ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু:সংসদে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিক পেটানো ৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করল জামায়াত খাগড়াছড়িতে পৃথক গোলাগুলিতে ইউপিডিএফের দুই সদস্য নিহত নিষিদ্ধ সংগঠনকে বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না, প্রতিহত করা হবে: নবীউল্লাহ নবী একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রই পারে বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে: রাশিয়া বাজেট প্রণয়ন করেন আমলারা, এমপিদের ভূমিকা গলাবাজি: জামায়াত এমপি ‘সরকার নারীর স্বাস্থ্যকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে’:স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশের গুণী মানুষদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার আহ্বান মঈন খানের মধ্যপ্রাচ্যের সব সংকটের জন্য ইসরাইল দায়ী: গালিবাফ চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতে চোখ হারালেন আইনজীবী

বাজেট প্রণয়ন করেন আমলারা, এমপিদের ভূমিকা গলাবাজি: জামায়াত এমপি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাজেট প্রণয়নে সংসদের ভূমিকা রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। বুধবার সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে অর্থবিল স্থায়ী কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সংসদে আনা হয়। অনেক দেশে সাধারণ আলোচনার পর বাজেট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয় এবং সেখানে পর্যালোচনা শেষে সংসদে আসে। অথচ বাংলাদেশে বাজেট প্রণয়ন করেন আমলারা। এমপিদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ থাকে কেবল কয়েক মিনিটের গলাবাজির মধ্যে।

ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে চলমান অধিবেশনে ব্যারিস্টার মোমেন বলেন, সত্যিকার অর্থে সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে হলে এই সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে হবে। বাজেট প্রণয়নে সংসদ সদস্যদের সরাসরি সম্পৃক্ত করতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটকে সরকারদলীয় এমপিরা ‘যুগান্তকারী’ আখ্যা দিলেও তা সঠিক নয় বলে দাবি করেন নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, গত এক দশকের বাজেটগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, কিছু সংখ্যা ও ভাষাগত পরিবর্তন ছাড়া কাঠামোগতভাবে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও গতানুগতিক, শুভঙ্করের ফাঁকি, গণবিরোধী আর আগামী বছরের লুটপাটের পরিকল্পনার বাজেট দেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতি হিসাব করলে একে কোনোভাবেই সবচেয়ে বড় বাজেট বলা যাবে না; বরং এটি সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট এবং সবচেয়ে বেশি ঋণনির্ভর বাজেট।

সরকারের দেওয়া বিভিন্ন কার্ডের প্রতি বিদ্রুপ করে ব্যারিস্টার মোমেন বলেন, ১৮ কোটি মানুষের দেশে প্রত্যক্ষ কর দেন মাত্র ২৪ লাখ লোক। এ ক্ষেত্রেও অনেক চালাকি করা হয়েছে। মধ্যবিত্তদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হয়েছে। ভ্যাটের আওতা আপনারা বাড়িয়েছেন, গ্যাস সিলিন্ডারসহ ২০টি পণ্যের উপর ভ্যাট বেড়েছে। একজন ভিক্ষুককে চাল, ডাল, নুন ও তেল কিনতে যে পরিমাণ ভ্যাট দিতে হয়, একজন কোটিপতিও একই পরিমাণ দেন। তাহলে এটি কীভাবে গরিববান্ধব বাজেট হলো? অনেক কার্ডই দিচ্ছে সরকার, একটা ‘ভ্যাট মওকুফ কার্ড’ যদি গরিব মানুষের জন্য দিতেন, তাহলে ভালো হতো।

জামায়াতের এই এমপি বলেন, সুদের অভিশাপ থেকে জাতিকে বাঁচাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যদি আমরা অভাবগ্রস্ত হই, তাহলে পর্যায়ক্রমে সুদ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এই পদক্ষেপ নিলেই আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ। এ ক্ষেত্রে জাকাত দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দেশে পরিকল্পিতভাবে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা জাকাত আদায় সম্ভব।

ব্যারিস্টার মোমেন আরও বলেন, এই সংসদে মসজিদে রাজনীতি বন্ধ ও জামায়াত নিষিদ্ধ করার দাবিও করা হয়েছে। এই ধরনের ফ্যাসিবাদী দাবি আগেও একটি দলের নেতাকর্মীদের করতে দেখেছি। আজ দেশের জনগণ তাদেরকেই নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু:সংসদে অর্থমন্ত্রী

বাজেট প্রণয়ন করেন আমলারা, এমপিদের ভূমিকা গলাবাজি: জামায়াত এমপি

আপডেট সময় ১০:৫০:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাজেট প্রণয়নে সংসদের ভূমিকা রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। বুধবার সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে অর্থবিল স্থায়ী কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সংসদে আনা হয়। অনেক দেশে সাধারণ আলোচনার পর বাজেট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয় এবং সেখানে পর্যালোচনা শেষে সংসদে আসে। অথচ বাংলাদেশে বাজেট প্রণয়ন করেন আমলারা। এমপিদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ থাকে কেবল কয়েক মিনিটের গলাবাজির মধ্যে।

ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে চলমান অধিবেশনে ব্যারিস্টার মোমেন বলেন, সত্যিকার অর্থে সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে হলে এই সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে হবে। বাজেট প্রণয়নে সংসদ সদস্যদের সরাসরি সম্পৃক্ত করতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটকে সরকারদলীয় এমপিরা ‘যুগান্তকারী’ আখ্যা দিলেও তা সঠিক নয় বলে দাবি করেন নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, গত এক দশকের বাজেটগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, কিছু সংখ্যা ও ভাষাগত পরিবর্তন ছাড়া কাঠামোগতভাবে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও গতানুগতিক, শুভঙ্করের ফাঁকি, গণবিরোধী আর আগামী বছরের লুটপাটের পরিকল্পনার বাজেট দেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতি হিসাব করলে একে কোনোভাবেই সবচেয়ে বড় বাজেট বলা যাবে না; বরং এটি সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট এবং সবচেয়ে বেশি ঋণনির্ভর বাজেট।

সরকারের দেওয়া বিভিন্ন কার্ডের প্রতি বিদ্রুপ করে ব্যারিস্টার মোমেন বলেন, ১৮ কোটি মানুষের দেশে প্রত্যক্ষ কর দেন মাত্র ২৪ লাখ লোক। এ ক্ষেত্রেও অনেক চালাকি করা হয়েছে। মধ্যবিত্তদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হয়েছে। ভ্যাটের আওতা আপনারা বাড়িয়েছেন, গ্যাস সিলিন্ডারসহ ২০টি পণ্যের উপর ভ্যাট বেড়েছে। একজন ভিক্ষুককে চাল, ডাল, নুন ও তেল কিনতে যে পরিমাণ ভ্যাট দিতে হয়, একজন কোটিপতিও একই পরিমাণ দেন। তাহলে এটি কীভাবে গরিববান্ধব বাজেট হলো? অনেক কার্ডই দিচ্ছে সরকার, একটা ‘ভ্যাট মওকুফ কার্ড’ যদি গরিব মানুষের জন্য দিতেন, তাহলে ভালো হতো।

জামায়াতের এই এমপি বলেন, সুদের অভিশাপ থেকে জাতিকে বাঁচাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যদি আমরা অভাবগ্রস্ত হই, তাহলে পর্যায়ক্রমে সুদ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এই পদক্ষেপ নিলেই আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ। এ ক্ষেত্রে জাকাত দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দেশে পরিকল্পিতভাবে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা জাকাত আদায় সম্ভব।

ব্যারিস্টার মোমেন আরও বলেন, এই সংসদে মসজিদে রাজনীতি বন্ধ ও জামায়াত নিষিদ্ধ করার দাবিও করা হয়েছে। এই ধরনের ফ্যাসিবাদী দাবি আগেও একটি দলের নেতাকর্মীদের করতে দেখেছি। আজ দেশের জনগণ তাদেরকেই নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।