ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের ভিসা পাননি আইসিসি প্রতিনিধি দলের ভারতীয় কর্মকর্তা সায়েন্সল্যাবে ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ স্থাপন করে গণজমায়েতের ঘোষণা দেশে হিসাব কারচুপির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার হয়েছে :পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গুমের শিকার পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন আ.লীগ নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গণঅধিকারকে বেছে নেবে: নুর হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ অচেতন অবস্থায় রংপুরে উদ্ধার গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া সরকারের উচিত নয়: আমির খসরু আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ নেই: শফিকুল আলম

দাবানলে পুড়ছে ভারতের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের উত্তরাখণ্ডে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ দাবানল। নন্দা দেবী জাতীয় উদ্যানের অংশ বিশ্বখ্যাত ‘ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স’-এর কাছাকাছি এলাকাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ায় তৈরি হয়েছে জরুরি পরিস্থিতি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থল অভিযানের পাশাপাশি আকাশপথে অগ্নিনির্বাপণে সহায়তা করছে ভারতীয় বিমানবাহিনী।

আগুনের সূত্রপাত হয় জানুয়ারির শুরুতে। এরপর কয়েক দিন ধরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আগুন জ্বলতে থাকে। এতে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল পুড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বন বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নিলেও খাড়া পাহাড়, ঘন জঙ্গল ও দুর্গম পথ আগুন নেভানোর কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বন কর্মকর্তারা ও আবহাওয়াবিদরা বলছেন, স্বাভাবিকের তুলনায় শুষ্ক আবহাওয়াই এবারের অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ।

বিশেষ করে উঁচু পাহাড়ি বনাঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত প্রায় না হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। চলতি বছরে উত্তরাখণ্ডে প্রায় কোনো তুষারপাত হয়নি, বৃষ্টিপাতও ছিল খুবই কম। ফলে বনভূমির ঘাস, শুকনো পাতা ও ঝোপঝাড় অত্যন্ত দাহ্য হয়ে উঠেছে।

ভারতের ফরেস্ট সার্ভে অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত উত্তরাখণ্ডে ১ হাজার ৬০০টির বেশি শীতকালীন দাবানল সতর্কতা জারি করা হয়েছে—যা এ মৌসুমে ভারতের যেকোনো রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। সাধারণত শীতকালে তুষারপাত বনভূমিকে আর্দ্র রাখে এবং আগুনের ঝুঁকি কমায়। কিন্তু তুষার না থাকায় শুকনো ঘাস ও পাতার স্তূপে সামান্য স্ফুলিঙ্গও বড় আগুনে পরিণত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন ছড়িয়ে পড়া এলাকাগুলোর অনেকটাই দুর্গম হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আকাশপথে পানি ও অগ্নিনির্বাপণ উপকরণ ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে দাবানলের মৌসুম দীর্ঘ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, আগুন প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি, স্থানীয় মানুষের সম্পৃক্ততা ও বন রক্ষণাবেক্ষণে জোর না দিলে আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে পরিস্থিতি। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের ভিসা পাননি আইসিসি প্রতিনিধি দলের ভারতীয় কর্মকর্তা

দাবানলে পুড়ছে ভারতের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল

আপডেট সময় ০৫:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের উত্তরাখণ্ডে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ দাবানল। নন্দা দেবী জাতীয় উদ্যানের অংশ বিশ্বখ্যাত ‘ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স’-এর কাছাকাছি এলাকাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ায় তৈরি হয়েছে জরুরি পরিস্থিতি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থল অভিযানের পাশাপাশি আকাশপথে অগ্নিনির্বাপণে সহায়তা করছে ভারতীয় বিমানবাহিনী।

আগুনের সূত্রপাত হয় জানুয়ারির শুরুতে। এরপর কয়েক দিন ধরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আগুন জ্বলতে থাকে। এতে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল পুড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বন বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নিলেও খাড়া পাহাড়, ঘন জঙ্গল ও দুর্গম পথ আগুন নেভানোর কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বন কর্মকর্তারা ও আবহাওয়াবিদরা বলছেন, স্বাভাবিকের তুলনায় শুষ্ক আবহাওয়াই এবারের অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ।

বিশেষ করে উঁচু পাহাড়ি বনাঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত প্রায় না হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। চলতি বছরে উত্তরাখণ্ডে প্রায় কোনো তুষারপাত হয়নি, বৃষ্টিপাতও ছিল খুবই কম। ফলে বনভূমির ঘাস, শুকনো পাতা ও ঝোপঝাড় অত্যন্ত দাহ্য হয়ে উঠেছে।

ভারতের ফরেস্ট সার্ভে অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত উত্তরাখণ্ডে ১ হাজার ৬০০টির বেশি শীতকালীন দাবানল সতর্কতা জারি করা হয়েছে—যা এ মৌসুমে ভারতের যেকোনো রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। সাধারণত শীতকালে তুষারপাত বনভূমিকে আর্দ্র রাখে এবং আগুনের ঝুঁকি কমায়। কিন্তু তুষার না থাকায় শুকনো ঘাস ও পাতার স্তূপে সামান্য স্ফুলিঙ্গও বড় আগুনে পরিণত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন ছড়িয়ে পড়া এলাকাগুলোর অনেকটাই দুর্গম হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আকাশপথে পানি ও অগ্নিনির্বাপণ উপকরণ ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে দাবানলের মৌসুম দীর্ঘ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, আগুন প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি, স্থানীয় মানুষের সম্পৃক্ততা ও বন রক্ষণাবেক্ষণে জোর না দিলে আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে পরিস্থিতি। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে