আকাশ জাতীয় ডেস্ক :
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নিয়ে মিথ্যাচার কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যান মাহদী আমিন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা গতকালকে দেখেছি যে জামায়াতের আমির চট্টগ্রামে একটি সমাবেশে বলেছেন কর্নেল অলি আহমদ সবার আগে উই রিভোল্ট বলে চিৎকার করে উঠেছিলেন। দেখুন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস একটি মীমাংসিত বিষয়। সারা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ জানেন যেটি সত্য, যেটি সঠিক। ফ্যাসিবাদী বয়ানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা-এই দায়িত্ব কেন একটি রাজনৈতিক দল নিচ্ছে সেটি উনাদেরকে প্রশ্ন করলেই ভালো। আমরা সবাই জানি যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন। সবার আগে তিনি উই রিভোল্ট বলেছেন। সুতরাং ইতিহাসের যেটি অনিবার্য সত্য, সেটাকে সবার ধারণ করা উচিত।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘বিশেষভাবে যে রাজনৈতিক দল মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে ভিন্ন অবস্থানে ছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং যে দলের অনেকেই অনেক শহীদের রক্ত এবং আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই দলের যিনি নেতা তিনি যদি নিজেই ইতিহাস বিকৃতিতে কোনো বয়ান তৈরি করতে চান, দেশের মানুষ তাতে স্বাভাবিকভাবে স্তব্ধ । আমরা মর্মাহত এবং বিশ্বাস করি যা সত্য, যা সঠিক, যা ন্যায়সঙ্গত সেটি দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করতে হবে এবং সেটি হওয়া উচিত। তা বাংলাদেশের সবার প্রত্যাশা। সুতরাং ইতিহাসকে নিয়ে মিথ্যাচার কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
বিএনপিকে একটি দলের অনুসরণ ইতিবাচক:
আরেক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছেন। বিএনপি চেয়ারম্যানের যে ইতিবাচক চিন্তাধারা সেটি অন্যান্য রাজনৈতিক দলও গ্রহণ করছেন। আমরা দেখেছি তারেক রহমান যখন বাস দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছিলেন, একটা দল সমালোচনা করেছিল। পরে দেখলাম ওই দলের নেতাও কিন্তু পরবর্তীতে সেই বাসটি অনুকরণ করেছেন । আমাদের নেতা চেয়ার সরিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেছেন সাধারণ মানুষের মতো করে। উনাদের নেতাও করছেন। এই যে একটা অনুকরণ এটা তো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বিএনপির ৩১ দফা আগামী বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কারের একটা মৌলিক ভিত্তি। আমরা দেখলাম আমাদের প্রতিদ্বন্দী রাজনৈতিক দলও ঠিক ৩১ পয়েন্ট দিয়েছে, ৩০টা না ৩২ টাও না, ঠিক ৩১টা। স্বাস্থ্য খাতে আমাদের ৫% বলেছি যে জিডিপির হবে, উনারা বলছেন ৬ থেকে ৮%, এটাও বিএনপিকে অনুকরণ করে। বেকার ভাতার কথা বলেছে বিএনপি, অনেক আগে থেকে একটা ঘোষিত কর্মসূচি । উনারা প্রাথমিকভাবে সমালোচনা করেছিলেন। পরে দেখলাম উনাদের একজন নেতা বলছেন উনারাও বেকার ভাতা দিবেন।
মাহদী আমিন বলেন, বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের কথা বলেছে। আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যারা উনারা একটা স্মার্ট কার্ডের কথা বলছেন। বিএনপির ১৮০ দিনের কর্মসূচির কথা বলেছেন। উনারা দেখলাম ১০০০ দিনের কর্মসূচির কথা বলছেন। আমাদের ভিশন-২০৩০ আছে। তার আদলে উনারা সম্ভবত ভিশন-২০৪০ টির কথা বলছেন। আমাদের নেতাকে আগে বলা হতো দেশনায়ক তারেক রহমান, উনি আমাদেরকে মানা করেছেন, দেশনায়ক বলছি না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলাম উনাদের একজন নেতা আবদুল্লাহ আবু তাহের সাহেব বলছেন উনার নাকি উনাদের আমিরকে দেশনেতা ডাকতে ইচ্ছা হয়। এবং দেশনেতা বলে ডাকলেন আমাদের দেশনেত্রীর সাথে তাল মিলিয়ে। অদ্ভুত ধরনের একটা অনুকরণ, যেটাকে আমরা মনে করি রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ভালো।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র আরও বলেন, বিএনপি সবসময় ইতিবাচক রাজনীতি করেছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল সেটাকে অনুসরণ করছে। এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সে রাজনীতি তো আমরা চাই আগামী বাংলাদেশে। আমরা দেখেছি যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অনেকভাবে সমালোচনা করছেন, গত দুই দশকের বেশি সময় তো উনারাও ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন। সুতরাং আগামীর বাংলাদেশ হোক সৌন্দর্যপূর্ন। আগামীর বাংলাদেশে যার যা ইতিবাচক আমরা সেটিকে অনুসরণ করি। অন্য রাজনৈতিক দলকে যদি প্রয়োজন হয় অনুকরণ করে সমৃদ্ধি হওয়ার, তবে সেটাই হোক। আমরা চাই প্রতিটি রাজনৈতিক দল যেন পরস্পরের সঙ্গে সেই সৌন্দর্যটুকু বজায় রাখে। যার যা কিছু ভালো, আরেকটি রাজনৈতিক দল সেটা গ্রহণ করতেই পারে। অন্য রাজনৈতিক দলের ভালো কিছু আমরাও সেটা গ্রহণ করার চেষ্টা করব।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















