ঢাকা ০১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

ইরানকে নতুন শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমাতে হবে

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন চুক্তির জন্য মার্কিন প্রশাসন তাদের অবস্থান কিছুটা পুনর্বিন্যাস করেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি হিসেবে তেহরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনতে হবে। ভ্যান্স রয়টার্সকে প্রশ্ন রাখেন, যদি ইরানের উদ্দেশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না-ই হয়, তবে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ জ্বালানির কেন প্রয়োজন? আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণ করেছে, যা অস্ত্র তৈরির জন্য আবশ্যক ৯০ শতাংশের তুলনায় কম।

বাইডেন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ভ্যান্সের এই বক্তব্যকে অনেকেই ওয়াশিংটনের নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে প্রশাসনের অন্দরে এখনো কঠোর সুর বিদ্যমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বারবার জোর দিয়ে বলছেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে না। তিনি আরও দাবি করেছেন, তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং দেশটির অর্থনীতি বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন যে, এই সংঘাত ‘ভালো পথে অথবা মন্দ পথে’ শেষ হতে বাধ্য। ভ্যান্স জানিয়েছেন, তারা প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রস্তাবের ব্যাপারে তেহরানের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনাকে ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার অভিযোগ, কূটনীতির আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, এর আগেও আলোচনার টেবিলে বসার পর তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হুমকির মুখে আলোচনার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যদি আলোচনা কেবল ‘ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তিতে’ অনুষ্ঠিত হয়, তবেই সংঘাত নিরসনের পথ খোলা সম্ভব হতে পারে।

ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক সাইমন মাবনের মতে, ওয়াশিংটন পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে সুর নরম করার চেষ্টা করলেও তেহরানের আসল দুশ্চিন্তা সেটি নয়। ইরান মূলত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেয়া, জব্দ থাকা অর্থ ফেরত পাওয়া এবং লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি আগ্রাসনের স্থায়ী অবসানের দাবি জানিয়ে আসছে। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ অধিবেশনে ইরান ধাপে ধাপে চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তা নাকচ করে দেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার চাপ থেকেই ওয়াশিংটন কিছুটা ছাড় দেয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে পানামার পতাকাবাহী এক ট্যাংকারে হামলায় ১২ নাবিক আহতের ঘটনা প্রমাণ করে, অঞ্চলটি এখনো চরম ঝুঁকিপূর্ণ। পরমাণু কর্মসূচি কমানোর মার্কিন চাপের চেয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের মতো অমীমাংসিত ইস্যুগুলোই এখন টেকসই যুদ্ধবিরতির মূল অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও পানামার পতাকাবাহী এক তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় ১২ জন নাবিক আহত হওয়ার মতো ঘটনা প্রমাণ করে প্রণালিটি এখনও সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানকে নতুন শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমাতে হবে

আপডেট সময় ১১:০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন চুক্তির জন্য মার্কিন প্রশাসন তাদের অবস্থান কিছুটা পুনর্বিন্যাস করেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি হিসেবে তেহরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনতে হবে। ভ্যান্স রয়টার্সকে প্রশ্ন রাখেন, যদি ইরানের উদ্দেশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না-ই হয়, তবে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ জ্বালানির কেন প্রয়োজন? আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণ করেছে, যা অস্ত্র তৈরির জন্য আবশ্যক ৯০ শতাংশের তুলনায় কম।

বাইডেন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ভ্যান্সের এই বক্তব্যকে অনেকেই ওয়াশিংটনের নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে প্রশাসনের অন্দরে এখনো কঠোর সুর বিদ্যমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বারবার জোর দিয়ে বলছেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে না। তিনি আরও দাবি করেছেন, তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং দেশটির অর্থনীতি বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন যে, এই সংঘাত ‘ভালো পথে অথবা মন্দ পথে’ শেষ হতে বাধ্য। ভ্যান্স জানিয়েছেন, তারা প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রস্তাবের ব্যাপারে তেহরানের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনাকে ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার অভিযোগ, কূটনীতির আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, এর আগেও আলোচনার টেবিলে বসার পর তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হুমকির মুখে আলোচনার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যদি আলোচনা কেবল ‘ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তিতে’ অনুষ্ঠিত হয়, তবেই সংঘাত নিরসনের পথ খোলা সম্ভব হতে পারে।

ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক সাইমন মাবনের মতে, ওয়াশিংটন পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে সুর নরম করার চেষ্টা করলেও তেহরানের আসল দুশ্চিন্তা সেটি নয়। ইরান মূলত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেয়া, জব্দ থাকা অর্থ ফেরত পাওয়া এবং লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি আগ্রাসনের স্থায়ী অবসানের দাবি জানিয়ে আসছে। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ অধিবেশনে ইরান ধাপে ধাপে চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তা নাকচ করে দেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার চাপ থেকেই ওয়াশিংটন কিছুটা ছাড় দেয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে পানামার পতাকাবাহী এক ট্যাংকারে হামলায় ১২ নাবিক আহতের ঘটনা প্রমাণ করে, অঞ্চলটি এখনো চরম ঝুঁকিপূর্ণ। পরমাণু কর্মসূচি কমানোর মার্কিন চাপের চেয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের মতো অমীমাংসিত ইস্যুগুলোই এখন টেকসই যুদ্ধবিরতির মূল অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও পানামার পতাকাবাহী এক তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় ১২ জন নাবিক আহত হওয়ার মতো ঘটনা প্রমাণ করে প্রণালিটি এখনও সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।