ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা

সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই আইনটি যেন কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক না হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। সোমবার সকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা সভায় এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, খসড়া বিলটি মন্ত্রিসভায় আলোচনার পর স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটা সার্টেন টাইম লিমিট দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ক্যাবিনেটে আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত দিয়েছে আমার যেন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করি। যারা সাইবার স্পেসে কাজ করেন, আইটি এক্সপার্ট তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলি। আরও অন্যান্য বিষয় পরামর্শ আকারে তাদের কাছ থেকে আমরা পাবো।’। যদি এই আইন গ্রহণ করা হয়, তাহলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে।’।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) মহাসচিব আব্দুস সালামসহ সংশ্লিষ্টরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণের জন্য খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখান থেকে শিক্ষার্থী, মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংগৃহীত মতামতগুলো কম্পাইল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট সম্পাদকদের সাথে কথা বলেছি। প্রস্তাবিত আইনটি গণমাধ্যমকে হয়রানি করার জন্য নয়। আমরা চাই না কোনো সাংবাদিক অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোক। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে আদালতের অনুমতি নেয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে।’ এখানে আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইনটা করতে চাইনি, চাইও না এবং কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক সেটা আমরা চাই না।’ ‘যাতে সংবাদপত্র এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়ার কোনো সাংবাদিক অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন।

আইনটিতে আপিল নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা যুক্ত করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে, যাতে কেউ অনির্দিষ্টকাল ধরে ঝুলে না থাকে। মন্ত্রী জানান, সবার পরামর্শের ভিত্তিতে আইনটি আরও সমৃদ্ধ ও যুগোপযোগী করে তোলা হবে।

আলোচনা শেষে প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী মন্তব্য করেন, যথাযথ সংশোধনী ছাড়া সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট পাস হলে তা দেশের জন্য বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াবে এবং বাংলাদেশ এক বৃহৎ কারাগারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এদিকে, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম আইনের খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এই আইনে মোবাইল কোর্টের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি ভালো প্রস্তাব তৈরি করা সম্ভব হবে, যা গণমাধ্যমকে যথাযথ সুরক্ষা দেবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে রাকুল প্রীত ও প্রযোজক ভাসুর অফিসে

সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:২০:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই আইনটি যেন কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক না হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। সোমবার সকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা সভায় এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, খসড়া বিলটি মন্ত্রিসভায় আলোচনার পর স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটা সার্টেন টাইম লিমিট দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ক্যাবিনেটে আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত দিয়েছে আমার যেন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করি। যারা সাইবার স্পেসে কাজ করেন, আইটি এক্সপার্ট তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলি। আরও অন্যান্য বিষয় পরামর্শ আকারে তাদের কাছ থেকে আমরা পাবো।’। যদি এই আইন গ্রহণ করা হয়, তাহলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে।’।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) মহাসচিব আব্দুস সালামসহ সংশ্লিষ্টরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণের জন্য খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখান থেকে শিক্ষার্থী, মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংগৃহীত মতামতগুলো কম্পাইল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট সম্পাদকদের সাথে কথা বলেছি। প্রস্তাবিত আইনটি গণমাধ্যমকে হয়রানি করার জন্য নয়। আমরা চাই না কোনো সাংবাদিক অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোক। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে আদালতের অনুমতি নেয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে।’ এখানে আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইনটা করতে চাইনি, চাইও না এবং কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক সেটা আমরা চাই না।’ ‘যাতে সংবাদপত্র এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়ার কোনো সাংবাদিক অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন।

আইনটিতে আপিল নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা যুক্ত করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে, যাতে কেউ অনির্দিষ্টকাল ধরে ঝুলে না থাকে। মন্ত্রী জানান, সবার পরামর্শের ভিত্তিতে আইনটি আরও সমৃদ্ধ ও যুগোপযোগী করে তোলা হবে।

আলোচনা শেষে প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী মন্তব্য করেন, যথাযথ সংশোধনী ছাড়া সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট পাস হলে তা দেশের জন্য বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াবে এবং বাংলাদেশ এক বৃহৎ কারাগারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এদিকে, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম আইনের খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এই আইনে মোবাইল কোর্টের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি ভালো প্রস্তাব তৈরি করা সম্ভব হবে, যা গণমাধ্যমকে যথাযথ সুরক্ষা দেবে।