আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
কুমিল্লার দেবিদ্বারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানারে হওয়া একটি ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সৌদি আরব ও কাতারে অবস্থানরত তিন প্রবাসীকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট তিনজন বিদেশে ছিলেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে যাচাই করা হয়নি; তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে।
রোববার দেবিদ্বার থানার এসআই অপু বড়ুয়া বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন। মামলায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত শনিবার সকালে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ইউসুফপুর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল বের করে সরকারবিরোধী স্লোগান দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা চলে যান। পরে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ২৩ জনকে শনাক্ত করা হয়।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মিছিলে ১০-১২ জনের বেশি দেখা যায় না। এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি মামলার তিন আসামির বিদেশে অবস্থান করার তথ্যও সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার ৬ নম্বর আসামি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন রুবেল দীর্ঘদিন ধরে কাতারে অবস্থান করছেন। ৭ নম্বর আসামি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম এবং ৯ নম্বর আসামি পৌর ছাত্রলীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক শাওন রয়েছেন সৌদি আরবে।
সাইদুল ইসলামের ছোট ভাই মিজানুর রহমান জানান, তাঁর ভাই গত বছরের ৩১ মে সৌদি আরবে যান। দেশে না থেকেও মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মামলার আসামি হওয়ার বিষয়টি তাদের বিস্মিত করেছে।
কাতার থেকে ফেসবুক লাইভে এসে ইকবাল হোসেন রুবেল দাবি করেন, যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাঁকে এবং আরও দুই প্রবাসীকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ যে ভিডিওর ভিত্তিতে আসামি শনাক্তের কথা বলছে, সেখানে তাঁরা কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
অন্যদিকে, শাওনের মা ফেরদৌসি আক্তার বলেন, তাঁর ছেলে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি সৌদি আরবে গেছেন। বিদেশে অবস্থানরত ছেলেকে মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আসামি করায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আবু তাহের মামলার ৮ নম্বর আসামি এবং সুবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তাঁর পরিবারের দাবি, ভিডিওতে তাঁকে দেখা না গেলেও পরে তাঁকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত মামলা করতে হয়েছে। তাই আসামিদের কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















