ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া স্থাপনে বাধা দিচ্ছেন মমতা :নরেন্দ্র মোদি

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

সিঙ্গুরে আয়োজিত এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন।

তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণে বাধা দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের অবাধে ঢোকার সুযোগ করে দিচ্ছে, যাতে তাদের স্থায়ী ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। মোদি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি ও তার ওপর ব্যক্তিগত ক্ষোভ মেটাতে গিয়ে রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছেন না। যার ফলে সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সিঙ্গুরের এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ভূমি থেকে মোদি ঘোষণা করেন যে, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘এক জেলা এক পণ্য’ নীতি চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি জেলার নিজস্ব বিশেষ পণ্যগুলোকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মৎস্যজীবী যোজনার মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো রাজ্যে আটকে রাখা হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রীকে বারবার চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মোদীর মতে, তৃণমূল সরকারের এই উদাসীনতা পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের ভবিষ্যতের সঙ্গে খেলা করার শামিল।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ‘মাফিয়া-রাজ’ ও ‘সিন্ডিকেট ট্যাক্স’ চলছে বলে অভিযোগ তুলে বলেন, এমন পরিবেশে কোনো নতুন বিনিয়োগ আসা অসম্ভব। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সিন্ডিকেট সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে নারী সুরক্ষা এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ‘গ্যারান্টি’ দেন তিনি।

মূলত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই মোদি সিঙ্গুর থেকে সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া স্থাপনে বাধা দিচ্ছেন মমতা :নরেন্দ্র মোদি

আপডেট সময় ০৪:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

সিঙ্গুরে আয়োজিত এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন।

তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণে বাধা দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের অবাধে ঢোকার সুযোগ করে দিচ্ছে, যাতে তাদের স্থায়ী ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। মোদি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি ও তার ওপর ব্যক্তিগত ক্ষোভ মেটাতে গিয়ে রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছেন না। যার ফলে সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সিঙ্গুরের এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ভূমি থেকে মোদি ঘোষণা করেন যে, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘এক জেলা এক পণ্য’ নীতি চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি জেলার নিজস্ব বিশেষ পণ্যগুলোকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মৎস্যজীবী যোজনার মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো রাজ্যে আটকে রাখা হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রীকে বারবার চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মোদীর মতে, তৃণমূল সরকারের এই উদাসীনতা পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের ভবিষ্যতের সঙ্গে খেলা করার শামিল।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ‘মাফিয়া-রাজ’ ও ‘সিন্ডিকেট ট্যাক্স’ চলছে বলে অভিযোগ তুলে বলেন, এমন পরিবেশে কোনো নতুন বিনিয়োগ আসা অসম্ভব। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সিন্ডিকেট সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে নারী সুরক্ষা এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ‘গ্যারান্টি’ দেন তিনি।

মূলত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই মোদি সিঙ্গুর থেকে সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানান।