ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার

জাতিসংঘে গাজা মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে নেতানিয়াহুর বিতর্কিত মন্তব্য

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, গাজায় তার দেশের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে যে গণহত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে তা এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন। তারা গাজা থেকে বন্দিদের ফিরিয়ে আনতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ইসরায়েলের জনগণের সাহসিকতাকে স্যালুট জানাই। আমি আমাদের বীর সেনাদের সাহসিকতাকে স্যালুট জানাই—তারা ইহুদি, মুসলিম, খ্রিস্টান, দ্রুজ। এরপর নেতানিয়াহু ইসরায়েলের যুদ্ধের “অষ্টম ফ্রন্ট”-এর প্রসঙ্গে আসেন। তিনি বলেন, তারা ইসরায়েল, আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বকে ঘৃণা করার জন্য তরুণদের মগজধোলাই করছে।

বক্তব্যে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বর্বর শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ট্রাম্পের সাহসী নেতৃত্ব ও অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া গত বছর মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির মাধ্যমে হামাসের হাতে বন্দি জীবিত ও মৃত সকলকে মুক্ত করার বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।

নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে সভ্যতা রক্ষায় কাজ করছে। তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আইডিএফ-কে বিশ্বের সবচেয়ে নীতিবান বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। গাজায় মানবিক সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, ত্রাণ প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইসরায়েল সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, যদিও ত্রাণ সংস্থাগুলো এ নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করে আসছে। তার মতে, ‘ইসরায়েল হলো “একই ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করা একটি জাতি—তা সে বামপন্থী বা ডানপন্থী, তরুণ বা প্রবীণ, ধর্মীয় কিংবা ধর্মনিরপেক্ষ যে-ই হোক না কেন।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘ দপ্তরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করলে পুরো এলাকা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। তিনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সংকটময় মুহূর্তে ইতিহাসের শিক্ষা ও অভিন্ন মূল্যবোধই তাদের একসূত্রে গেঁথে রাখে।

বক্তৃতার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল কাতার ও তুরস্কের সমালোচনা। নেতানিয়াহুর মতে, কাতার দীর্ঘদিন ধরে হামাস নেতাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে এবং আল জাজিরার মতো গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থায়নের মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আঙ্কারা বর্তমানে হামাসকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং প্রতিদিন ইসরায়েল ধ্বংসের ডাক দিচ্ছে। এছাড়া কুর্দিদের ওপর দমন-পীড়ন, উত্তর সাইপ্রাস দখল ও গ্রিসকে হুমকির বিষয়গুলোও তার বক্তব্যে উঠে আসে। তুরস্কের “স্বৈরাচারী” প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান হাজার হাজার কুর্দিদের হত্যা করেছেন, উত্তর সাইপ্রাস অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন, গ্রিসকে হুমকি দিচ্ছেন এবং সাংবাদিকদের কারাগারে বন্দি করছেন।

নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহারান মামদানিকে উদ্দেশ্য করে নেতানিয়াহু তাকে হামাস সমর্থক ও ইহুদিবিদ্বেষী বলে আখ্যায়িত করেন। তার দাবি, মামদানির শহরে ইহুদিরা এখন আর নিজেদের নিরাপদ মনে করেন না। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তার গ্রেফতারের দাবি জানানোয় তিনি মেয়রের সমালোচনা করে বলেন, সত্য চেপে রাখা যাবে না।

তিনি ইহুদিদের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, অসহায় শিকার হিসেবে কসাইখানায় যাওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন ইহুদিদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনী রয়েছে। তিনি সব পক্ষকে বর্বরদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান জানান।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাউন্ট এটনার অগ্ন্যুৎপাত: কাতানিয়া বিমানবন্দরে ফ্লাইট ব্যাহত

জাতিসংঘে গাজা মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে নেতানিয়াহুর বিতর্কিত মন্তব্য

আপডেট সময় ০৯:৩৫:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, গাজায় তার দেশের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে যে গণহত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে তা এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন। তারা গাজা থেকে বন্দিদের ফিরিয়ে আনতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ইসরায়েলের জনগণের সাহসিকতাকে স্যালুট জানাই। আমি আমাদের বীর সেনাদের সাহসিকতাকে স্যালুট জানাই—তারা ইহুদি, মুসলিম, খ্রিস্টান, দ্রুজ। এরপর নেতানিয়াহু ইসরায়েলের যুদ্ধের “অষ্টম ফ্রন্ট”-এর প্রসঙ্গে আসেন। তিনি বলেন, তারা ইসরায়েল, আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বকে ঘৃণা করার জন্য তরুণদের মগজধোলাই করছে।

বক্তব্যে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বর্বর শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ট্রাম্পের সাহসী নেতৃত্ব ও অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া গত বছর মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির মাধ্যমে হামাসের হাতে বন্দি জীবিত ও মৃত সকলকে মুক্ত করার বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।

নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে সভ্যতা রক্ষায় কাজ করছে। তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আইডিএফ-কে বিশ্বের সবচেয়ে নীতিবান বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। গাজায় মানবিক সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, ত্রাণ প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইসরায়েল সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, যদিও ত্রাণ সংস্থাগুলো এ নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করে আসছে। তার মতে, ‘ইসরায়েল হলো “একই ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করা একটি জাতি—তা সে বামপন্থী বা ডানপন্থী, তরুণ বা প্রবীণ, ধর্মীয় কিংবা ধর্মনিরপেক্ষ যে-ই হোক না কেন।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘ দপ্তরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করলে পুরো এলাকা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। তিনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সংকটময় মুহূর্তে ইতিহাসের শিক্ষা ও অভিন্ন মূল্যবোধই তাদের একসূত্রে গেঁথে রাখে।

বক্তৃতার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল কাতার ও তুরস্কের সমালোচনা। নেতানিয়াহুর মতে, কাতার দীর্ঘদিন ধরে হামাস নেতাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে এবং আল জাজিরার মতো গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থায়নের মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আঙ্কারা বর্তমানে হামাসকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং প্রতিদিন ইসরায়েল ধ্বংসের ডাক দিচ্ছে। এছাড়া কুর্দিদের ওপর দমন-পীড়ন, উত্তর সাইপ্রাস দখল ও গ্রিসকে হুমকির বিষয়গুলোও তার বক্তব্যে উঠে আসে। তুরস্কের “স্বৈরাচারী” প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান হাজার হাজার কুর্দিদের হত্যা করেছেন, উত্তর সাইপ্রাস অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন, গ্রিসকে হুমকি দিচ্ছেন এবং সাংবাদিকদের কারাগারে বন্দি করছেন।

নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহারান মামদানিকে উদ্দেশ্য করে নেতানিয়াহু তাকে হামাস সমর্থক ও ইহুদিবিদ্বেষী বলে আখ্যায়িত করেন। তার দাবি, মামদানির শহরে ইহুদিরা এখন আর নিজেদের নিরাপদ মনে করেন না। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তার গ্রেফতারের দাবি জানানোয় তিনি মেয়রের সমালোচনা করে বলেন, সত্য চেপে রাখা যাবে না।

তিনি ইহুদিদের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, অসহায় শিকার হিসেবে কসাইখানায় যাওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন ইহুদিদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনী রয়েছে। তিনি সব পক্ষকে বর্বরদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান জানান।