বাংলাদেশে নিয়মিত বিরতিতে বিদেশি শিল্পীদের নিয়ে বড় আয়োজনের হিড়িক পড়ে। বিদেশি তারকাদের এ দেশে আনতে আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল অংকের অর্থ ঢালছে এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করছে। অথচ এর বিপরীতে দেশের মেধাবী সংগীতশিল্পীরা পর্যাপ্ত কনসার্ট বা শো না পেয়ে হতাশা ও নিরুৎসাহের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। দেশীয় শিল্পীদের প্রতি আয়োজকদের এই দীর্ঘদিনের উদাসীনতা নিয়ে নিজের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজের সাবেক গিটারিস্ট অনি হাসান।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও ভারতের বেশ কয়েকজন শিল্পী এবং ব্যান্ডকে মোটা অঙ্কের সম্মানী দিয়ে ঢাকায় আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন আয়োজকরা। এর মধ্যে কোনো কোনো অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজিত হলেও অনেকগুলো শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে হয়েছে। এমনকি আজকের ও আগামীকালের জন্য পাকিস্তানের শিল্পী ও ব্যান্ডের কনসার্টের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। এই আয়োজনগুলোতে দেশীয় শিল্পীদেরও মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সার্বিক প্রেক্ষাপটে অনি হাসান প্রশ্ন তুলেছেন, বাইরের শিল্পীদের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করা সম্ভব হলেও দেশের সংগীতের মানোন্নয়নে বা নিজস্ব শিল্পীদের বড় আয়োজনে বিনিয়োগে কেন অনীহা দেখা দেওয়া হয়?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মতামত তুলে ধরে অনি হাসান লিখেছেন, আয়োজকরা বিশাল বাজেট নিয়ে বিদেশি শিল্পীদের পেছনে ছুটছেন, অথচ দেশের দক্ষ শিল্পীরা কাজ না পেয়ে নিরাশ হচ্ছেন। তিনি মনে করেন, বিদেশি শিল্পীদের মাত্রাতিরিক্ত প্রচার ও সুযোগ দেওয়ায় দেশের সংগীতাঙ্গনের তেমন কোনো বাস্তবিক উপকার হচ্ছে না। বরং সেই অর্থ দিয়ে যদি দেশীয় শিল্পীদের নিয়ে মানসম্মত প্রযোজনা বা বড় কনসার্টের আয়োজন করা সম্ভব হতো, তবে দেশের সংগীতাঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হতো এবং শিল্পীরা কাজের বড় পরিসর পেতেন বলে তিনি মত দেন।
অনি হাসানের সংগীত ক্যারিয়ারের শুরু মাত্র ১৮ বছর বয়সে। শুরুর দিকে তিনি ‘ভাইব’ ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং পরবর্তীতে ওয়ারফেজে যোগ দেন। উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনে ২০১১ সালে তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে পাড়ি জমান বিদেশে। বর্তমানে তিনি চীনে বসবাস করছেন এবং সেখানেই স্থায়ী হয়েছেন। উল্লেখ্য, প্রায় এক যুগ আগে শেষবার ঢাকার মঞ্চে ওয়ারফেজের হয়ে তাঁকে পারফর্ম করতে দেখা গিয়েছিল।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

















