ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মহাজাগতিক নিউট্রিনোর উৎসের সন্ধানে বড় অগ্রগতি বিজ্ঞানীদের

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো পৃথিবীতে শনাক্ত হওয়া একটি উচ্চশক্তির নিউট্রিনোর (অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও প্রায় ভরহীন মৌলিক কণা) সম্ভাব্য উৎস খুঁজে পেয়েছেন। তাদের মতে, অ্যান্টার্কটিকায় শনাক্ত হওয়া এই কণাটি এসেছে পৃথিবী থেকে প্রায় ১১ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ‘শ্যাডো ব্লাস্টার’ নামের একটি তারাগঠনে অত্যন্ত সক্রিয় ছায়াপথ থেকে। এ আবিষ্কার মহাবিশ্বে নিউট্রিনোর উৎপত্তি সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে।

২০২১ সালে অ্যান্টার্কটিকার ‘আইসকিউব’ মানমন্দিরে ‘আইসি ২১০৯২২এ’ নামে একটি উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত হয়। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা এর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে ‘শ্যাডো ব্লাস্টার’ ছায়াপথকে চিহ্নিত করেছেন। গবেষণার ফলাফল ১৭ জুন বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার অ্যাস্ট্রোনমি-তে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার প্রধান ইউজি উরাতা ও তার সহকর্মীরা ‘জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল’ দূরবীক্ষণযন্ত্র, ‘সাবমিলিমিটার অ্যারে’ এবং ‘আলমা’ মানমন্দির ব্যবহার করে ছায়াপথটির বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করেন। মাঝখানে থাকা একটি উপবৃত্তাকার ছায়াপথের মহাকর্ষীয় প্রভাবে (মহাকর্ষের কারণে আলোর পথ বাঁকা হয়ে বড় বা একাধিক ছবি দেখা যাওয়ার ঘটনা) ‘শ্যাডো ব্লাস্টার’-এর আলো চারটি পৃথক ছবিতে বিভক্ত হয়ে যায়। এতে বিজ্ঞানীরা ছায়াপথটির ভেতরের গঠন আরও স্পষ্টভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হন।

গবেষণায় দেখা যায়, ছায়াপথটির কেন্দ্র অত্যন্ত ঘন এবং সেখানে নতুন তারা তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ পদার্থ রয়েছে। তবে কেন্দ্রে সক্রিয় অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞানীদের মতে, এ আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, শুধু কৃষ্ণগহ্বর নয়, দ্রুত তারাগঠনকারী ছায়াপথও উচ্চশক্তির নিউট্রিনো তৈরির প্রাকৃতিক কেন্দ্র হতে পারে। ইউজি উরাতার ধারণা, এ ধরনের ছায়াপথ ‘আইসকিউব’ শনাক্ত করা মহাজাগতিক নিউট্রিনোর প্রায় ২০ শতাংশের উৎস হতে পারে। প্রায় ১০ বিলিয়ন বছর আগে এ ধরনের ছায়াপথের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল, যা মহাবিশ্বে বিপুল পরিমাণ নিউট্রিনোর উপস্থিতির একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মহাজাগতিক নিউট্রিনোর উৎসের সন্ধানে বড় অগ্রগতি বিজ্ঞানীদের

আপডেট সময় ১০:২০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো পৃথিবীতে শনাক্ত হওয়া একটি উচ্চশক্তির নিউট্রিনোর (অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও প্রায় ভরহীন মৌলিক কণা) সম্ভাব্য উৎস খুঁজে পেয়েছেন। তাদের মতে, অ্যান্টার্কটিকায় শনাক্ত হওয়া এই কণাটি এসেছে পৃথিবী থেকে প্রায় ১১ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ‘শ্যাডো ব্লাস্টার’ নামের একটি তারাগঠনে অত্যন্ত সক্রিয় ছায়াপথ থেকে। এ আবিষ্কার মহাবিশ্বে নিউট্রিনোর উৎপত্তি সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে।

২০২১ সালে অ্যান্টার্কটিকার ‘আইসকিউব’ মানমন্দিরে ‘আইসি ২১০৯২২এ’ নামে একটি উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত হয়। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা এর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে ‘শ্যাডো ব্লাস্টার’ ছায়াপথকে চিহ্নিত করেছেন। গবেষণার ফলাফল ১৭ জুন বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার অ্যাস্ট্রোনমি-তে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার প্রধান ইউজি উরাতা ও তার সহকর্মীরা ‘জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল’ দূরবীক্ষণযন্ত্র, ‘সাবমিলিমিটার অ্যারে’ এবং ‘আলমা’ মানমন্দির ব্যবহার করে ছায়াপথটির বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করেন। মাঝখানে থাকা একটি উপবৃত্তাকার ছায়াপথের মহাকর্ষীয় প্রভাবে (মহাকর্ষের কারণে আলোর পথ বাঁকা হয়ে বড় বা একাধিক ছবি দেখা যাওয়ার ঘটনা) ‘শ্যাডো ব্লাস্টার’-এর আলো চারটি পৃথক ছবিতে বিভক্ত হয়ে যায়। এতে বিজ্ঞানীরা ছায়াপথটির ভেতরের গঠন আরও স্পষ্টভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হন।

গবেষণায় দেখা যায়, ছায়াপথটির কেন্দ্র অত্যন্ত ঘন এবং সেখানে নতুন তারা তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ পদার্থ রয়েছে। তবে কেন্দ্রে সক্রিয় অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞানীদের মতে, এ আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, শুধু কৃষ্ণগহ্বর নয়, দ্রুত তারাগঠনকারী ছায়াপথও উচ্চশক্তির নিউট্রিনো তৈরির প্রাকৃতিক কেন্দ্র হতে পারে। ইউজি উরাতার ধারণা, এ ধরনের ছায়াপথ ‘আইসকিউব’ শনাক্ত করা মহাজাগতিক নিউট্রিনোর প্রায় ২০ শতাংশের উৎস হতে পারে। প্রায় ১০ বিলিয়ন বছর আগে এ ধরনের ছায়াপথের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল, যা মহাবিশ্বে বিপুল পরিমাণ নিউট্রিনোর উপস্থিতির একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে।