ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে হবে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

রাজধানীর ফকিরাপুলের ২৯১ নম্বর বাসা থেকে ২০১৫ সালের ১৭ মার্চ সকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে মাজহারুল ইসলাম রুবেল নামের এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। রুবেলের বৃদ্ধ মা রহিমা বেগম আজও সন্তানের পথ চেয়ে বসে আছেন। দীর্ঘ ৯ বছর তিনি থানা-পুলিশ হাসপাতাল, আদালতে ঘুরেও ছেলের খোঁজ পাননি।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সারাদেশ থেকে গুম হওয়া ৫০ জনের বেশি মানুষের স্বজনরা প্রিয়জনের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্বজনরা গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধানে বর্তমান সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় স্বজনহারা সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিখোঁজদের ফেরত দেওয়া, সব ‘আয়না ঘর’ বন্ধসহ ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রুবেলের মা রহিমা বেগম ছেলের ছবি বুকে নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ৭-৮ জন মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে রুবেলকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। শান্ত স্বভাবের রুবেল কী অপরাধ করেছে সে বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাই। কিন্তু সন্তোষজনক কোনো জবাব কিংবা ওয়ারেন্ট না দেখিয়েই তড়িঘড়ি করে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এরপর থেকে শুরু হয় পরিবারের সদস্যদের দৌড়ঝাঁপ। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আজ পর্যন্ত আর সন্ধান মেলেনি রুবেলের। তবে সবাই হাল ছেড়ে দিলেও এখনও হাল ছাড়েননি মা রহিমা। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে প্রিয় সন্তানের সন্ধানে ঘুরছেন থানা, কারাগার, কোর্ট, ডিবি অফিস, র‌্যাব-১, র‌্যাব-৩, র‌্যাব সদর দপ্তরে। তবুও আশাবাদী রহিমা। হয়তো প্রিয় ছেলেকে ফিরে পাবেন এমন আশায় রুবেলের ছবি বুকে জড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান।

রহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার আর কোনো ইচ্ছা নাই। আর কিছু বলার নাই। মরার আগে জানতে চাই গুমের শিকার ছেলেটা জীবিত আছে নাকি মেরে ফেলেছে। আজও আমি তার পথ চেয়ে বসে আছি। আমরা গাড়ির নম্বর রেখে দিয়েছি। আমি কি আমার সন্তানের মুখ আর দেখতে পারব না? আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাই দ্রুত তাদেরকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন। রুবেলের দুটি সন্তান ছিল। একটি সন্তান মারা গেছে। আরেকটি সন্তানও সারা দিন বাবার জন্য কান্নাকাটি করে। আমরা এখন গ্রামের বাড়ি (কুমিল্লা) চলে গেছি। আমি একজন অসুস্থ মানুষ। তারপরও ওখান থেকে ছুটে চলে আসি। আপনারা সবাই দোয়া করবেন। যাদের সন্তান গুম হয়েছে তাদের মুখে যেন মৃত্যুর আগে অন্তত হাসি ফোটে।

সংবাদ সম্মেলনে গুমের শিকার বাবার সন্ধানে আসা মেয়ে সুরাইয়া আক্তার বলেন, আমার বাবার নাম মো. মোস্তফা। তিনি দোকানদার ছিলেন। মিরপুরের ভাষানটেক এলাকা থেকে ২০২০ সালের ৬ জুন তাকে তুলে নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে হায়েস গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়েছে। পরে আমরা জিডি এবং মামলা করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো লাভ হয়নি। আমার মা কাঁদতে কাঁদতে দিশেহারা। আমি আমার বাবার সন্ধান চাই।

বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে এমন অভিযোগে কুড়িল থেকে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ গুমের শিকার হন মো. সুজন। এরপর থেকে তার স্ত্রী দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন স্বামীর সন্ধানে। নাজমা আক্তার বলেন, আমার একটা সন্তান নিয়ে আমি খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছি। ২০১৯ সালে সাদা পোশাকে আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। তখন স্বামীর সন্ধান চেয়ে থানায় জিডি ও মামলা করতে চেয়েছিলাম। সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কিছুই করতে দেওয়া হয়নি। আমার ছোট্ট ছেলেটি এখন বড় হয়েছে। সারাক্ষণ বাবার জন্য কান্নাকাটি করে। আমি কোথায় যাব, কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।

রাস্তায় চোখের সামনে স্বামীকে গুম হতে দেখে এমন আরেক ভোক্তভোগী বলেন, আমি চট্টগ্রাম থেকে এসেছি। আমার স্বামীর নাম কামরুল ইসলাম। ২০১৬ সালের ২২ জুন চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ডিবি পরিচয়ে তাকে ধরা হয়েছিল। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত তার সন্ধান পাইনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে হবে

আপডেট সময় ১১:৩২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

রাজধানীর ফকিরাপুলের ২৯১ নম্বর বাসা থেকে ২০১৫ সালের ১৭ মার্চ সকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে মাজহারুল ইসলাম রুবেল নামের এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। রুবেলের বৃদ্ধ মা রহিমা বেগম আজও সন্তানের পথ চেয়ে বসে আছেন। দীর্ঘ ৯ বছর তিনি থানা-পুলিশ হাসপাতাল, আদালতে ঘুরেও ছেলের খোঁজ পাননি।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সারাদেশ থেকে গুম হওয়া ৫০ জনের বেশি মানুষের স্বজনরা প্রিয়জনের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্বজনরা গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধানে বর্তমান সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় স্বজনহারা সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিখোঁজদের ফেরত দেওয়া, সব ‘আয়না ঘর’ বন্ধসহ ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রুবেলের মা রহিমা বেগম ছেলের ছবি বুকে নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ৭-৮ জন মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে রুবেলকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। শান্ত স্বভাবের রুবেল কী অপরাধ করেছে সে বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাই। কিন্তু সন্তোষজনক কোনো জবাব কিংবা ওয়ারেন্ট না দেখিয়েই তড়িঘড়ি করে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এরপর থেকে শুরু হয় পরিবারের সদস্যদের দৌড়ঝাঁপ। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আজ পর্যন্ত আর সন্ধান মেলেনি রুবেলের। তবে সবাই হাল ছেড়ে দিলেও এখনও হাল ছাড়েননি মা রহিমা। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে প্রিয় সন্তানের সন্ধানে ঘুরছেন থানা, কারাগার, কোর্ট, ডিবি অফিস, র‌্যাব-১, র‌্যাব-৩, র‌্যাব সদর দপ্তরে। তবুও আশাবাদী রহিমা। হয়তো প্রিয় ছেলেকে ফিরে পাবেন এমন আশায় রুবেলের ছবি বুকে জড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান।

রহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার আর কোনো ইচ্ছা নাই। আর কিছু বলার নাই। মরার আগে জানতে চাই গুমের শিকার ছেলেটা জীবিত আছে নাকি মেরে ফেলেছে। আজও আমি তার পথ চেয়ে বসে আছি। আমরা গাড়ির নম্বর রেখে দিয়েছি। আমি কি আমার সন্তানের মুখ আর দেখতে পারব না? আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাই দ্রুত তাদেরকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন। রুবেলের দুটি সন্তান ছিল। একটি সন্তান মারা গেছে। আরেকটি সন্তানও সারা দিন বাবার জন্য কান্নাকাটি করে। আমরা এখন গ্রামের বাড়ি (কুমিল্লা) চলে গেছি। আমি একজন অসুস্থ মানুষ। তারপরও ওখান থেকে ছুটে চলে আসি। আপনারা সবাই দোয়া করবেন। যাদের সন্তান গুম হয়েছে তাদের মুখে যেন মৃত্যুর আগে অন্তত হাসি ফোটে।

সংবাদ সম্মেলনে গুমের শিকার বাবার সন্ধানে আসা মেয়ে সুরাইয়া আক্তার বলেন, আমার বাবার নাম মো. মোস্তফা। তিনি দোকানদার ছিলেন। মিরপুরের ভাষানটেক এলাকা থেকে ২০২০ সালের ৬ জুন তাকে তুলে নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে হায়েস গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়েছে। পরে আমরা জিডি এবং মামলা করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো লাভ হয়নি। আমার মা কাঁদতে কাঁদতে দিশেহারা। আমি আমার বাবার সন্ধান চাই।

বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে এমন অভিযোগে কুড়িল থেকে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ গুমের শিকার হন মো. সুজন। এরপর থেকে তার স্ত্রী দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন স্বামীর সন্ধানে। নাজমা আক্তার বলেন, আমার একটা সন্তান নিয়ে আমি খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছি। ২০১৯ সালে সাদা পোশাকে আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। তখন স্বামীর সন্ধান চেয়ে থানায় জিডি ও মামলা করতে চেয়েছিলাম। সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কিছুই করতে দেওয়া হয়নি। আমার ছোট্ট ছেলেটি এখন বড় হয়েছে। সারাক্ষণ বাবার জন্য কান্নাকাটি করে। আমি কোথায় যাব, কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।

রাস্তায় চোখের সামনে স্বামীকে গুম হতে দেখে এমন আরেক ভোক্তভোগী বলেন, আমি চট্টগ্রাম থেকে এসেছি। আমার স্বামীর নাম কামরুল ইসলাম। ২০১৬ সালের ২২ জুন চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ডিবি পরিচয়ে তাকে ধরা হয়েছিল। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত তার সন্ধান পাইনি।