ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

চ্যালেঞ্জের মুখে পোশাকশিল্প

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প। একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। আর একক অঞ্চল হিসেবে পোশাক রপ্তানি হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে। দেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশ ইউরোপে রপ্তানি হয়ে থাকে।

পাল্টা শুল্ক আরোপের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে। পোশাক খাতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিযোগী দেশ ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে। ভারত বর্তমানে ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে ১২ শতাংশ শুল্ক দেয়। এ চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে এ শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ লাভ করবে। ২০২৯ সালের পর বাংলাদেশ আর শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না। ইইউ-এর সঙ্গে নতুন চুক্তি না করলে বাংলাদেশের রপ্তানিতে প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে। ফলে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে তার দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হারাবে। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের পোশাক খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানার উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। উন্নত অবকাঠামোর অভাব, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের হার, আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন শ্রমিকের অভাব রয়েছে। এসব বিষয়ের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের বিষয় হলো ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। ফলে ভারতের রপ্তানি বাড়বে। বাংলাদেশের রপ্তানির বাজার ভারতের বাজারে কিছুটা হলেও যাবে। আবার ইইউ-ভিয়েতনাম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারণে ২০২৭ সালের মধ্যে ভিয়েতনামের শুল্কও শূন্যে নেমে আসবে। এই সম্মিলিত প্রভাব বাংলাদেশের রপ্তানিতে পড়বে। এজন্য সরকারকে দ্রুত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে আলোচনা করতে হবে অথবা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘ইউরোপ আমাদের সর্ববৃহৎ বাজার। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশ ইউরোপে রপ্তানি হয়। ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন হলে তাদের বর্তমান শুল্ক শূন্য হয়ে যাবে। এতে তাদের সক্ষমতা অনেক বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘ভারত কটনের ওপর যে সাপোর্ট দেয়, সেটা অনেক বেশি। সে ক্ষেত্রে ওরা এই জায়গায় এগিয়ে যাবে। ওদের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন তাঁরা ৩০-৪০ বিলিয়ন পর্যন্ত টার্গেট করবেন। ইউরোপের বাজার প্রায় ২০০-২৫০ বিলিয়নের ওপরে। তাদের বাজার বাড়ানোর এই শেয়ারটা আমাদের সবার থেকে কমবেশি নেবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত হবে নতুন জ্বালানি অবকাঠামো: প্রধানমন্ত্রী

চ্যালেঞ্জের মুখে পোশাকশিল্প

আপডেট সময় ০৯:০৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প। একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। আর একক অঞ্চল হিসেবে পোশাক রপ্তানি হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে। দেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশ ইউরোপে রপ্তানি হয়ে থাকে।

পাল্টা শুল্ক আরোপের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে। পোশাক খাতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিযোগী দেশ ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে। ভারত বর্তমানে ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে ১২ শতাংশ শুল্ক দেয়। এ চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে এ শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ লাভ করবে। ২০২৯ সালের পর বাংলাদেশ আর শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না। ইইউ-এর সঙ্গে নতুন চুক্তি না করলে বাংলাদেশের রপ্তানিতে প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে। ফলে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে তার দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হারাবে। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের পোশাক খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানার উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। উন্নত অবকাঠামোর অভাব, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের হার, আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন শ্রমিকের অভাব রয়েছে। এসব বিষয়ের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের বিষয় হলো ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। ফলে ভারতের রপ্তানি বাড়বে। বাংলাদেশের রপ্তানির বাজার ভারতের বাজারে কিছুটা হলেও যাবে। আবার ইইউ-ভিয়েতনাম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারণে ২০২৭ সালের মধ্যে ভিয়েতনামের শুল্কও শূন্যে নেমে আসবে। এই সম্মিলিত প্রভাব বাংলাদেশের রপ্তানিতে পড়বে। এজন্য সরকারকে দ্রুত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে আলোচনা করতে হবে অথবা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘ইউরোপ আমাদের সর্ববৃহৎ বাজার। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশ ইউরোপে রপ্তানি হয়। ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন হলে তাদের বর্তমান শুল্ক শূন্য হয়ে যাবে। এতে তাদের সক্ষমতা অনেক বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘ভারত কটনের ওপর যে সাপোর্ট দেয়, সেটা অনেক বেশি। সে ক্ষেত্রে ওরা এই জায়গায় এগিয়ে যাবে। ওদের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন তাঁরা ৩০-৪০ বিলিয়ন পর্যন্ত টার্গেট করবেন। ইউরোপের বাজার প্রায় ২০০-২৫০ বিলিয়নের ওপরে। তাদের বাজার বাড়ানোর এই শেয়ারটা আমাদের সবার থেকে কমবেশি নেবে।’