ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু:সংসদে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিক পেটানো ৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করল জামায়াত খাগড়াছড়িতে পৃথক গোলাগুলিতে ইউপিডিএফের দুই সদস্য নিহত নিষিদ্ধ সংগঠনকে বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না, প্রতিহত করা হবে: নবীউল্লাহ নবী একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রই পারে বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে: রাশিয়া বাজেট প্রণয়ন করেন আমলারা, এমপিদের ভূমিকা গলাবাজি: জামায়াত এমপি ‘সরকার নারীর স্বাস্থ্যকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে’:স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশের গুণী মানুষদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার আহ্বান মঈন খানের মধ্যপ্রাচ্যের সব সংকটের জন্য ইসরাইল দায়ী: গালিবাফ চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতে চোখ হারালেন আইনজীবী

মহাজাগতিক নিউট্রিনোর উৎসের সন্ধানে বড় অগ্রগতি বিজ্ঞানীদের

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো পৃথিবীতে শনাক্ত হওয়া একটি উচ্চশক্তির নিউট্রিনোর (অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও প্রায় ভরহীন মৌলিক কণা) সম্ভাব্য উৎস খুঁজে পেয়েছেন। তাদের মতে, অ্যান্টার্কটিকায় শনাক্ত হওয়া এই কণাটি এসেছে পৃথিবী থেকে প্রায় ১১ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ‘শ্যাডো ব্লাস্টার’ নামের একটি তারাগঠনে অত্যন্ত সক্রিয় ছায়াপথ থেকে। এ আবিষ্কার মহাবিশ্বে নিউট্রিনোর উৎপত্তি সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে।

২০২১ সালে অ্যান্টার্কটিকার ‘আইসকিউব’ মানমন্দিরে ‘আইসি ২১০৯২২এ’ নামে একটি উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত হয়। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা এর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে ‘শ্যাডো ব্লাস্টার’ ছায়াপথকে চিহ্নিত করেছেন। গবেষণার ফলাফল ১৭ জুন বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার অ্যাস্ট্রোনমি-তে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার প্রধান ইউজি উরাতা ও তার সহকর্মীরা ‘জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল’ দূরবীক্ষণযন্ত্র, ‘সাবমিলিমিটার অ্যারে’ এবং ‘আলমা’ মানমন্দির ব্যবহার করে ছায়াপথটির বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করেন। মাঝখানে থাকা একটি উপবৃত্তাকার ছায়াপথের মহাকর্ষীয় প্রভাবে (মহাকর্ষের কারণে আলোর পথ বাঁকা হয়ে বড় বা একাধিক ছবি দেখা যাওয়ার ঘটনা) ‘শ্যাডো ব্লাস্টার’-এর আলো চারটি পৃথক ছবিতে বিভক্ত হয়ে যায়। এতে বিজ্ঞানীরা ছায়াপথটির ভেতরের গঠন আরও স্পষ্টভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হন।

গবেষণায় দেখা যায়, ছায়াপথটির কেন্দ্র অত্যন্ত ঘন এবং সেখানে নতুন তারা তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ পদার্থ রয়েছে। তবে কেন্দ্রে সক্রিয় অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞানীদের মতে, এ আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, শুধু কৃষ্ণগহ্বর নয়, দ্রুত তারাগঠনকারী ছায়াপথও উচ্চশক্তির নিউট্রিনো তৈরির প্রাকৃতিক কেন্দ্র হতে পারে। ইউজি উরাতার ধারণা, এ ধরনের ছায়াপথ ‘আইসকিউব’ শনাক্ত করা মহাজাগতিক নিউট্রিনোর প্রায় ২০ শতাংশের উৎস হতে পারে। প্রায় ১০ বিলিয়ন বছর আগে এ ধরনের ছায়াপথের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল, যা মহাবিশ্বে বিপুল পরিমাণ নিউট্রিনোর উপস্থিতির একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু:সংসদে অর্থমন্ত্রী

মহাজাগতিক নিউট্রিনোর উৎসের সন্ধানে বড় অগ্রগতি বিজ্ঞানীদের

আপডেট সময় ১০:২০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো পৃথিবীতে শনাক্ত হওয়া একটি উচ্চশক্তির নিউট্রিনোর (অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও প্রায় ভরহীন মৌলিক কণা) সম্ভাব্য উৎস খুঁজে পেয়েছেন। তাদের মতে, অ্যান্টার্কটিকায় শনাক্ত হওয়া এই কণাটি এসেছে পৃথিবী থেকে প্রায় ১১ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ‘শ্যাডো ব্লাস্টার’ নামের একটি তারাগঠনে অত্যন্ত সক্রিয় ছায়াপথ থেকে। এ আবিষ্কার মহাবিশ্বে নিউট্রিনোর উৎপত্তি সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে।

২০২১ সালে অ্যান্টার্কটিকার ‘আইসকিউব’ মানমন্দিরে ‘আইসি ২১০৯২২এ’ নামে একটি উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত হয়। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা এর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে ‘শ্যাডো ব্লাস্টার’ ছায়াপথকে চিহ্নিত করেছেন। গবেষণার ফলাফল ১৭ জুন বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার অ্যাস্ট্রোনমি-তে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার প্রধান ইউজি উরাতা ও তার সহকর্মীরা ‘জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল’ দূরবীক্ষণযন্ত্র, ‘সাবমিলিমিটার অ্যারে’ এবং ‘আলমা’ মানমন্দির ব্যবহার করে ছায়াপথটির বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করেন। মাঝখানে থাকা একটি উপবৃত্তাকার ছায়াপথের মহাকর্ষীয় প্রভাবে (মহাকর্ষের কারণে আলোর পথ বাঁকা হয়ে বড় বা একাধিক ছবি দেখা যাওয়ার ঘটনা) ‘শ্যাডো ব্লাস্টার’-এর আলো চারটি পৃথক ছবিতে বিভক্ত হয়ে যায়। এতে বিজ্ঞানীরা ছায়াপথটির ভেতরের গঠন আরও স্পষ্টভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হন।

গবেষণায় দেখা যায়, ছায়াপথটির কেন্দ্র অত্যন্ত ঘন এবং সেখানে নতুন তারা তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ পদার্থ রয়েছে। তবে কেন্দ্রে সক্রিয় অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞানীদের মতে, এ আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, শুধু কৃষ্ণগহ্বর নয়, দ্রুত তারাগঠনকারী ছায়াপথও উচ্চশক্তির নিউট্রিনো তৈরির প্রাকৃতিক কেন্দ্র হতে পারে। ইউজি উরাতার ধারণা, এ ধরনের ছায়াপথ ‘আইসকিউব’ শনাক্ত করা মহাজাগতিক নিউট্রিনোর প্রায় ২০ শতাংশের উৎস হতে পারে। প্রায় ১০ বিলিয়ন বছর আগে এ ধরনের ছায়াপথের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল, যা মহাবিশ্বে বিপুল পরিমাণ নিউট্রিনোর উপস্থিতির একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে।