ওমানের মুসান্দাম উপকূল থেকে ১.৬ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পানামার পতাকাবাহী এই জাহাজটিতে হামলার পর আগুন ধরে যায়। দেশটির মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টারের সাথে সমন্বয় করে ওমানের নৌবাহিনী তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এবং জাহাজটির ২৫ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার।
একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী জাহাজ আটকের দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসির ভাষ্যমতে, জাহাজগুলো তাদের শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সহায়তায় অনুমোদনহীন পথে চলাচলের চেষ্টা করছিল। বারবার বেতার সতর্কবার্তা দিলেও জাহাজগুলো তা অগ্রাহ্য করে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করতে হবে এবং তা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে সম্পন্ন করতে হবে। ওমান উপকূলের দক্ষিণ দিকের জলপথটিকে ইরান এখন অনুমোদনহীন হিসেবে বিবেচনা করছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজ তিনটি নিজেদের শনাক্তকরণ ও অবস্থান নির্ণয়ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তারা চলাচল অব্যাহত রাখে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ইরানের লাভান দ্বীপের দক্ষিণে ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে আরও একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাজটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়লেও এর নাবিকেরা অক্ষত আছেন বলে জানা গেছে। এ সময় কয়েকবার বেতারবার্তা পাঠিয়ে জাহাজগুলোকে সতর্ক করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। সেই থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। এই উত্তেজনার জেরে ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দেশটির বন্দরগুলোয় অবরোধ আরোপ করেছে, যার ফলে ইরানের তেল রপ্তানি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বর্তমানে আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























