ঢাকা ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কলেজছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীর পুঠিয়ায় এক কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত ধর্ষকদের পক্ষ থেকে অব্যাহতভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এমনকি স্বপরিবারে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করে ওই ছাত্রীর পরিবার।

এ দিকে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকলে বৃহস্পতিবার পুঠিয়া থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসেস সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তরা হলেন- পুঠিয়ার নওয়াপাড়া এলাকার হাসেম আলীর ছেলে শাহজাহান আলী (২৪), আব্দুল জলিলের ছেলে শামীম (২৩) এবং আছের আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (২৫)। এর মধ্যে শাহজাহান আলী হলো মেয়েটির প্রাক্তন স্বামী। বেশ কিছুদিন আগে মেয়েটির সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। এরপর সম্প্রতি তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। তখন থেকেই মেয়েটি তার বাবার বাড়িতে থাকতো।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৮ সেপ্টেম্বর। তবে ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য তিন বখাটের পক্ষ থেকে অব্যাহতভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসা হচ্ছিল। এমনকি কাউকে বললে স্বপরিবারে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়। এতে করে প্রাণভয়ে ঘটানাটি এতোদিন কাউকে জানায়নি ওই ছাত্রী।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পুঠিয়ার নওয়াপাড়া এলাকার জনৈক ব্যক্তির মেয়ে এবং কলেজছাত্রী গত মাসের ২৮ তারিখ সন্ধ্যার দিকে একই এলাকায় তার নানীর বাড়িতে বেড়াতে যান। এরপর তিনি তার নানীর বাড়ি থেকে পাশেই নানীর বোনের বাড়িতে যাওয়ার জন্য রাত নয়টার দিকে বের হন। এ সময় তিন যুবক মেয়েটিকে জোর করে ধরে নিয়ে যায় বাড়ির পাশের বাগানের মধ্যে। এরপর তারা জোর করে মেয়েটিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

শেষে রাত ১১টার দিকে মেয়েটিকে ছেড়ে দেয় তারা। কিন্তু ঘটনাটি কাউকে বললে মেয়েটিসহ তার পরিবারের লোকজনকে প্রাণে ফেলার হুমকি দেয় ওই বখাটেরা। তখন মেয়েটি বাড়িতে চলে যায়।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা জানান, বাড়িতে আসার পর থেকে মেয়েটি ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে। কিন্তু নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের কথা চিন্তা করে ঘটনাটি কাউকে বলতে সাহস পাননি। তবে অবস্থা ক্রমেই অবণতি হতে থাকলে তাকে শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকালে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পুঠিয়া থানার ওসি সায়েদুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, ‘ওই ঘটনায় বখাটে তিন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কলেজছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:৪৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীর পুঠিয়ায় এক কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত ধর্ষকদের পক্ষ থেকে অব্যাহতভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এমনকি স্বপরিবারে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করে ওই ছাত্রীর পরিবার।

এ দিকে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকলে বৃহস্পতিবার পুঠিয়া থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসেস সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তরা হলেন- পুঠিয়ার নওয়াপাড়া এলাকার হাসেম আলীর ছেলে শাহজাহান আলী (২৪), আব্দুল জলিলের ছেলে শামীম (২৩) এবং আছের আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (২৫)। এর মধ্যে শাহজাহান আলী হলো মেয়েটির প্রাক্তন স্বামী। বেশ কিছুদিন আগে মেয়েটির সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। এরপর সম্প্রতি তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। তখন থেকেই মেয়েটি তার বাবার বাড়িতে থাকতো।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৮ সেপ্টেম্বর। তবে ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য তিন বখাটের পক্ষ থেকে অব্যাহতভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসা হচ্ছিল। এমনকি কাউকে বললে স্বপরিবারে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়। এতে করে প্রাণভয়ে ঘটানাটি এতোদিন কাউকে জানায়নি ওই ছাত্রী।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পুঠিয়ার নওয়াপাড়া এলাকার জনৈক ব্যক্তির মেয়ে এবং কলেজছাত্রী গত মাসের ২৮ তারিখ সন্ধ্যার দিকে একই এলাকায় তার নানীর বাড়িতে বেড়াতে যান। এরপর তিনি তার নানীর বাড়ি থেকে পাশেই নানীর বোনের বাড়িতে যাওয়ার জন্য রাত নয়টার দিকে বের হন। এ সময় তিন যুবক মেয়েটিকে জোর করে ধরে নিয়ে যায় বাড়ির পাশের বাগানের মধ্যে। এরপর তারা জোর করে মেয়েটিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

শেষে রাত ১১টার দিকে মেয়েটিকে ছেড়ে দেয় তারা। কিন্তু ঘটনাটি কাউকে বললে মেয়েটিসহ তার পরিবারের লোকজনকে প্রাণে ফেলার হুমকি দেয় ওই বখাটেরা। তখন মেয়েটি বাড়িতে চলে যায়।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা জানান, বাড়িতে আসার পর থেকে মেয়েটি ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে। কিন্তু নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের কথা চিন্তা করে ঘটনাটি কাউকে বলতে সাহস পাননি। তবে অবস্থা ক্রমেই অবণতি হতে থাকলে তাকে শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকালে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পুঠিয়া থানার ওসি সায়েদুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, ‘ওই ঘটনায় বখাটে তিন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’