চট্টগ্রাম নগরের জামাল খান এলাকার ব্যস্ত সড়কে প্রেসক্লাবের সামনে ফুটপাতে মশারি টানিয়ে বসে এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানিয়েছেন একদল তরুণী। শুক্রবার সন্ধ্যায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মশা নিধনে সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তুলে ধরতে তাঁরা এই অবস্থান নেন। কর্মসূচিতে ‘মেয়র বড় নাকি মশা বড়’ এমন ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয় এবং পথচারীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ ও গণশুনানি করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলের পাশে বিলি করা হয় প্রচারপত্র। সেখানে পথচারীদের নিয়ে গণশুনানিও অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বারবার সরকারি দলের নেতারা ও মেয়র ভুলে যান, আমরা শহীদ ওসমান হাদির উত্তরসূরি, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুসারী, এক দফার ঘোষক নাহিদ ইসলামের অনুসারী।
এই কর্মসূচির উদ্যোক্তা ‘জুলাই যোদ্ধা’ হাশমিরা হায়দার চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে এতে অংশ নেন সাদিয়া আফরিন, নুসরাত জাহান, তানিয়া আমিন, আয়শা চৌধুরী ও আবদুল্লাহ আল মামুন। গণশুনানিতে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ মশকনিধন কার্যক্রম নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানান। প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপের বদলে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে মশা মরছে না। যদিও এই অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই সাপেক্ষে। হাশমিরা হায়দার চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘মেয়রের কাছে মশার ক্ষমতা বেশি মনে হচ্ছে, তাই আমরা মশারির ভেতর থেকে কথা বলছি।’
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু হলেও কেবল সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনেই মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। সব মিলিয়ে ১১ জেলায় চলতি বছরে এ পর্যন্ত ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ভয়াবহ উদ্বেগের বিষয় হলো, এ বছরের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭৩ শতাংশই ঘটেছে সেপ্টেম্বরে। পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছিল মাত্র একজনের, জুনে দুজন, জুলাইয়ে দুজন এবং আগস্টে একজন। চট্টগ্রাম বিভাগে চলতি বছরের প্রথম ৮ মাসে ৬ জনের মৃত্যু হলেও সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনেই মারা গেছেন ১৬ জন। গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে এর আগের দিন পর্যন্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও সেপ্টেম্বরে রেকর্ড হারে বেড়েছে। আগস্ট মাসে বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৮৭৫ জন, যা সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনে বেড়ে ৫ হাজার ৫৮০ জনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে রোগী বেড়েছে ২ হাজার ৭০৫ জন। প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের শুরু থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগে মোট ১১ হাজার ১৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















