ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা সংসদে গেলে স্বর্ণের দেশে পরিণত হবে’: রেজাউল করিম শেখ হাসিনা চাচ্ছে না বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক : মেজর হাফিজ ৫৪ বছরে ক্ষমতায় যারা ছিল, তাদের শ্বশুরবাড়ির সম্পদ হু হু করে বেড়েছে:শফিকুর রহমান ৫ দশমিক ৯ মাত্রায় ফের ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থানকারী দলের ইতিহাস বিকৃতিতে জাতি স্তব্ধ: মাহদী আমিন সাপ আর ভারতীয়র দেখা একসঙ্গে পেলে, আগে ভারতীয়কে মারা উচিত: এপস্টেইন নথি ‘আগামীতে এমনও শুনতে হবে জামায়াত দেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল’:সালাহউদ্দিন দায়িত্ব শেষে আমি নাগরিক সমাজের কাজে ফিরে যাবো : শিক্ষা উপদেষ্টা আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভিয়েতনাম, গোপন নথি ফাঁস পাতানো নির্বাচনের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই, অধিকার আদায়ে জনগণ জীবন দিতে প্রস্তুত: আসিফ মাহমুদ

সমুদ্রে ভেসে যাওয়া মা, ভাই-বোনকে বাঁচাতে সাঁতরে ৪ কিমি পাড়ি দিল কিশোর

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতে এক অভাবনীয় বীরত্বের সাক্ষী হলো বিশ্ব। উত্তাল সমুদ্রে স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া মা ও দুই ভাই-বোনকে বাঁচাতে টানা কয়েক ঘণ্টা সাঁতরে কূলে ফিরে উদ্ধার অভিযান শুরু করিয়ে এক ‘অলৌকিক’ নজির গড়েছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর। উদ্ধারকারীরা তাকে ‘সুপারহিউম্যান’ বা অতিমানবীয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গত শুক্রবার পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার জিওগ্রাফ বে-তে প্যাডেলবোর্ডিং এবং কায়াকিং করতে নেমেছিল একটি পরিবার। কিন্তু হঠাৎ প্রবল বাতাসের ঝাপটায় তাদের ইনফ্ল্যাটেবল (বাতাসে ফোলানো) নৌকা ও বোর্ডগুলো মাঝসমুদ্রের দিকে ভেসে যেতে শুরু করে। কূলে ফেরার সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে একপর্যায়ে বিপদ বুঝতে পেরে পরিবারের বড় ছেলেটি সাহায্যের খোঁজে তীরে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়।

শুরুতে সে কায়াক নিয়ে তীরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলেও মাঝপথে সেটিতে পানি ঢুকে ডুবে যেতে শুরু করে। উপায়ান্তর না দেখে লাইফ জ্যাকেট পরেই সাঁতার শুরু করে ওই কিশোর। কিন্তু উত্তাল ঢেউয়ের বিপরীতে লাইফ জ্যাকেট পরে এগোতে বেগ পেতে হওয়ায় একপর্যায়ে সে জ্যাকেটটি খুলে ফেলে। প্রায় ৪ কিলোমিটার (২ নটিক্যাল মাইল) পথ দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা ধরে সাঁতরে অবশেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সে কুইন্ডালআপ সৈকতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

তীরে পৌঁছেই সে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলকে বিষয়টি জানায়। দ্রুত শুরু হয় বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান।

পুলিশ ও ভলান্টিয়ার মেরিন রেসকিউ গ্রুপের সদস্যরা হেলিকপ্টার এবং জলযান নিয়ে সমুদ্রে নামেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপকূল থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে একটি প্যাডেলবোর্ড আঁকড়ে ধরে থাকা অবস্থায় ৪৭ বছর বয়সী মা, ১২ বছর বয়সী ছেলে এবং ৮ বছরের মেয়েটিকে খুঁজে পায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার।

ন্যাচারালেস্ট ভলান্টিয়ার মেরিন রেসকিউ-এর কমান্ডার পল ব্রেসল্যান্ড বলেন, এই কিশোরের সাহস ও শারীরিক সক্ষমতা অবিশ্বাস্য। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া দুই ঘণ্টা সাঁতরে কূলে আসাটা এককথায় ‘সুপারহিউম্যান’ কাজ।

ইন্সপেক্টর জেমস ব্রাডলি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, সমুদ্রের পরিস্থিতি যে কত দ্রুত বদলে যেতে পারে এটি তার বড় উদাহরণ। তিনি বলেন, ওই কিশোরের দৃঢ় সংকল্প আর সাহসিকতা না থাকলে আজ আমরা হয়তো এক মর্মান্তিক পরিণতির কথা শুনতাম। তবে পরিবারের বাকিরা লাইফ জ্যাকেট পরে থাকায় দীর্ঘক্ষণ সমুদ্রে টিকে থাকতে পেরেছেন।

উদ্ধারের পর তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলেও বর্তমানে তারা সুস্থ আছেন। সুস্থ হয়েই পুরো পরিবার উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে দেখা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা সংসদে গেলে স্বর্ণের দেশে পরিণত হবে’: রেজাউল করিম

সমুদ্রে ভেসে যাওয়া মা, ভাই-বোনকে বাঁচাতে সাঁতরে ৪ কিমি পাড়ি দিল কিশোর

আপডেট সময় ১১:৩৫:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতে এক অভাবনীয় বীরত্বের সাক্ষী হলো বিশ্ব। উত্তাল সমুদ্রে স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া মা ও দুই ভাই-বোনকে বাঁচাতে টানা কয়েক ঘণ্টা সাঁতরে কূলে ফিরে উদ্ধার অভিযান শুরু করিয়ে এক ‘অলৌকিক’ নজির গড়েছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর। উদ্ধারকারীরা তাকে ‘সুপারহিউম্যান’ বা অতিমানবীয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গত শুক্রবার পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার জিওগ্রাফ বে-তে প্যাডেলবোর্ডিং এবং কায়াকিং করতে নেমেছিল একটি পরিবার। কিন্তু হঠাৎ প্রবল বাতাসের ঝাপটায় তাদের ইনফ্ল্যাটেবল (বাতাসে ফোলানো) নৌকা ও বোর্ডগুলো মাঝসমুদ্রের দিকে ভেসে যেতে শুরু করে। কূলে ফেরার সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে একপর্যায়ে বিপদ বুঝতে পেরে পরিবারের বড় ছেলেটি সাহায্যের খোঁজে তীরে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়।

শুরুতে সে কায়াক নিয়ে তীরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলেও মাঝপথে সেটিতে পানি ঢুকে ডুবে যেতে শুরু করে। উপায়ান্তর না দেখে লাইফ জ্যাকেট পরেই সাঁতার শুরু করে ওই কিশোর। কিন্তু উত্তাল ঢেউয়ের বিপরীতে লাইফ জ্যাকেট পরে এগোতে বেগ পেতে হওয়ায় একপর্যায়ে সে জ্যাকেটটি খুলে ফেলে। প্রায় ৪ কিলোমিটার (২ নটিক্যাল মাইল) পথ দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা ধরে সাঁতরে অবশেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সে কুইন্ডালআপ সৈকতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

তীরে পৌঁছেই সে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলকে বিষয়টি জানায়। দ্রুত শুরু হয় বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান।

পুলিশ ও ভলান্টিয়ার মেরিন রেসকিউ গ্রুপের সদস্যরা হেলিকপ্টার এবং জলযান নিয়ে সমুদ্রে নামেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপকূল থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে একটি প্যাডেলবোর্ড আঁকড়ে ধরে থাকা অবস্থায় ৪৭ বছর বয়সী মা, ১২ বছর বয়সী ছেলে এবং ৮ বছরের মেয়েটিকে খুঁজে পায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার।

ন্যাচারালেস্ট ভলান্টিয়ার মেরিন রেসকিউ-এর কমান্ডার পল ব্রেসল্যান্ড বলেন, এই কিশোরের সাহস ও শারীরিক সক্ষমতা অবিশ্বাস্য। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া দুই ঘণ্টা সাঁতরে কূলে আসাটা এককথায় ‘সুপারহিউম্যান’ কাজ।

ইন্সপেক্টর জেমস ব্রাডলি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, সমুদ্রের পরিস্থিতি যে কত দ্রুত বদলে যেতে পারে এটি তার বড় উদাহরণ। তিনি বলেন, ওই কিশোরের দৃঢ় সংকল্প আর সাহসিকতা না থাকলে আজ আমরা হয়তো এক মর্মান্তিক পরিণতির কথা শুনতাম। তবে পরিবারের বাকিরা লাইফ জ্যাকেট পরে থাকায় দীর্ঘক্ষণ সমুদ্রে টিকে থাকতে পেরেছেন।

উদ্ধারের পর তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলেও বর্তমানে তারা সুস্থ আছেন। সুস্থ হয়েই পুরো পরিবার উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে দেখা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।