ঢাকা ০১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামের কাছে দ্বিতীয় স্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ: বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে কেমিক্যাল কারখানায় আগুন, ফায়ার ফাইটারসহ আহত ৫ দেশে আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বাহাত্তরের সংবিধান থেকেই ফ্যাসিবাদের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল: ড. দিলারা চৌধুরী দলীয় পদধারীদের নিয়োগ দিলে গণতন্ত্র অবশিষ্ট থাকে না: আখতার হোসেন তিন সীমান্তে ২২ জনকে পুশইন চেষ্টা নস্যাৎ বিজিবির ভালো কাজ না করলে সমর্থনের প্রয়োজন নেই: সারজিস

২০ টাকার মামলায় ৩০ বছর কারাভোগ, নির্দোষ প্রমাণের পরদিনই মৃত্যু!

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

খুব ছোট একটি অভিযোগ, কিন্তু তার শাস্তি ছিল দীর্ঘ ৩০ বছর। গুজরাটের পুলিশ সদস্য বাবুভাই প্রজাপতির জীবনের গল্প যেন নীরব কষ্টের ইতিহাস। মাত্র ২০ টাকা (রূপি) ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তাকে জেলে যেতে হয়েছিল। তিন দশক ধরে তাকে বয়ে বেড়াতে হয়েছে অপরাধীর তকমা। অবশেষে আদালত বলল—তিনি নির্দোষ। কিন্তু সেই সুখের রায় পাওয়ার পরের দিনই তার জীবন থেমে গেল।

ঘটনাটি শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। তখন বাবুভাই প্রজাপতি আহমেদাবাদে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি ২০ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা হয়।

১৯৯৭ সালে আদালতে অভিযোগপত্র জমা পড়ে। ২০০২ সালে অভিযোগ গঠন হয়। ২০০৩ সালে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০০৪ সালে সেশন আদালত বাবুভাইকে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে চার বছরের কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় তার দীর্ঘ লড়াই।

এই রায়ের বিরুদ্ধে বাবুভাই গুজরাট হাইকোর্টে আপিল করেন। কিন্তু সেই আপিলের রায় পেতে কেটে যায় আরও ২২ বছর। অবশেষে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেয়। আদালত জানায়, সাক্ষীদের বক্তব্যে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। তাই বাবুভাই প্রজাপতি সম্পূর্ণ নির্দোষ।

রায় পাওয়ার পর বাবুভাই বলেছিলেন, আমার জীবনের কলঙ্ক মুছে গেছে। এখন যদি ঈশ্বর আমাকে ডেকে নেন, তবুও আমার কোনো দুঃখ থাকবে না। এই কথা যেন ভবিষ্যতের ইঙ্গিতই ছিল।

রায়ের পর তিনি আইনজীবীর অফিস থেকে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু পরদিনই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

আইনজীবী নিতিন গান্ধী জানান, রায়ের দিন বাবুভাই খুব খুশি ছিলেন। তাকে তার প্রাপ্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে আবেদনের কথা বলেছিলাম। কিন্তু সেই সুযোগ আর হলো না। পরদিন শুনি তিনি মারা গেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

২০ টাকার মামলায় ৩০ বছর কারাভোগ, নির্দোষ প্রমাণের পরদিনই মৃত্যু!

আপডেট সময় ১০:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

খুব ছোট একটি অভিযোগ, কিন্তু তার শাস্তি ছিল দীর্ঘ ৩০ বছর। গুজরাটের পুলিশ সদস্য বাবুভাই প্রজাপতির জীবনের গল্প যেন নীরব কষ্টের ইতিহাস। মাত্র ২০ টাকা (রূপি) ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তাকে জেলে যেতে হয়েছিল। তিন দশক ধরে তাকে বয়ে বেড়াতে হয়েছে অপরাধীর তকমা। অবশেষে আদালত বলল—তিনি নির্দোষ। কিন্তু সেই সুখের রায় পাওয়ার পরের দিনই তার জীবন থেমে গেল।

ঘটনাটি শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। তখন বাবুভাই প্রজাপতি আহমেদাবাদে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি ২০ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা হয়।

১৯৯৭ সালে আদালতে অভিযোগপত্র জমা পড়ে। ২০০২ সালে অভিযোগ গঠন হয়। ২০০৩ সালে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০০৪ সালে সেশন আদালত বাবুভাইকে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে চার বছরের কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় তার দীর্ঘ লড়াই।

এই রায়ের বিরুদ্ধে বাবুভাই গুজরাট হাইকোর্টে আপিল করেন। কিন্তু সেই আপিলের রায় পেতে কেটে যায় আরও ২২ বছর। অবশেষে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেয়। আদালত জানায়, সাক্ষীদের বক্তব্যে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। তাই বাবুভাই প্রজাপতি সম্পূর্ণ নির্দোষ।

রায় পাওয়ার পর বাবুভাই বলেছিলেন, আমার জীবনের কলঙ্ক মুছে গেছে। এখন যদি ঈশ্বর আমাকে ডেকে নেন, তবুও আমার কোনো দুঃখ থাকবে না। এই কথা যেন ভবিষ্যতের ইঙ্গিতই ছিল।

রায়ের পর তিনি আইনজীবীর অফিস থেকে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু পরদিনই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

আইনজীবী নিতিন গান্ধী জানান, রায়ের দিন বাবুভাই খুব খুশি ছিলেন। তাকে তার প্রাপ্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে আবেদনের কথা বলেছিলাম। কিন্তু সেই সুযোগ আর হলো না। পরদিন শুনি তিনি মারা গেছেন।