ঢাকা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

৭০ টাকার জন্য রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে কিশোরকে মারধর করে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

কুমিল্লার মুরাদনগরে মাত্র ৭০ টাকার জন্য সাইদুল ইসলাম (১৪) নামে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হাওলাত নেওয়া টাকা পরিশোধ করতে না পারায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে তাকে হত্যা করে তারই প্রতিবেশী লিমন (১৯)।

নিহত সাইদুল উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘোড়াশাল গ্রামের সাদেক মিয়ার ছেলে। ঘাতক লিমন একই এলাকার আব্দুল করিম মিয়ার ছেলে।

সোমবার নিহতের অভিভাবক হিসেবে (নানা) আ. মালেক বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন পূর্বে নিহত সাইদুল ইসলাম পাশের বাড়ির লিমনের কাছ থেকে ৭০ টাকা হাওলাত নেয়। সাইদুল ইসলাম খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। যথাসময়ে হাওলাত টাকা পরিশোধ করতে না পারায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ির সামনে সড়ক থেকে সাইদুলকে ঘাতক লিমন ধরে বাড়ির ভিতর নিয়ে যায়। এ সময় ঘাতক ও তার আত্মীয়স্বজনরা সাইদুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি মাথায় পিটিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখন করে।

পরে বাড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় সাইদুল ইসলামকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায়,সেখান থেকে আত্মীয়-স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান; অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার সাইদুল ইসলাম মারা যায়।

নিহতের নানা আ. মালেক অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, আমার মেয়ের ঘরের নাতি সাইদুল। সে জন্মের ৩ দিনের মাথায় তার মা মারা যায়। তাকে আমরাই এ পর্যন্ত লালন পালন করে বড় করেছি। তার বাবা দিনমজুর। দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার নিয়ে খুব কষ্টে চলে।

সাইদুল ইসলাম মুরাদনগর কনিকা টেইলার্সে কাজ করত। ৩১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে টেইলার্সের দোকান থেকে ঘোড়াশাল নিজ বাড়িতে যায়। বাড়ি থেকে আসার সময় রাস্তার ওপর থেকে তাকে ৭০ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য টেনে হিঁচড়ে তুলে নেয় লিমন। এ সময় পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল লিমনের দুই জেঠা। তাদের সামনেই আমার নাতিকে পিটিয়ে মাথা থেঁতলে রাস্তায় ফেলে রাখেন। খবর পেয়ে আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইদুল মারা যায়। আমি এই খুনিদের উপর্যুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

মুরাদনগর থানার ওসি মো. মাহবুবুল হক বলেন, নিহতের নানা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

৭০ টাকার জন্য রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে কিশোরকে মারধর করে হত্যা

আপডেট সময় ১১:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ নভেম্বর ২০২৪

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

কুমিল্লার মুরাদনগরে মাত্র ৭০ টাকার জন্য সাইদুল ইসলাম (১৪) নামে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হাওলাত নেওয়া টাকা পরিশোধ করতে না পারায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে তাকে হত্যা করে তারই প্রতিবেশী লিমন (১৯)।

নিহত সাইদুল উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘোড়াশাল গ্রামের সাদেক মিয়ার ছেলে। ঘাতক লিমন একই এলাকার আব্দুল করিম মিয়ার ছেলে।

সোমবার নিহতের অভিভাবক হিসেবে (নানা) আ. মালেক বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন পূর্বে নিহত সাইদুল ইসলাম পাশের বাড়ির লিমনের কাছ থেকে ৭০ টাকা হাওলাত নেয়। সাইদুল ইসলাম খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। যথাসময়ে হাওলাত টাকা পরিশোধ করতে না পারায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ির সামনে সড়ক থেকে সাইদুলকে ঘাতক লিমন ধরে বাড়ির ভিতর নিয়ে যায়। এ সময় ঘাতক ও তার আত্মীয়স্বজনরা সাইদুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি মাথায় পিটিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখন করে।

পরে বাড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় সাইদুল ইসলামকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায়,সেখান থেকে আত্মীয়-স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান; অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার সাইদুল ইসলাম মারা যায়।

নিহতের নানা আ. মালেক অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, আমার মেয়ের ঘরের নাতি সাইদুল। সে জন্মের ৩ দিনের মাথায় তার মা মারা যায়। তাকে আমরাই এ পর্যন্ত লালন পালন করে বড় করেছি। তার বাবা দিনমজুর। দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার নিয়ে খুব কষ্টে চলে।

সাইদুল ইসলাম মুরাদনগর কনিকা টেইলার্সে কাজ করত। ৩১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে টেইলার্সের দোকান থেকে ঘোড়াশাল নিজ বাড়িতে যায়। বাড়ি থেকে আসার সময় রাস্তার ওপর থেকে তাকে ৭০ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য টেনে হিঁচড়ে তুলে নেয় লিমন। এ সময় পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল লিমনের দুই জেঠা। তাদের সামনেই আমার নাতিকে পিটিয়ে মাথা থেঁতলে রাস্তায় ফেলে রাখেন। খবর পেয়ে আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইদুল মারা যায়। আমি এই খুনিদের উপর্যুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

মুরাদনগর থানার ওসি মো. মাহবুবুল হক বলেন, নিহতের নানা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।