ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত ‘সুধাসদন’ থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ নিয়ে তাকে সাংবিধানিকভাবে দায়মুক্তি দিয়ে গেছে নাহিদ মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না: পানিসম্পদমন্ত্রী জুলাইয়ের দিনগুলোই জ্বলন্ত সাক্ষী, ইসলামী আন্দোলন মানবতার পক্ষের শক্তি: চরমোনাই পীর ভারতের আন্দোলনরত ছাত্র-তরুণদেরকে অভিনন্দন নাহিদ ইসলামের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে: আইনমন্ত্রী আন্দোলন প্রত্যাহার করল ককরোচ জনতা পার্টি জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলস কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী বিনা চিকিৎসায় কেউ মারা যাবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রজ্ঞাপন জারি

বালুর দানায় জমে থাকা গ্যাস বলবে ‘ভূমি কত পুরোনো’

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

পৃথিবীর মাটি, পাহাড় আর সমুদ্রতট সব সময় এক রকম থাকে না। কোথাও ধীরে ধীরে মাটি ক্ষয় হয়, কোথাও আবার বালু জমে নতুন ভূমি তৈরি হয়। কিন্তু এসব পরিবর্তন ঘটে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে। তাই প্রশ্ন ওঠে—এত পুরোনো ইতিহাস বিজ্ঞানীরা জানেন কীভাবে?

এবার বিজ্ঞানীরা এমন এক নতুন উপায় পেয়েছেন, যা দিয়ে বোঝা যাবে—একটি বালুর দানা কতদিন পৃথিবীর পৃষ্ঠে ছিল।

তারা বলেছেন, এই কাজটি সম্ভব হচ্ছে জিরকন নামের খুব ছোট স্ফটিকের কারণে। জিরকন অনেক শক্ত খনিজ। এটি সহজে ভাঙে না। অনেক সময় বালুর মধ্যেও জিরকনের ক্ষুদ্র কণা থাকে।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মহাকাশ থেকে আসা কসমিক রে (মহাজাগতিক রশ্মি—মহাকাশের শক্তিশালী কণা) পৃথিবীর মাটিতে আঘাত করে। এতে কিছু গ্যাস তৈরি হয়। এর মধ্যে ক্রিপ্টন নামে একটি গ্যাস জিরকন স্ফটিকের ভেতর আটকে থাকে এবং অনেক বছর ধরে জমতে থাকে।

সহজভাবে বললে—জিরকনের ভেতরে যত বেশি ক্রিপ্টন, বুঝতে হবে ওই কণা তত বেশি সময় পৃথিবীর উপরিভাগে ছিল।

এই গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার নুলারবর সমভূমি থেকে সৈকতের বালু সংগ্রহ করেন। এরপর লেজার দিয়ে জিরকনের কণা গলিয়ে তার ভেতরের গ্যাস বের করে মাপেন।

ফলাফলে দেখা গেছে—প্রায় ৪ কোটি বছর আগে ওই অঞ্চলের ভূমি খুব ধীরে বদলেছে। ক্ষয়ের হার ছিল প্রতি ১০ লাখ বছরে ১ মিটারেরও কম। অর্থাৎ ভূমি প্রায় স্থির ছিল বলা যায়। আরও জানা গেছে, বালু উৎসস্থান থেকে সৈকতে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় ১৬ লাখ বছর।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই দীর্ঘ সময়ে দুর্বল খনিজ নষ্ট হয়ে গেছে, কিন্তু শক্ত খনিজ যেমন জিরকন টিকে গেছে। এ কারণেই অস্ট্রেলিয়ার কিছু সৈকতে ভারী খনিজ বেশি দেখা যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত ‘সুধাসদন’ থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বালুর দানায় জমে থাকা গ্যাস বলবে ‘ভূমি কত পুরোনো’

আপডেট সময় ১১:২০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

পৃথিবীর মাটি, পাহাড় আর সমুদ্রতট সব সময় এক রকম থাকে না। কোথাও ধীরে ধীরে মাটি ক্ষয় হয়, কোথাও আবার বালু জমে নতুন ভূমি তৈরি হয়। কিন্তু এসব পরিবর্তন ঘটে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে। তাই প্রশ্ন ওঠে—এত পুরোনো ইতিহাস বিজ্ঞানীরা জানেন কীভাবে?

এবার বিজ্ঞানীরা এমন এক নতুন উপায় পেয়েছেন, যা দিয়ে বোঝা যাবে—একটি বালুর দানা কতদিন পৃথিবীর পৃষ্ঠে ছিল।

তারা বলেছেন, এই কাজটি সম্ভব হচ্ছে জিরকন নামের খুব ছোট স্ফটিকের কারণে। জিরকন অনেক শক্ত খনিজ। এটি সহজে ভাঙে না। অনেক সময় বালুর মধ্যেও জিরকনের ক্ষুদ্র কণা থাকে।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মহাকাশ থেকে আসা কসমিক রে (মহাজাগতিক রশ্মি—মহাকাশের শক্তিশালী কণা) পৃথিবীর মাটিতে আঘাত করে। এতে কিছু গ্যাস তৈরি হয়। এর মধ্যে ক্রিপ্টন নামে একটি গ্যাস জিরকন স্ফটিকের ভেতর আটকে থাকে এবং অনেক বছর ধরে জমতে থাকে।

সহজভাবে বললে—জিরকনের ভেতরে যত বেশি ক্রিপ্টন, বুঝতে হবে ওই কণা তত বেশি সময় পৃথিবীর উপরিভাগে ছিল।

এই গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার নুলারবর সমভূমি থেকে সৈকতের বালু সংগ্রহ করেন। এরপর লেজার দিয়ে জিরকনের কণা গলিয়ে তার ভেতরের গ্যাস বের করে মাপেন।

ফলাফলে দেখা গেছে—প্রায় ৪ কোটি বছর আগে ওই অঞ্চলের ভূমি খুব ধীরে বদলেছে। ক্ষয়ের হার ছিল প্রতি ১০ লাখ বছরে ১ মিটারেরও কম। অর্থাৎ ভূমি প্রায় স্থির ছিল বলা যায়। আরও জানা গেছে, বালু উৎসস্থান থেকে সৈকতে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় ১৬ লাখ বছর।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই দীর্ঘ সময়ে দুর্বল খনিজ নষ্ট হয়ে গেছে, কিন্তু শক্ত খনিজ যেমন জিরকন টিকে গেছে। এ কারণেই অস্ট্রেলিয়ার কিছু সৈকতে ভারী খনিজ বেশি দেখা যায়।