ঢাকা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রকে হিসেবি হতে হবে: ট্রাম্পকে শি

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক দীর্ঘ ফোনালাপে তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ানকে ‌‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, স্বশাসিত এই দ্বীপে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে আরও ‘বিচক্ষণ’ ও ‘সতর্ক’ হতে হবে।

ফোনালাপে শি জিনপিং স্পষ্ট করে বলেন, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিং তার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কোনো আপস করবে না। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলারের যে বিশাল অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিল, তা নিয়ে বেইজিং তাদের তীব্র উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

শি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেমন নিজস্ব উদ্বেগ আছে, চীনেরও তেমন আছে। যদি উভয়পক্ষ সমমর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে কাজ করে, তবে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

ট্রাম্প এই ফোনালাপকে ‘দীর্ঘ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ’ বলে বর্ণনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, চীন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানির পরিমাণ ১২ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ২০ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার কথা বিবেচনা করছে। ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। আমরা দুজনেই এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চাই।

তাইওয়ান এবং সয়াবিন ছাড়াও দুই নেতার মধ্যে বৈশ্বিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বর্তমান ইরান পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের তেল ও গ্যাস ক্রয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী এপ্রিলে ট্রাম্পের চীন সফর করার কথা রয়েছে, যা নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী।

গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই নেতার বৈঠকের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যকার ট্যারিফ যুদ্ধ এবং চিপ নিয়ে বিরোধ কিছুটা থিতু হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে সয়াবিন এবং টিকটক-সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সমাধান হওয়ায় সম্পর্ক উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার কয়েক ঘণ্টা আগেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন শি জিনপিং। ক্রেমলিন জানিয়েছে, পুতিনও বছরের প্রথমার্ধে চীন সফরে যাবেন। বেইজিংয়ের এই দ্বিমুখী তৎপরতাকে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘চায়না ডেইলি’ একটি ‘স্থিতিশীল শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

এদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ‘পাথরের মতো শক্ত’ রয়েছে এবং সামরিক সহযোগিতা পূর্বপরিকল্পিতভাবেই চলবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রকে হিসেবি হতে হবে: ট্রাম্পকে শি

আপডেট সময় ০৮:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক দীর্ঘ ফোনালাপে তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ানকে ‌‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, স্বশাসিত এই দ্বীপে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে আরও ‘বিচক্ষণ’ ও ‘সতর্ক’ হতে হবে।

ফোনালাপে শি জিনপিং স্পষ্ট করে বলেন, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিং তার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কোনো আপস করবে না। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলারের যে বিশাল অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিল, তা নিয়ে বেইজিং তাদের তীব্র উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

শি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেমন নিজস্ব উদ্বেগ আছে, চীনেরও তেমন আছে। যদি উভয়পক্ষ সমমর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে কাজ করে, তবে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

ট্রাম্প এই ফোনালাপকে ‘দীর্ঘ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ’ বলে বর্ণনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, চীন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানির পরিমাণ ১২ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ২০ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার কথা বিবেচনা করছে। ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। আমরা দুজনেই এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চাই।

তাইওয়ান এবং সয়াবিন ছাড়াও দুই নেতার মধ্যে বৈশ্বিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বর্তমান ইরান পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের তেল ও গ্যাস ক্রয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী এপ্রিলে ট্রাম্পের চীন সফর করার কথা রয়েছে, যা নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী।

গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই নেতার বৈঠকের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যকার ট্যারিফ যুদ্ধ এবং চিপ নিয়ে বিরোধ কিছুটা থিতু হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে সয়াবিন এবং টিকটক-সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সমাধান হওয়ায় সম্পর্ক উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার কয়েক ঘণ্টা আগেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন শি জিনপিং। ক্রেমলিন জানিয়েছে, পুতিনও বছরের প্রথমার্ধে চীন সফরে যাবেন। বেইজিংয়ের এই দ্বিমুখী তৎপরতাকে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘চায়না ডেইলি’ একটি ‘স্থিতিশীল শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

এদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ‘পাথরের মতো শক্ত’ রয়েছে এবং সামরিক সহযোগিতা পূর্বপরিকল্পিতভাবেই চলবে।