দেশজুড়ে মোট ১৪টি আঞ্চলিক কেন্দ্রে একযোগে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড ২০২৭-এর প্রাথমিক পর্ব। উচ্চমাধ্যমিক ও এ-লেভেল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ঢাকা অঞ্চল থেকে ২৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ঢাকা অঞ্চলে বিভিন্ন কলেজের বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের এইচএসসি এবং ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত ২৮৭ জনের মধ্যে এই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়।
প্রতিটি কেন্দ্রে মেধা যাচাইয়ের পর সেরা ১০ জন বিজয়ীর হাতে সনদ ও পদক তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকে সনদপত্র প্রদান করা হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ ও বাংলাদেশ রসায়ন সমিতি যৌথভাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।
সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢাকা অঞ্চলের এই পর্বের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, এমন আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের। রসায়ন বিভাগের র্যাঙ্কিংয়ের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এই প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞানমনস্কতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উদ্বোধন শেষে ক্যাম্পাসে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
প্রতিটি কেন্দ্র থেকে মেধাতালিকায় এগিয়ে থাকা প্রথম ১০ শিক্ষার্থী আগামী ২৮ নভেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অনুষ্ঠিতব্য চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। সেখান থেকে চূড়ান্ত মেধাক্রম অনুযায়ী নির্বাচিত চারজন শিক্ষার্থী ২০২৭ সালে তাইওয়ানের তাইপেতে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতা আগামী বছরের ১৯ থেকে ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন বলেন, রসায়নবিষয়ক জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এ ধরণের প্রতিযোগিতা একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. এমরান কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এ কে এম লুৎফর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ সৈয়দ আলম এবং বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মুখ্য সচিব মো. আবদুল করীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক ও রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 











