ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংস্কারের নামে’ নির্বাচন ঠেকানোর আশঙ্কা থেকেই আমাদের এই অবস্থান নিতে হয়েছে: সালাহউদ্দিন ‘ভোটের সম্মান পাকিস্তানি সরকার না দেখানোর কারণেই মুক্তিযুদ্ধ’: শফিকুর রহমান এই সংবিধান আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের আবেগ : মির্জা ফখরুল বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করল বিমান সব রকমের উগ্রতা শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে হবে: ফেসবুক পোস্টে ড. শামারুহ জনগণের দেখভাল করাই আমাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব: সংসদে প্রধানমন্ত্রী গুলি করে হত্যায় দুই ডাকাতের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন ‘জুলাই চেতনা’কে পুঁজি করে ‘রাজনৈতিক ব্যবসা’ বরদাশত করা হবে না:সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কলাবাগান থানার এসআই ‘নিখোঁজ’ হরমুজে প্রতিবন্ধকতা বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘শ্বাসরুদ্ধ’ করছে : জাতিসংঘের মহাসচিব

বন্ধ্যা পুরুষদের বাবা হওয়ার নতুন আশা দেখাচ্ছে যে প্রযুক্তি

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

দীর্ঘ আড়াই বছরের অপেক্ষা আর নিরাশার পর পেনেলোপি যখন জানতে পারলেন তিনি মা হতে চলেছেন, তখন তার আনন্দ ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু এই পথটি সহজ ছিল না। তার স্বামী স্যামুয়েল ‘ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোমে’ আক্রান্ত ছিলেন। এটি এমন এক জেনেটিক অবস্থা যেখানে শরীরে একটি অতিরিক্ত এক্স ক্রোমোজোম থাকে, যার ফলে বীর্যে শুক্রাণুর পরিমাণ থাকে প্রায় শূন্য।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘অ্যাজোস্পার্মিয়া’।

সাধারণত ১০ শতাংশ বন্ধ্যা পুরুষ এই সমস্যায় ভোগেন। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, স্যামুয়েলের বাবা হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ২০ শতাংশ। কিন্তু কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি নতুন একটি এআই প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছে।

কী এই ‘স্টার’ সিস্টেম?

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ফার্টিলিটি সেন্টারের পরিচালক জেভ উইলিয়ামস এবং তার দল ‘স্টার’ নামক একটি সিস্টেম তৈরি করেছেন। এই প্রযুক্তিটি মূলত মহাকাশ বিজ্ঞানের ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত।

আকাশে নতুন নক্ষত্র বা নক্ষত্রপুঞ্জ খুঁজে পেতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যেভাবে এআই ব্যবহার করেন, ঠিক সেই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বীর্যের নমুনার অজস্র ধ্বংসাবশেষের মধ্য থেকে একটি মাত্র সুস্থ শুক্রাণু খুঁজে বের করে এই সিস্টেম।

জেভ উইলিয়ামস বলেন, ‘আকাশের ছবির সঙ্গে আমরা বীর্যের নমুনার অনেক মিল খুঁজে পেয়েছি। যেখানে মানুষের চোখে শুক্রাণু ধরা পড়ে না, সেখানে এআই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাজ করে।’

প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও সাফল্য:

বিস্ময়কর গতি: এই সিস্টেমে মাইক্রোফ্লুইড চিপ ব্যবহার করা হয়, যা প্রতি সেকেন্ডে ৩০০টি ছবি তুলতে পারে এবং রিয়েল-টাইমে নমুনা বিশ্লেষণ করে।

শতভাগ নির্ভুলতা: মানুষের চেয়ে ৪০ গুণ বেশি দ্রুত শুক্রাণু খুঁজে পায় এই প্রযুক্তি। যদি একটি নমুনায় মাত্র একটি শুক্রাণুও থাকে, তবে স্টার সিস্টেম সেটি খুঁজে বের করতে শতভাগ সক্ষম।

সাফল্যের হার: সর্বশেষ ১৭৫ জন রোগীর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে শুক্রাণু খুঁজে পেয়েছে এই এআই, যাদের আগে বলা হয়েছিল যে তাদের কোনো সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

স্যামুয়েল ও পেনেলোপির লড়াই:

স্যামুয়েলের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জটি আরও বড় ছিল। যেহেতু তার বীর্যে কোনো শুক্রাণু ছিল না, তাই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার টিস্যু সংগ্রহ করা হয়। ল্যাব টেকনিশিয়ানরা খালি চোখে কোনো শুক্রাণু খুঁজে না পেলেও ‘স্টার’ প্রযুক্তি সেখান থেকে ৮টি শুক্রাণু খুঁজে বের করে। সেই শুক্রাণু দিয়ে সফলভাবে ভ্রূণ তৈরি করা হয় এবং বর্তমানে পেনেলোপি অন্তঃসত্ত্বা। চলতি বছরের জুলাই মাসেই তাদের প্রথম সন্তান পৃথিবীতে আসার কথা রয়েছে।

ভবিষ্যৎ ও সতর্কতা:

বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণে এআই-এর এই ব্যবহার একটি মাইলফলক হলেও বিশেষজ্ঞরা কিছু বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

ব্রিটিশ অধ্যাপক সিওভান কুয়েনবি বলেন, প্রযুক্তিটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হলেও আরও বড় পরিসরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন। এছাড়া রোগীদের ডেটা সুরক্ষা এবং উচ্চমূল্যের এই চিকিৎসার স্বচ্ছতা বজায় রাখাও জরুরি।

তবে স্যামুয়েল এবং পেনেলোপির মতো হাজারো দম্পতির কাছে এই প্রযুক্তি এখন অন্ধকারের মধ্যে আলোকবর্তিকা। স্যামুয়েল বলেন, ‘যেখানে আমাদের কোনো আশাই ছিল না, সেখানে এই প্রযুক্তি আমাদের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ছোবলের পর জীবন্ত গোখরা সাপ নিয়ে হাসপাতালে যুবক

বন্ধ্যা পুরুষদের বাবা হওয়ার নতুন আশা দেখাচ্ছে যে প্রযুক্তি

আপডেট সময় ১১:১৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

দীর্ঘ আড়াই বছরের অপেক্ষা আর নিরাশার পর পেনেলোপি যখন জানতে পারলেন তিনি মা হতে চলেছেন, তখন তার আনন্দ ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু এই পথটি সহজ ছিল না। তার স্বামী স্যামুয়েল ‘ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোমে’ আক্রান্ত ছিলেন। এটি এমন এক জেনেটিক অবস্থা যেখানে শরীরে একটি অতিরিক্ত এক্স ক্রোমোজোম থাকে, যার ফলে বীর্যে শুক্রাণুর পরিমাণ থাকে প্রায় শূন্য।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘অ্যাজোস্পার্মিয়া’।

সাধারণত ১০ শতাংশ বন্ধ্যা পুরুষ এই সমস্যায় ভোগেন। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, স্যামুয়েলের বাবা হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ২০ শতাংশ। কিন্তু কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি নতুন একটি এআই প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছে।

কী এই ‘স্টার’ সিস্টেম?

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ফার্টিলিটি সেন্টারের পরিচালক জেভ উইলিয়ামস এবং তার দল ‘স্টার’ নামক একটি সিস্টেম তৈরি করেছেন। এই প্রযুক্তিটি মূলত মহাকাশ বিজ্ঞানের ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত।

আকাশে নতুন নক্ষত্র বা নক্ষত্রপুঞ্জ খুঁজে পেতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যেভাবে এআই ব্যবহার করেন, ঠিক সেই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বীর্যের নমুনার অজস্র ধ্বংসাবশেষের মধ্য থেকে একটি মাত্র সুস্থ শুক্রাণু খুঁজে বের করে এই সিস্টেম।

জেভ উইলিয়ামস বলেন, ‘আকাশের ছবির সঙ্গে আমরা বীর্যের নমুনার অনেক মিল খুঁজে পেয়েছি। যেখানে মানুষের চোখে শুক্রাণু ধরা পড়ে না, সেখানে এআই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাজ করে।’

প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও সাফল্য:

বিস্ময়কর গতি: এই সিস্টেমে মাইক্রোফ্লুইড চিপ ব্যবহার করা হয়, যা প্রতি সেকেন্ডে ৩০০টি ছবি তুলতে পারে এবং রিয়েল-টাইমে নমুনা বিশ্লেষণ করে।

শতভাগ নির্ভুলতা: মানুষের চেয়ে ৪০ গুণ বেশি দ্রুত শুক্রাণু খুঁজে পায় এই প্রযুক্তি। যদি একটি নমুনায় মাত্র একটি শুক্রাণুও থাকে, তবে স্টার সিস্টেম সেটি খুঁজে বের করতে শতভাগ সক্ষম।

সাফল্যের হার: সর্বশেষ ১৭৫ জন রোগীর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে শুক্রাণু খুঁজে পেয়েছে এই এআই, যাদের আগে বলা হয়েছিল যে তাদের কোনো সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

স্যামুয়েল ও পেনেলোপির লড়াই:

স্যামুয়েলের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জটি আরও বড় ছিল। যেহেতু তার বীর্যে কোনো শুক্রাণু ছিল না, তাই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার টিস্যু সংগ্রহ করা হয়। ল্যাব টেকনিশিয়ানরা খালি চোখে কোনো শুক্রাণু খুঁজে না পেলেও ‘স্টার’ প্রযুক্তি সেখান থেকে ৮টি শুক্রাণু খুঁজে বের করে। সেই শুক্রাণু দিয়ে সফলভাবে ভ্রূণ তৈরি করা হয় এবং বর্তমানে পেনেলোপি অন্তঃসত্ত্বা। চলতি বছরের জুলাই মাসেই তাদের প্রথম সন্তান পৃথিবীতে আসার কথা রয়েছে।

ভবিষ্যৎ ও সতর্কতা:

বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণে এআই-এর এই ব্যবহার একটি মাইলফলক হলেও বিশেষজ্ঞরা কিছু বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

ব্রিটিশ অধ্যাপক সিওভান কুয়েনবি বলেন, প্রযুক্তিটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হলেও আরও বড় পরিসরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন। এছাড়া রোগীদের ডেটা সুরক্ষা এবং উচ্চমূল্যের এই চিকিৎসার স্বচ্ছতা বজায় রাখাও জরুরি।

তবে স্যামুয়েল এবং পেনেলোপির মতো হাজারো দম্পতির কাছে এই প্রযুক্তি এখন অন্ধকারের মধ্যে আলোকবর্তিকা। স্যামুয়েল বলেন, ‘যেখানে আমাদের কোনো আশাই ছিল না, সেখানে এই প্রযুক্তি আমাদের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছে।’