ঢাকা ১২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি

সেন্ট ক্রিস্টোফার লিলি: প্রকৃতি ও সুবাসের এক অনন্য নিদর্শন

গত ৮ মে সকালে ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের বিশ্বেশ্বরী দেবী রোডে বিকাশ সার্ভিস সেন্টারের সামনে সেন্ট ক্রিস্টোফার লিলি গাছটিতে নজর কাড়া সাদা ফুল ফুটতে দেখা যায়। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, মুমিনুন্নিসা সরকারি কলেজের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান চয়ন বিকাশ ভদ্র জানান, প্রাকৃতিকভাবে এই গাছটি তার উজ্জ্বল সাদা পাপড়ি এবং তীব্র সুবাসের কারণে বাগানে অনন্য আবহ তৈরি করে। খুব সকালে হাঁটতে বেরিয়ে ফেরার পথে ব্রহ্মপুত্রতীরের বিশ্বেশ্বরী দেবী রোডে বিকাশ সার্ভিস সেন্টারের সামনে লাগানো সেন্ট ক্রিস্টোফার লিলিগাছে চোখ আটকে গেল। কিন্তু আমার আগে কেউ ফুল তুলে নিয়ে যাওয়ায় ছবি তুলতে পারিনি। প্রকৃতির অপূর্ব রূপ ও বৈচিত্র্যের এক অনুপম নিদর্শন হলো সেন্ট ক্রিস্টোফার লিলি। সেন্ট ক্রিস্টোফার লিলি তার স্বতন্ত্র ও আকর্ষণীয় বাহ্যিক গঠনের কারণে খুব সহজেই সবার নজর কাড়ে।

অ্যামারিলিডাসি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত বহুবর্ষজীবী এই কন্দজ উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম ক্রিনাম জ্যাগাস (Crinum jagus)। মূলত আফ্রিকার ক্রান্তীয় অঞ্চলের গাছ হলেও বর্তমানে উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে এটি ব্যাপকভাবে জন্মে। মাটির নিচে থাকা বিশাল আকৃতির কন্দ থেকে এটি প্রাণশক্তি সংগ্রহ করে, যার ব্যাস ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এই কন্দ উদ্ভিদটিকে প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে সহায়তা করে।

গাছটির পাতাগুলো ফিতার মতো প্রশস্ত ও গাঢ় সবুজ রঙের হয়ে থাকে। একটি পূর্ণবয়স্ক উদ্ভিদের পাতা ৬০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ৮ থেকে ১২ সেন্টিমিটার চওড়া হতে পারে। এর কেন্দ্রস্থল থেকে বের হওয়া শক্ত, ফাঁপা ও দীর্ঘ পুষ্পদণ্ডটি ৫০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ হয়। এই ডাঁটার মাথায় ছাতার মতো গুচ্ছাকারে ৪ থেকে ১২টি সুগন্ধি সাদা ফুল ফোটে, যা বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে চারপাশ মিষ্টি গন্ধে ভরিয়ে তোলে। প্রতিটি ফুলের ছয়টি পাপড়ি গোড়ার দিকে নল আকৃতির হয় এবং কেন্দ্রে থাকে সুগঠিত পুংকেশর। পাতাগুলোর গঠন ফিতার মতো বা কিছুটা বল্লমাকার। পাতাগুলোর উপরিভাগ মসৃণ এবং এর মাঝামাঝি অংশ কিছুটা বাঁকানো থাকে, যা পুরো গাছটিকে একটি প্রস্ফুটিত গোলাপের আকৃতির মতো ছড়িয়ে থাকতে সাহায্য করে।

সেন্ট ক্রিস্টোফার লিলির শোভা বর্ধনের ক্ষমতার পাশাপাশি এর ব্যাপক ব্যবহারিক গুরুত্ব রয়েছে। পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও বাড়ির আঙিনায় এটি সীমানা গাছ হিসেবে জনপ্রিয়। আবার ছায়াযুক্ত স্থানে ভালো জন্মানোর কারণে অনেকেই এটিকে ব্যালকনি বা ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবেও চাষ করেন।

আফ্রিকান প্রথাগত চিকিৎসাশাস্ত্রে এই উদ্ভিদটি বেশ সমাদৃত। স্থানীয় কবিরাজ ও বিশেষজ্ঞরা এর কন্দ ও পাতার নির্যাস জ্বর, কাশি, বাতের ব্যথা ও প্রদাহের মতো শারীরিক সমস্যায় ব্যবহার করে থাকেন। এমনকি স্মৃতিভ্রমের চিকিৎসাতেও এর কার্যকর প্রয়োগ রয়েছে বলে জানা যায়। সামান্য পরিচর্যা ও আর্দ্রতা নিশ্চিত করতে পারলে এই উদ্ভিদ দীর্ঘকাল প্রকৃতিতে তার সৌন্দর্য ও সুগন্ধ ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। এ উদ্ভিদটি তার মনোমুগ্ধকর সুবাস, বরফের মতো উজ্জ্বল সাদা ফুল এবং বিশালাকার পাতার জন্য সারা বিশ্বেই বাগানপ্রেমী ও উদ্ভিদবিদদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবার সত্যজিৎ রায়ের গল্পে ফিরছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী

সেন্ট ক্রিস্টোফার লিলি: প্রকৃতি ও সুবাসের এক অনন্য নিদর্শন

আপডেট সময় ১১:৩০:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গত ৮ মে সকালে ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের বিশ্বেশ্বরী দেবী রোডে বিকাশ সার্ভিস সেন্টারের সামনে সেন্ট ক্রিস্টোফার লিলি গাছটিতে নজর কাড়া সাদা ফুল ফুটতে দেখা যায়। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, মুমিনুন্নিসা সরকারি কলেজের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান চয়ন বিকাশ ভদ্র জানান, প্রাকৃতিকভাবে এই গাছটি তার উজ্জ্বল সাদা পাপড়ি এবং তীব্র সুবাসের কারণে বাগানে অনন্য আবহ তৈরি করে। খুব সকালে হাঁটতে বেরিয়ে ফেরার পথে ব্রহ্মপুত্রতীরের বিশ্বেশ্বরী দেবী রোডে বিকাশ সার্ভিস সেন্টারের সামনে লাগানো সেন্ট ক্রিস্টোফার লিলিগাছে চোখ আটকে গেল। কিন্তু আমার আগে কেউ ফুল তুলে নিয়ে যাওয়ায় ছবি তুলতে পারিনি। প্রকৃতির অপূর্ব রূপ ও বৈচিত্র্যের এক অনুপম নিদর্শন হলো সেন্ট ক্রিস্টোফার লিলি। সেন্ট ক্রিস্টোফার লিলি তার স্বতন্ত্র ও আকর্ষণীয় বাহ্যিক গঠনের কারণে খুব সহজেই সবার নজর কাড়ে।

অ্যামারিলিডাসি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত বহুবর্ষজীবী এই কন্দজ উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম ক্রিনাম জ্যাগাস (Crinum jagus)। মূলত আফ্রিকার ক্রান্তীয় অঞ্চলের গাছ হলেও বর্তমানে উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে এটি ব্যাপকভাবে জন্মে। মাটির নিচে থাকা বিশাল আকৃতির কন্দ থেকে এটি প্রাণশক্তি সংগ্রহ করে, যার ব্যাস ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এই কন্দ উদ্ভিদটিকে প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে সহায়তা করে।

গাছটির পাতাগুলো ফিতার মতো প্রশস্ত ও গাঢ় সবুজ রঙের হয়ে থাকে। একটি পূর্ণবয়স্ক উদ্ভিদের পাতা ৬০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ৮ থেকে ১২ সেন্টিমিটার চওড়া হতে পারে। এর কেন্দ্রস্থল থেকে বের হওয়া শক্ত, ফাঁপা ও দীর্ঘ পুষ্পদণ্ডটি ৫০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ হয়। এই ডাঁটার মাথায় ছাতার মতো গুচ্ছাকারে ৪ থেকে ১২টি সুগন্ধি সাদা ফুল ফোটে, যা বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে চারপাশ মিষ্টি গন্ধে ভরিয়ে তোলে। প্রতিটি ফুলের ছয়টি পাপড়ি গোড়ার দিকে নল আকৃতির হয় এবং কেন্দ্রে থাকে সুগঠিত পুংকেশর। পাতাগুলোর গঠন ফিতার মতো বা কিছুটা বল্লমাকার। পাতাগুলোর উপরিভাগ মসৃণ এবং এর মাঝামাঝি অংশ কিছুটা বাঁকানো থাকে, যা পুরো গাছটিকে একটি প্রস্ফুটিত গোলাপের আকৃতির মতো ছড়িয়ে থাকতে সাহায্য করে।

সেন্ট ক্রিস্টোফার লিলির শোভা বর্ধনের ক্ষমতার পাশাপাশি এর ব্যাপক ব্যবহারিক গুরুত্ব রয়েছে। পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও বাড়ির আঙিনায় এটি সীমানা গাছ হিসেবে জনপ্রিয়। আবার ছায়াযুক্ত স্থানে ভালো জন্মানোর কারণে অনেকেই এটিকে ব্যালকনি বা ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবেও চাষ করেন।

আফ্রিকান প্রথাগত চিকিৎসাশাস্ত্রে এই উদ্ভিদটি বেশ সমাদৃত। স্থানীয় কবিরাজ ও বিশেষজ্ঞরা এর কন্দ ও পাতার নির্যাস জ্বর, কাশি, বাতের ব্যথা ও প্রদাহের মতো শারীরিক সমস্যায় ব্যবহার করে থাকেন। এমনকি স্মৃতিভ্রমের চিকিৎসাতেও এর কার্যকর প্রয়োগ রয়েছে বলে জানা যায়। সামান্য পরিচর্যা ও আর্দ্রতা নিশ্চিত করতে পারলে এই উদ্ভিদ দীর্ঘকাল প্রকৃতিতে তার সৌন্দর্য ও সুগন্ধ ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। এ উদ্ভিদটি তার মনোমুগ্ধকর সুবাস, বরফের মতো উজ্জ্বল সাদা ফুল এবং বিশালাকার পাতার জন্য সারা বিশ্বেই বাগানপ্রেমী ও উদ্ভিদবিদদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত।