ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০০ কোটি ডলার ঋণ নাকি অনুদান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন ‘এখানে খোঁচাখুঁচির কিছু নাই’ হরমুজ প্রণালী ‘স্থায়ীভাবে’ খুলে দেওয়া হচ্ছে: ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ একটি ‘ভুল’: ব্রিটিশ চ্যান্সেলর নবীর অবমাননায় মৃত্যুদণ্ডের আইন দাবি এমপি হানজালার টিপাইমুখ বাঁধ আমাদের নিজেদের তৈরি দুর্যোগ: স্পিকার বাংলাদেশকে ২ কোটি ১৯ লাখ হাম-রুবেলার টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২শ’ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে এলাকার সড়কের জন্য ‘ভিক্ষা’ চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ আত্মীয়ের কুলখানি শেষে ফিরছিলেন বাড়ি, পথে কাভার্ড ভ্যান কেড়ে নিল মা-ছেলের প্রাণ বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন

পাপের সবচেয়ে বড় শাস্তি কী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

আমরা কত শত ভুল করি, কত ধরনের পাপের সাগরে ডুব দিই! এরপর যখন দেখি আমাদের আয়-উন্নতি ঠিকঠাক চলছে, অসুখবিসুখ হচ্ছে না, তখন বুক ফুলিয়ে বলি-‘কই? আল্লাহ তো আমাদের কোনো শাস্তি দিচ্ছেন না! আমরা তো বেশ ভালোই আছি।’

​ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘বাদায়িউল ফাওয়াইদ’-এ এক অমোঘ সত্য লিখে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বান্দার জন্য অন্তরের কঠোরতা বা হৃদয় পাথর হয়ে যাওয়ার চেয়ে বড় কোনো শাস্তি আর হতে পারে না।’

​আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার রিজিক ঠিক আছে মানেই আপনি নিরাপদ। হয়তো অবজ্ঞার সুরে বলছেন-শাস্তিটা কোথায়?

তাহলে শুনুন, আপনার বর্তমান অবস্থাটাই তো একটা ভয়াবহ শাস্তি! ​আপনার পাশ দিয়ে জানাজার খাটিয়া চলে যায়, অথচ আপনার ভেতরের মানুষটা একটুও নড়েচড়ে বসে না। আপনার একটা পশমও শিউরে ওঠে না।

​আপনার কানে কোরআন তিলাওয়াতের সুর আসে, কিন্তু সেই সুর এক কান দিয়ে ঢুকে অন্য কান দিয়ে বেরিয়ে যায়। আপনার কলিজায় কি কোনো কম্পন সৃষ্টি হয়? ​আপনার নামাজগুলো একের পর এক কাজা হয়ে যাচ্ছে, অথচ আপনার শরীরের প্রতিটি কোষ যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে উঠছে না।

আপনি দিব্যি স্বাভাবিক আছেন! ​আপনি যখন বিপদগ্রস্ত মানুষদের দেখেন, তখনও কি আপনার নিজের সুস্থতা ও নিয়ামত নিয়ে একবারও আত্মতৃপ্তি আর কৃতজ্ঞতায় চোখ ভিজে উঠছে?

​ভাই আমার, আপনি কি এখনো জিজ্ঞাস করবেন-‘শাস্তি কোথায়?’ আপনার জ্যান্ত কলিজাটা যখন আজ পাথর হয়ে গেছে, তখন এর চেয়ে বড় আজাব আর কী হতে পারে?

​নিজেকে একটু সময় দিন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মৃতপ্রায় হৃদয়টাকে প্রশ্ন করুন। ফেরার সময় কি এখনো হয়নি?

​মূল বার্তা : পাপের সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো ইবাদতে স্বাদ না পাওয়া এবং গুনাহ করার পরও মনে অনুশোচনা না আসা। রিজিক বা দুনিয়াবি সুখ থাকা মানেই আল্লাহ সন্তুষ্ট-এমন ভাবাটা এক ধরনের বিভ্রম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

পাপের সবচেয়ে বড় শাস্তি কী

আপডেট সময় ০৫:৩১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

আমরা কত শত ভুল করি, কত ধরনের পাপের সাগরে ডুব দিই! এরপর যখন দেখি আমাদের আয়-উন্নতি ঠিকঠাক চলছে, অসুখবিসুখ হচ্ছে না, তখন বুক ফুলিয়ে বলি-‘কই? আল্লাহ তো আমাদের কোনো শাস্তি দিচ্ছেন না! আমরা তো বেশ ভালোই আছি।’

​ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘বাদায়িউল ফাওয়াইদ’-এ এক অমোঘ সত্য লিখে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বান্দার জন্য অন্তরের কঠোরতা বা হৃদয় পাথর হয়ে যাওয়ার চেয়ে বড় কোনো শাস্তি আর হতে পারে না।’

​আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার রিজিক ঠিক আছে মানেই আপনি নিরাপদ। হয়তো অবজ্ঞার সুরে বলছেন-শাস্তিটা কোথায়?

তাহলে শুনুন, আপনার বর্তমান অবস্থাটাই তো একটা ভয়াবহ শাস্তি! ​আপনার পাশ দিয়ে জানাজার খাটিয়া চলে যায়, অথচ আপনার ভেতরের মানুষটা একটুও নড়েচড়ে বসে না। আপনার একটা পশমও শিউরে ওঠে না।

​আপনার কানে কোরআন তিলাওয়াতের সুর আসে, কিন্তু সেই সুর এক কান দিয়ে ঢুকে অন্য কান দিয়ে বেরিয়ে যায়। আপনার কলিজায় কি কোনো কম্পন সৃষ্টি হয়? ​আপনার নামাজগুলো একের পর এক কাজা হয়ে যাচ্ছে, অথচ আপনার শরীরের প্রতিটি কোষ যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে উঠছে না।

আপনি দিব্যি স্বাভাবিক আছেন! ​আপনি যখন বিপদগ্রস্ত মানুষদের দেখেন, তখনও কি আপনার নিজের সুস্থতা ও নিয়ামত নিয়ে একবারও আত্মতৃপ্তি আর কৃতজ্ঞতায় চোখ ভিজে উঠছে?

​ভাই আমার, আপনি কি এখনো জিজ্ঞাস করবেন-‘শাস্তি কোথায়?’ আপনার জ্যান্ত কলিজাটা যখন আজ পাথর হয়ে গেছে, তখন এর চেয়ে বড় আজাব আর কী হতে পারে?

​নিজেকে একটু সময় দিন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মৃতপ্রায় হৃদয়টাকে প্রশ্ন করুন। ফেরার সময় কি এখনো হয়নি?

​মূল বার্তা : পাপের সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো ইবাদতে স্বাদ না পাওয়া এবং গুনাহ করার পরও মনে অনুশোচনা না আসা। রিজিক বা দুনিয়াবি সুখ থাকা মানেই আল্লাহ সন্তুষ্ট-এমন ভাবাটা এক ধরনের বিভ্রম।