পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ১০ বিধায়কের সদস্যপদ বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। গত বৃহস্পতিবার এক শুনানির পর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। উল্লেখ্য, এই ১০ জন বিধায়কই গত বিধানসভা নির্বাচনে মমতার ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকে জয়ী হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তারা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত নতুন দলে যোগ দিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে বিদ্রোহ করেন। ঋতব্রতের সঙ্গে থাকা এই বিদ্রোহী ১০ বিধায়কের বিধানসভার সদস্যপদ খারিজের আবেদনের শুনানি হয় রাজ্য বিধানসভার স্পিকারের দরবারে। বিকেলের শুনানিতে স্পিকার ডেকে নেন ১০ বিধায়ককে।
রাজ্য বিধানসভার সর্বশেষ নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল তৃণমূল কংগ্রেস ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৮০টিতে জয়ী হয়েছিল এবং ২০৮টি আসন পেয়েছিল। নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিজেপি সরকার গঠন করার পর থেকেই মমতার দলে অস্থিরতা ও ভাঙন দেখা দেয়। দলের ভেতরে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অন্তত ৬৫ জন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন দলে যোগদানের ঘোষণা দেন। রাজ্য বিধানসভার এবারের নির্বাচনে মমতার মূল তৃণমূল কংগ্রেস ২৯৪ আসনের মধ্যে ৮০ আসনে জয়লাভ করেছিল এবং ২০৮ আসন পেয়েছিল। নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয়ে সরকার গড়লে মমতার তৃণমূলে ভাঙন শুরু হয়।
দলবদলের এই ঘটনাপ্রবাহে তৃণমূলের বর্তমান বিধায়ক শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় বিদ্রোহীদের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে দলবিরোধী আইনে বিধায়ক পদ বাতিলের আবেদন করেন। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু গতকাল বিকেলে সংশ্লিষ্ট ১০ বিধায়ক ও তাঁদের আইনজীবীকে শুনানির জন্য তলব করেন। শুনানির সময় বিধায়কেরা দাবি করেন যে, শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই আবেদন করেননি। তাদের যুক্তি ছিল, ১৯৮৬ সালের যে দলবিরোধী আইনের দোহাই দিয়ে আবেদনটি করা হয়েছে, তা বর্তমানে কার্যত অকার্যকর। এতে ১০ বিধায়ক এবং তাঁদের একজন আইনজীবী অংশ নেন।
যুক্তিগুলো শোনার পর স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু আবেদনটি খারিজ করে দেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, চাইলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে আবেদনকারীরা পুনরায় এই বিষয়ে আবেদন করতে পারবেন। এই ১০ জন বিধায়কের মধ্যে অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, আকতারুজ্জামান এবং বিপ্লব মিত্রের মতো পরিচিত মুখেরা রয়েছেন। বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল—উভয়ই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পৃথক নাম ও প্রতীক পেয়েছে। মমতার দলের নতুন নাম ‘মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’, অন্যদিকে ঋতব্রতের দলের নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ ও প্রতীক ‘খাম’। রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে এই দুই দল নিজেদের নতুন প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















