ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ব্যাঘাত, প্রেমিককে নিয়ে ছয় মাসের শিশু সন্তানকে হত্যা করেন মা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে শারীরিক সর্ম্পকে ব্যাঘাত ঘটানোয় নিজের শিশু সন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ঘাতক মা ফাতেমা বেগম ও তার প্রেমিক মো. জাফরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে, ৬ ডিসেম্বর দিয়াবাড়ি মেট্রোরেলের ১২৪ নম্বর পিলার সংলগ্ন লেকে কাপড়ে মোড়ানো একটি ব্যাগ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন রাতে কন্যাশিশুকে হত্যার পর মরদেহ সেখানে ফেলা রাখা হয়েছিল।

আজ শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান পল্লবী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওসি বলেন, করে গত ৬ ডিসেম্বর দুপুর ৩টা ১০ মিনিটের দিকে রাজধানীর দিয়াবাড়ির মেট্রোরেলের ১২৪ নম্বর পিলার সংলগ্ন লেকপাড় থেকে একটি ব্যাগের মধ্যে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় পুলিশ দেখতে পায় শিশুটির গলায় আঘাতের দাগ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্তের একপর্যায়ে মৃত শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পুলিশ নিশ্চিত হয় শিশুটির নাম আমেনা ও তার বয়স ৬ মাস। পরিচয় শনাক্তের পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে পল্লবী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মৃত শিশুটির মা মোসা. ফাতেমা বেগমকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়।

পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম আরও বলেন, পরবর্তীতে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন, নিবিড় তদন্ত ও ফাতেমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, মো. জাফর নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে শিশুটির মা ফাতেমা বেগমের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে শিশু হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। ওই রাতেই জাফরকে গ্রেফতার করে পল্লবী থানা পুলিশ। গ্রেফতার দুজনেই বিবাহিত এবং পল্লবী এলাকায় বসবাস করেন। জাফর একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। শিশুটির মা ফাতেমা আগে ওই গার্মেন্টসে কাজ করার সুবাদে জাফরের সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে।

ওসি জানান, গ্রেফতার ফাতেমার স্বামী গ্রিলের মেকানিক হিসেবে কাজ করেন। স্বামী কাজের সূত্রে বাসার বাইরে থাকার সুযোগে ফাতেমা দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত ছিল। তাদের মাঝে নিয়মিত শারীরিক সর্ম্পক হতো। গত ৫ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে জাফর ফাতেমার বাসায় শারীরিক সর্ম্পকের জন্য আসে।

এ সময় শিশুটির কান্নাকাটির কারণে তাদের শারীরিক সর্ম্পকে ব্যাঘাত ঘটে। এজন্য শিশুটিকে প্রথমে স্যুপের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে বালিশ চাপা দিয়ে ও গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, পরবর্তীতে বিছানার চাদর দিয়ে শিশুটির লাশ মুড়িয়ে কাপড়ের একটি শপিং ব্যাগে ঢুকানো হয়। এরপর জাফর শপিং ব্যাগে করে লাশটি নিয়ে মেট্রোরেলের একটি পিলারের কাছে ফেলে আসে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ব্যাঘাত, প্রেমিককে নিয়ে ছয় মাসের শিশু সন্তানকে হত্যা করেন মা!

আপডেট সময় ০৫:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৫

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে শারীরিক সর্ম্পকে ব্যাঘাত ঘটানোয় নিজের শিশু সন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ঘাতক মা ফাতেমা বেগম ও তার প্রেমিক মো. জাফরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে, ৬ ডিসেম্বর দিয়াবাড়ি মেট্রোরেলের ১২৪ নম্বর পিলার সংলগ্ন লেকে কাপড়ে মোড়ানো একটি ব্যাগ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন রাতে কন্যাশিশুকে হত্যার পর মরদেহ সেখানে ফেলা রাখা হয়েছিল।

আজ শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান পল্লবী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওসি বলেন, করে গত ৬ ডিসেম্বর দুপুর ৩টা ১০ মিনিটের দিকে রাজধানীর দিয়াবাড়ির মেট্রোরেলের ১২৪ নম্বর পিলার সংলগ্ন লেকপাড় থেকে একটি ব্যাগের মধ্যে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় পুলিশ দেখতে পায় শিশুটির গলায় আঘাতের দাগ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্তের একপর্যায়ে মৃত শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পুলিশ নিশ্চিত হয় শিশুটির নাম আমেনা ও তার বয়স ৬ মাস। পরিচয় শনাক্তের পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে পল্লবী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মৃত শিশুটির মা মোসা. ফাতেমা বেগমকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়।

পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম আরও বলেন, পরবর্তীতে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন, নিবিড় তদন্ত ও ফাতেমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, মো. জাফর নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে শিশুটির মা ফাতেমা বেগমের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে শিশু হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। ওই রাতেই জাফরকে গ্রেফতার করে পল্লবী থানা পুলিশ। গ্রেফতার দুজনেই বিবাহিত এবং পল্লবী এলাকায় বসবাস করেন। জাফর একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। শিশুটির মা ফাতেমা আগে ওই গার্মেন্টসে কাজ করার সুবাদে জাফরের সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে।

ওসি জানান, গ্রেফতার ফাতেমার স্বামী গ্রিলের মেকানিক হিসেবে কাজ করেন। স্বামী কাজের সূত্রে বাসার বাইরে থাকার সুযোগে ফাতেমা দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত ছিল। তাদের মাঝে নিয়মিত শারীরিক সর্ম্পক হতো। গত ৫ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে জাফর ফাতেমার বাসায় শারীরিক সর্ম্পকের জন্য আসে।

এ সময় শিশুটির কান্নাকাটির কারণে তাদের শারীরিক সর্ম্পকে ব্যাঘাত ঘটে। এজন্য শিশুটিকে প্রথমে স্যুপের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে বালিশ চাপা দিয়ে ও গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, পরবর্তীতে বিছানার চাদর দিয়ে শিশুটির লাশ মুড়িয়ে কাপড়ের একটি শপিং ব্যাগে ঢুকানো হয়। এরপর জাফর শপিং ব্যাগে করে লাশটি নিয়ে মেট্রোরেলের একটি পিলারের কাছে ফেলে আসে।