ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমানকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিঠি, অংশীদারিত্ব জোরদারে প্রতিশ্রুতি ১৭ বছর পর জুতা পরলেন বিএনপি ভক্ত সুরুজ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ইফতার-সেহরির ব্যবস্থা করলেন জাইমা রহমান ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছাড়া আ.লীগ কার্যালয় খোলার সাহস পেত না: নাহিদ ইসলাম রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে ফুটবলার ওজিলের গাড়িবহর বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত সংস্কারের তাগিদ বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর সফল রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রয়োজন: মির্জা ফখরুল আমরা শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করব না : ববি হাজ্জাজ সমঝোতায় নেওয়া অর্থ চাঁদা নয়, জোর করলে তবেই চাঁদা: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় বিএনপিকর্মীর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ

মঙ্গলে কি একসময় প্রাণ ছিল? জবাব খুঁজছে নাসার রোভার

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মঙ্গল গ্রহে একসময় প্রাণ ছিল—এখন সেই ধারণা আরও জোরালো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা জানিয়েছেন, তাদের রোবোটিক যান কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলের মাটিতে এমন জৈব অণুর সন্ধান পেয়েছে, যা প্রাণের উপাদান তৈরি করতে কাজে লাগে।

রোভারটি বর্তমানে মঙ্গলের গেইল ক্রেটার (মঙ্গলের একটি বিশাল গর্ত/খাদ)–এর ভেতরে, মাউন্ট শার্প (এলাকার একটি পাহাড়)–এর পাদদেশে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। সেখানে পাথরে ড্রিল করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, সেই পাথরের ভেতরে ডেকেন, আনডেকেন ও ডোডেকেন নামে কিছু রাসায়নিক যৌগ আছে, যাদেরকে হাইড্রোকার্বন বলা হয়। হাইড্রোকার্বন এমন রাসায়নিক যা পৃথিবীতে প্রাণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকে। নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই রাসায়নিকগুলোর গঠন অনেকটা ফ্যাটি অ্যাসিড–এর মতো, যেটি কোষ বা সেল তৈরির প্রধান উপাদান।

বিশেষ কথা হলো—এগুলো প্রায় ৩৭০ কোটি বছর আগের কাদা–পাথরে সংরক্ষিত। সাধারণত মহাকাশ থেকে আসা ক্ষতিকর রশি সময়ের সঙ্গে জৈব অণুগুলোকে নষ্ট করে দেয়। কিন্তু ল্যাবরেটরি টেস্ট ও কম্পিউটার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব রাসায়নিক এত দীর্ঘ সময়ে টিকে থাকতে পারে, যা সহজভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। বিজ্ঞানীরা তাই মনে করছেন, এই অণুগুলোর পেছনে জৈবিক (প্রাণের সঙ্গে সম্পর্কিত) কারণ থাকতে পারে।

২০১২ সালে মঙ্গলে অবতরণ করার পর থেকে কিউরিওসিটি রোভার একের পর এক রহস্য উদ্ঘাটন করছে। মাউন্ট শার্পের স্তরগুলো দেখতে অনেকটা একটি বিশাল কেকের মতো। প্রতিটি স্তর মঙ্গলের বিভিন্ন যুগের ইতিহাস বোঝায়। প্রাচীন হ্রদ, পাথুরে এলাকা এবং সালফেটে সমৃদ্ধ স্তর—সবকিছু মিলিয়ে রোভারটি প্রাণের জন্য উপযোগী পরিবেশের সন্ধান করছে।

এই নতুন আবিষ্কার মঙ্গল গ্রহে প্রাচীন প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, গবেষণা এখনও চলছে। ভবিষ্যতে আরও তথ্য মিললে মঙ্গলের অতীত আরও স্পষ্ট হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

তারেক রহমানকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিঠি, অংশীদারিত্ব জোরদারে প্রতিশ্রুতি

মঙ্গলে কি একসময় প্রাণ ছিল? জবাব খুঁজছে নাসার রোভার

আপডেট সময় ১১:৩০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মঙ্গল গ্রহে একসময় প্রাণ ছিল—এখন সেই ধারণা আরও জোরালো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা জানিয়েছেন, তাদের রোবোটিক যান কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলের মাটিতে এমন জৈব অণুর সন্ধান পেয়েছে, যা প্রাণের উপাদান তৈরি করতে কাজে লাগে।

রোভারটি বর্তমানে মঙ্গলের গেইল ক্রেটার (মঙ্গলের একটি বিশাল গর্ত/খাদ)–এর ভেতরে, মাউন্ট শার্প (এলাকার একটি পাহাড়)–এর পাদদেশে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। সেখানে পাথরে ড্রিল করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, সেই পাথরের ভেতরে ডেকেন, আনডেকেন ও ডোডেকেন নামে কিছু রাসায়নিক যৌগ আছে, যাদেরকে হাইড্রোকার্বন বলা হয়। হাইড্রোকার্বন এমন রাসায়নিক যা পৃথিবীতে প্রাণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকে। নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই রাসায়নিকগুলোর গঠন অনেকটা ফ্যাটি অ্যাসিড–এর মতো, যেটি কোষ বা সেল তৈরির প্রধান উপাদান।

বিশেষ কথা হলো—এগুলো প্রায় ৩৭০ কোটি বছর আগের কাদা–পাথরে সংরক্ষিত। সাধারণত মহাকাশ থেকে আসা ক্ষতিকর রশি সময়ের সঙ্গে জৈব অণুগুলোকে নষ্ট করে দেয়। কিন্তু ল্যাবরেটরি টেস্ট ও কম্পিউটার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব রাসায়নিক এত দীর্ঘ সময়ে টিকে থাকতে পারে, যা সহজভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। বিজ্ঞানীরা তাই মনে করছেন, এই অণুগুলোর পেছনে জৈবিক (প্রাণের সঙ্গে সম্পর্কিত) কারণ থাকতে পারে।

২০১২ সালে মঙ্গলে অবতরণ করার পর থেকে কিউরিওসিটি রোভার একের পর এক রহস্য উদ্ঘাটন করছে। মাউন্ট শার্পের স্তরগুলো দেখতে অনেকটা একটি বিশাল কেকের মতো। প্রতিটি স্তর মঙ্গলের বিভিন্ন যুগের ইতিহাস বোঝায়। প্রাচীন হ্রদ, পাথুরে এলাকা এবং সালফেটে সমৃদ্ধ স্তর—সবকিছু মিলিয়ে রোভারটি প্রাণের জন্য উপযোগী পরিবেশের সন্ধান করছে।

এই নতুন আবিষ্কার মঙ্গল গ্রহে প্রাচীন প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, গবেষণা এখনও চলছে। ভবিষ্যতে আরও তথ্য মিললে মঙ্গলের অতীত আরও স্পষ্ট হবে।