ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিজের ভালো চাইলে নয়নকে চুপ করান, মির্জা আব্বাসকে পাটওয়ারী ইসির ব্যালট প্রকল্পে ২০ লাখ ডলার দিচ্ছে কানাডা ১২ তারিখ মজলুম থেকে জালিম হওয়াদের পতন হবে: জামায়াত আমির ইরানে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মোহাম্মাদির ছয় বছরের কারাদণ্ড সতর্ক থাকতে হবে, আপনাদের রায়কে কেউ যেন পাল্টে দিতে না পারে: তারেক রহমান থাইল্যান্ড উপকূলে কন্টেইনারসহ জাহাজডুবি, ১৬ বাংলাদেশি নাবিক উদ্ধার বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে ৫০ আহত, প্রার্থীর গাড়ি অবরুদ্ধ বিএনপি যে স্বপ্ন দেখায়, তা পূরণ করে: খন্দকার মোশাররফ নিপীড়নের ব্যবস্থা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমূলে উৎপাটন করা হবে: নাহিদ ইসলাম নিজের বিরুদ্ধে ডাকা সমাবেশে হাজির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

২০ টাকার মামলায় ৩০ বছর কারাভোগ, নির্দোষ প্রমাণের পরদিনই মৃত্যু!

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

খুব ছোট একটি অভিযোগ, কিন্তু তার শাস্তি ছিল দীর্ঘ ৩০ বছর। গুজরাটের পুলিশ সদস্য বাবুভাই প্রজাপতির জীবনের গল্প যেন নীরব কষ্টের ইতিহাস। মাত্র ২০ টাকা (রূপি) ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তাকে জেলে যেতে হয়েছিল। তিন দশক ধরে তাকে বয়ে বেড়াতে হয়েছে অপরাধীর তকমা। অবশেষে আদালত বলল—তিনি নির্দোষ। কিন্তু সেই সুখের রায় পাওয়ার পরের দিনই তার জীবন থেমে গেল।

ঘটনাটি শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। তখন বাবুভাই প্রজাপতি আহমেদাবাদে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি ২০ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা হয়।

১৯৯৭ সালে আদালতে অভিযোগপত্র জমা পড়ে। ২০০২ সালে অভিযোগ গঠন হয়। ২০০৩ সালে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০০৪ সালে সেশন আদালত বাবুভাইকে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে চার বছরের কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় তার দীর্ঘ লড়াই।

এই রায়ের বিরুদ্ধে বাবুভাই গুজরাট হাইকোর্টে আপিল করেন। কিন্তু সেই আপিলের রায় পেতে কেটে যায় আরও ২২ বছর। অবশেষে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেয়। আদালত জানায়, সাক্ষীদের বক্তব্যে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। তাই বাবুভাই প্রজাপতি সম্পূর্ণ নির্দোষ।

রায় পাওয়ার পর বাবুভাই বলেছিলেন, আমার জীবনের কলঙ্ক মুছে গেছে। এখন যদি ঈশ্বর আমাকে ডেকে নেন, তবুও আমার কোনো দুঃখ থাকবে না। এই কথা যেন ভবিষ্যতের ইঙ্গিতই ছিল।

রায়ের পর তিনি আইনজীবীর অফিস থেকে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু পরদিনই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

আইনজীবী নিতিন গান্ধী জানান, রায়ের দিন বাবুভাই খুব খুশি ছিলেন। তাকে তার প্রাপ্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে আবেদনের কথা বলেছিলাম। কিন্তু সেই সুযোগ আর হলো না। পরদিন শুনি তিনি মারা গেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

নিজের ভালো চাইলে নয়নকে চুপ করান, মির্জা আব্বাসকে পাটওয়ারী

২০ টাকার মামলায় ৩০ বছর কারাভোগ, নির্দোষ প্রমাণের পরদিনই মৃত্যু!

আপডেট সময় ১০:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

খুব ছোট একটি অভিযোগ, কিন্তু তার শাস্তি ছিল দীর্ঘ ৩০ বছর। গুজরাটের পুলিশ সদস্য বাবুভাই প্রজাপতির জীবনের গল্প যেন নীরব কষ্টের ইতিহাস। মাত্র ২০ টাকা (রূপি) ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তাকে জেলে যেতে হয়েছিল। তিন দশক ধরে তাকে বয়ে বেড়াতে হয়েছে অপরাধীর তকমা। অবশেষে আদালত বলল—তিনি নির্দোষ। কিন্তু সেই সুখের রায় পাওয়ার পরের দিনই তার জীবন থেমে গেল।

ঘটনাটি শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। তখন বাবুভাই প্রজাপতি আহমেদাবাদে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি ২০ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা হয়।

১৯৯৭ সালে আদালতে অভিযোগপত্র জমা পড়ে। ২০০২ সালে অভিযোগ গঠন হয়। ২০০৩ সালে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০০৪ সালে সেশন আদালত বাবুভাইকে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে চার বছরের কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় তার দীর্ঘ লড়াই।

এই রায়ের বিরুদ্ধে বাবুভাই গুজরাট হাইকোর্টে আপিল করেন। কিন্তু সেই আপিলের রায় পেতে কেটে যায় আরও ২২ বছর। অবশেষে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেয়। আদালত জানায়, সাক্ষীদের বক্তব্যে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। তাই বাবুভাই প্রজাপতি সম্পূর্ণ নির্দোষ।

রায় পাওয়ার পর বাবুভাই বলেছিলেন, আমার জীবনের কলঙ্ক মুছে গেছে। এখন যদি ঈশ্বর আমাকে ডেকে নেন, তবুও আমার কোনো দুঃখ থাকবে না। এই কথা যেন ভবিষ্যতের ইঙ্গিতই ছিল।

রায়ের পর তিনি আইনজীবীর অফিস থেকে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু পরদিনই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

আইনজীবী নিতিন গান্ধী জানান, রায়ের দিন বাবুভাই খুব খুশি ছিলেন। তাকে তার প্রাপ্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে আবেদনের কথা বলেছিলাম। কিন্তু সেই সুযোগ আর হলো না। পরদিন শুনি তিনি মারা গেছেন।