ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু:সংসদে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিক পেটানো ৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করল জামায়াত খাগড়াছড়িতে পৃথক গোলাগুলিতে ইউপিডিএফের দুই সদস্য নিহত নিষিদ্ধ সংগঠনকে বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না, প্রতিহত করা হবে: নবীউল্লাহ নবী একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রই পারে বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে: রাশিয়া বাজেট প্রণয়ন করেন আমলারা, এমপিদের ভূমিকা গলাবাজি: জামায়াত এমপি ‘সরকার নারীর স্বাস্থ্যকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে’:স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশের গুণী মানুষদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার আহ্বান মঈন খানের মধ্যপ্রাচ্যের সব সংকটের জন্য ইসরাইল দায়ী: গালিবাফ চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতে চোখ হারালেন আইনজীবী

বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু:সংসদে অর্থমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ-সম্পদ পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংকের অর্থ উদ্ধারে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘নো উইন, নো ফি’ শর্তে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এই আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিদেশে থাকা অর্থ-সম্পদ চিহ্নিত করতে এবং তা দেশে ফেরত আনতে ব্যাংকগুলোকে আইনি সহায়তা দেবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রথম পর্যায়ে দেশের বহুল আলোচিত ছয়টি (সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ ও ওরিয়ন গ্রুপ) বড় কেস নিয়ে এই আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরে এই কার্যক্রমের পরিধি আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি ও বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের একীভূত পাঁচটি ইসলামি ব্যাংকের বিষয়ে করা পৃথক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি (এক্সিম ব্যাংক), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসিকে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম ২০২৫ ’-এর আওতায় নেওয়া হয়েছে।

রেজল্যুশনের আওতায় থাকা এই পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ বর্তমানে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী, এই পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা করে পরিশোধ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে ইতিমধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে আরও যেসব ব্যাংক তারল্যসংকটে ভুগছে, সেগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ নিবিড়ভাবে কাজ করছে। প্রয়োজন হলে সেগুলোর ক্ষেত্রেও ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষায় আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর আওতায় সুরক্ষিত আমানতের সীমা পূর্ববর্তী ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রাহকদের অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময় ব্যাংকগুলোকে জরুরি তারল্য-সহায়তা দিয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত জরুরি তারল্য-সহায়তা হিসেবে ইতিমধ্যে ব্যাংকগুলোকে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু:সংসদে অর্থমন্ত্রী

বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু:সংসদে অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ-সম্পদ পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংকের অর্থ উদ্ধারে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘নো উইন, নো ফি’ শর্তে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এই আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিদেশে থাকা অর্থ-সম্পদ চিহ্নিত করতে এবং তা দেশে ফেরত আনতে ব্যাংকগুলোকে আইনি সহায়তা দেবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রথম পর্যায়ে দেশের বহুল আলোচিত ছয়টি (সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ ও ওরিয়ন গ্রুপ) বড় কেস নিয়ে এই আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরে এই কার্যক্রমের পরিধি আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি ও বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের একীভূত পাঁচটি ইসলামি ব্যাংকের বিষয়ে করা পৃথক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি (এক্সিম ব্যাংক), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসিকে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম ২০২৫ ’-এর আওতায় নেওয়া হয়েছে।

রেজল্যুশনের আওতায় থাকা এই পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ বর্তমানে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী, এই পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা করে পরিশোধ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে ইতিমধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে আরও যেসব ব্যাংক তারল্যসংকটে ভুগছে, সেগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ নিবিড়ভাবে কাজ করছে। প্রয়োজন হলে সেগুলোর ক্ষেত্রেও ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষায় আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর আওতায় সুরক্ষিত আমানতের সীমা পূর্ববর্তী ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রাহকদের অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময় ব্যাংকগুলোকে জরুরি তারল্য-সহায়তা দিয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত জরুরি তারল্য-সহায়তা হিসেবে ইতিমধ্যে ব্যাংকগুলোকে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।