপত্তি। অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় ফিলিস্তিন স্টাডিজবিষয়ক প্রতিষ্ঠান প্যালেস্টিনিয়ান ফোরাম ফর ইসরায়েলি স্টাডিজের মহাপরিচালক হোনাইদা ঘানাম বলেন, আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে সরকার গঠনের বৈধ অংশীদার হিসেবে মেনে নিতে অধিকাংশ ইসরায়েলি দলের আপত্তি রয়েছে।

নির্বাচনের আংশিক ফলাফল ও বুথফেরত জরিপ অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি এবং বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের জোট ৪৯টি আসন পেতে পারে। এদিকে টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্যমতে, লিকুদ জোট ৫৩টি এবং আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সীমা স্পর্শ করতে পারছে না। টাইমস অব ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, আইজেনকটের বিরোধী জোটের সঙ্গে আরব দলগুলো যুক্ত হলে তাদের মোট আসনসংখ্যা ৬৬-তে পৌঁছাতে পারে, যা নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যথেষ্ট। অন্যদিকে, ইহুদি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট পেতে পারে ৫৩ আসন। আর আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮ আসন। এতে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সীমা অতিক্রম করা সম্ভব।

নির্বাচনী ফলাফলে আরব ভোটের এই পুনরুত্থানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল শেকে। তার মতে, ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে এতো বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তবে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ নাজ্জারের দাবি, বিরোধীদের অনীহা মূলত আদর্শিক। গাদি আইজেনকট ইতিমধ্যে আরব দলগুলোর প্রতি আনুগত্যের শর্ত জুড়ে দিয়েছেন এবং তাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।

অন্যদিকে, আরব দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং ইহুদি দলগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে সরকার গঠনে অচলাবস্থা কাটছে না। জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথা বললেও, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যানের মতো নেতারা কেবল ‘জায়নবাদী’ দল নিয়ে সরকার গঠনের পক্ষে। উল্টোদিকে, রা’আম নেতা মানসুর আব্বাস অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব পাওয়ার শর্তে সরকারে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এই জটিল সমীকরণে ইয়ার গোলানের মতো কিছু নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার পক্ষে মত দিয়েছেন।

তিনি মনে করেন, ইহুদি ও আরব ভোটের মধ্যে কৃত্রিম বিভাজন আর টিকিয়ে রাখা উচিত নয়।

ইসরায়েলের রাজনীতিতে ২০২১ সালে রা’আমের সমর্থনের ভিত্তিতে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের সরকার গঠনের নজির থাকলেও, সেই জোট দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন নির্বাচন, সংখ্যালঘু সরকার, বিরোধী জোটে দলবদল কিংবা জাতীয় ঐক্যের সরকার—এই চারটি বিকল্প পথ এখন দেশটির সামনে খোলা রয়েছে। মূলত ইহুদি দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার ওপরই নির্ভর করছে আরব দলগুলোর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব।