আকাশ জাতীয় ডেস্ক :
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরের নির্মাণাধীন চার লেন সেতুর স্টিলের শাটার ভেঙে পড়ে রাসেল হাওলাদার (২৬) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আজ রোববার এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তিন শ্রমিক।
নিহত রাসেল হাওলাদারের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের অঞ্জুপাড়া গ্রামে। আহতরা হলেন– আলম, রঞ্জু ও রাকিবুল হাসান।
মোহাম্মদ কাইয়ুম ও ইমরান নামে দুই শ্রমিক জানান, সকাল থেকে পায়রা বন্দরের কাছাকাছি নির্মাণাধীন চার লেন সেতুর কাজ করছিলেন কয়েক শ্রমিক। কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া ও লালুয়া ইউনিয়নের চিংগড়িয়া গ্রামকে যুক্ত করে আন্ধারমানিক নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুর পূর্ব অংশে ঢালাইয়ের জন্য শাটারিংয়ের কাজ চলছিল। এ সময় হঠাৎ শাটার ভেঙে পড়ে। এর নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই রাসেলের মৃত্যু হয়। আহত হন তিন শ্রমিক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (সিআরবিজি) এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন লিমিটেড (সিসিইসিসি) সেতুর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। ১ হাজার ১৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুর কাজ ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
আহত শ্রমিক আলম জানান, তারা সেতুটির লালুয়া অংশে কাজ করছিলেন। প্রায় ৬ মিটার দীর্ঘ শাটারের ওপর ৯ জন ও নিচে মাটিতে ১২ শ্রমিক কাজ করছিলেন। মাটি থেকে অন্তত ৩০ ফুট উপরে শাটারটি চেইন কপ্পা ও টাই রডে নাট দিয়ে ঝুলানো ছিল। তারা সেগমেন্টের ঢালাই কাজ শেষ করে শাটার (সেন্টারিং) খুলছিলেন। এ সময় শাটারটি আচমকা ছিঁড়ে নিচে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, রাসেল নামের ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। আহত রঞ্জু ও রাকিবুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আলমের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হাসপাতালে গিয়ে হতাহতদের খোঁজ খবর নিয়েছেন তিনি। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ হতাহতদের সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করেছে বলে কাউছার হামিদ নিশ্চিত করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















