ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

ড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ,বাঁশ নিয়ে প্রকৌশলীকে তাড়া ঠিকাদারের

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সড়কের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে, এমন অভিযোগ পেয়েছিলেন এলজিইডি কর্মকর্তারা। সরেজমিনে সেই কাজ দেখতে যায় তাদের একটি দল। সেখানেই সরকারি এই দপ্তরের প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করেছেন এক প্রভাবশালী ঠিকাদার। সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর বাজার এলাকায় ঘটে এই ঘটনা।

ভুক্তভোগী মীর্জা মো. তরিকুল ইসলাম উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। তাঁর বাড়ি জামালপুরের বকশীগঞ্জে। তাঁকে লাঞ্ছনার পর বাঁশ নিয়েও তাড়া করেন প্রভাবশালী ঠিকাদার লোকমান হোসেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ছয়বাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স লোকমান হোসেন ট্রেড্রার্স।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নবীনগরের মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে কার্যাদেশ পায় রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কন্সট্রাকশন লিমিটেড। এলজিইডির আওতায় নির্মাণাধীন এ সড়কের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সড়কটির তদারকি করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রভাবশালী ঠিকাদার লোকমান হোসেন। তবে সূত্রের দাবি, মূলত নিজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই কাজটির সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন তিনি।

এলাকাবাসীর কাছ থেকে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পায় এলজিইডি। গতকাল সোমবার ঢাকা থেকে এলজিইডির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে স্থানীয় প্রকৌশলীরা সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শিবপুর এলাকায় যান। তখন ঠিকাদার লোকমান হোসেনকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন উপসহকারী প্রকৌশলী মীর্জা মো. তরিকুল ইসলাম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লোকমান তাঁকে পেটাতে উদ্যত হন। এক পর্যায়ে তিনি বাঁশ নিয়ে ওই প্রকৌশলীকে তাড়া করেন।

উপসহকারী প্রকৌশলী মীর্জা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘কাজের নিম্নমান নিয়ে প্রশ্ন করতেই ঠিকাদার লোকমান হোসেন ঢাকা ও জেলা থেকে আসা স্যারদের সামনেই আমাকে মারতে উদ্যত হন। এক পর্যায়ে হাতে বাঁশ নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে পেটানোর জন্য আমাকে দৌড়াতে থাকেন। দৌড়ে আমি কোনোরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে আসি।’

এ বিষয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার লোকমান খুবই খারাপ মানুষ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বক্তব্য জানতে ঠিকাদার লোকমান হোসেনের নম্বরে দফায় দফায় কল দিলেও ধরেননি। নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম সন্ধ্যায় বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর আমরা একজন এসআইকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। উপসহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম থানায় অবস্থান করছেন। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’

ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠান। বিষয়টি তারা শক্তভাবেই দেখছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এম এ মান্নানের ভাষ্য, ঘটনা শোনার পরই তিনি পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারী ঠিকাদারকে গ্রেপ্তারে নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তার ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে

ড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ,বাঁশ নিয়ে প্রকৌশলীকে তাড়া ঠিকাদারের

আপডেট সময় ০৮:১৫:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সড়কের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে, এমন অভিযোগ পেয়েছিলেন এলজিইডি কর্মকর্তারা। সরেজমিনে সেই কাজ দেখতে যায় তাদের একটি দল। সেখানেই সরকারি এই দপ্তরের প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করেছেন এক প্রভাবশালী ঠিকাদার। সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর বাজার এলাকায় ঘটে এই ঘটনা।

ভুক্তভোগী মীর্জা মো. তরিকুল ইসলাম উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। তাঁর বাড়ি জামালপুরের বকশীগঞ্জে। তাঁকে লাঞ্ছনার পর বাঁশ নিয়েও তাড়া করেন প্রভাবশালী ঠিকাদার লোকমান হোসেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ছয়বাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স লোকমান হোসেন ট্রেড্রার্স।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নবীনগরের মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে কার্যাদেশ পায় রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কন্সট্রাকশন লিমিটেড। এলজিইডির আওতায় নির্মাণাধীন এ সড়কের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সড়কটির তদারকি করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রভাবশালী ঠিকাদার লোকমান হোসেন। তবে সূত্রের দাবি, মূলত নিজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই কাজটির সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন তিনি।

এলাকাবাসীর কাছ থেকে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পায় এলজিইডি। গতকাল সোমবার ঢাকা থেকে এলজিইডির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে স্থানীয় প্রকৌশলীরা সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শিবপুর এলাকায় যান। তখন ঠিকাদার লোকমান হোসেনকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন উপসহকারী প্রকৌশলী মীর্জা মো. তরিকুল ইসলাম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লোকমান তাঁকে পেটাতে উদ্যত হন। এক পর্যায়ে তিনি বাঁশ নিয়ে ওই প্রকৌশলীকে তাড়া করেন।

উপসহকারী প্রকৌশলী মীর্জা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘কাজের নিম্নমান নিয়ে প্রশ্ন করতেই ঠিকাদার লোকমান হোসেন ঢাকা ও জেলা থেকে আসা স্যারদের সামনেই আমাকে মারতে উদ্যত হন। এক পর্যায়ে হাতে বাঁশ নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে পেটানোর জন্য আমাকে দৌড়াতে থাকেন। দৌড়ে আমি কোনোরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে আসি।’

এ বিষয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার লোকমান খুবই খারাপ মানুষ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বক্তব্য জানতে ঠিকাদার লোকমান হোসেনের নম্বরে দফায় দফায় কল দিলেও ধরেননি। নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম সন্ধ্যায় বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর আমরা একজন এসআইকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। উপসহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম থানায় অবস্থান করছেন। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’

ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠান। বিষয়টি তারা শক্তভাবেই দেখছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এম এ মান্নানের ভাষ্য, ঘটনা শোনার পরই তিনি পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারী ঠিকাদারকে গ্রেপ্তারে নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তার ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।